২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করুন ॥ প্রধানমন্ত্রী

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করুন ॥ প্রধানমন্ত্রী
  • ভাটিয়ারিতে সেনাবাহিনীর নতুন ক্যাডেটদের কমিশন প্রদান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশ সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনে সব সময় সজাগ থেকে নিজেদের দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। সেনাবাহিনীর প্রধান ও অগ্রগণ্য ব্রত হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

তিনি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে ৭৩তম বিএমএ লং কোর্স ও ৪৩তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ক্যাডেটদের কমিশন প্রদান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির কুচকাওয়াজে ভাষণদান কালে এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী নতুন ক্যাডেটদের বলেন,

আপনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃহৎ কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। আপনাদের ওপর ন্যস্ত হতে যাচ্ছে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে আপনাদের জীবনের একমাত্র ব্রত।

নতুন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও পেশাগত সততা অক্ষুণœ রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় ব্রতী হতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান। খবর বাসস’র।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির জন্য এক গর্ব ও অহংকারের প্রতিষ্ঠান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে সেনাবাহিনী আজ দেশে-বিদেশে সুনাম ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক ও নতুন কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাটেডদের অভিভাবকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মাদ শফিউল হক, বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম শফিকুর রহমান তাকে স্বাগত জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সুসজ্জিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও দৃষ্টিনন্দন মার্চ পাস্টের অভিনন্দন গ্রহণ করেন। একাডেমিতে কৃতিত্বের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ ক্যাডেটদের পদক প্রদান করেন।

চলতি বছর শ্রীলঙ্কার ১ জন ও নেপালের ১ জনসহ মোট ১৯৪ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলাসহ ১৮৯ জন ক্যাডেট ৭৩তম বিএমএ লং কোর্স এবং ৫ জন হচ্ছেন বিএমএ স্পেশাল কোর্সের।

ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার মোঃ আহসান উল্লাহ সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সোর্ড অব অনার এবং কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মোঃ রুহানী রাব্বি হামজা সামরিক বিষয়ে পারদর্শিতার জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন।

ক্যাডেটবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ও আধুনিকায়নে এ উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ৭ বছরে আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি গতিশীল, চৌকস এবং যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতার প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে আমরা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের বুকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিশীল দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের দেশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ‘আমাদের সেনাবাহিনী দেশে ও বিদেশে অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বীয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’