২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

চুক্তিতে বাংলাদেশের দুটি মূল ইস্যু অন্তর্ভুক্ত

২০ বছর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিতে সম্মত হয়েছে

সব দেশ নয়, ৫০-৬০ দেশের অনুমোদন প্রয়োজন হবে

বাস্তবায়ন শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে

কাওসার রহমান, প্যারিস থেকে ॥ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের দুটি মূল ইস্যু জলবায়ু উদ্বাস্তু ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয় ও ক্ষতি (লস এ্যান্ড ডেমেজ) যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু শব্দগত মারপ্যাঁচ রয়েছে। এ চুক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট হলোÑ এটি বাস্তবায়নের জন্য সব দেশের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। ৫০ থেকে ৬০টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করলেই তা বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে। অবশ্য ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এ চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হবে। আর প্যারিসে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর চুক্তি স্বাক্ষর হবে ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল নিউইয়র্কে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য পরিবেশ সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই খসড়া চুক্তি এসেছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর বাধ্যবাধকতার জন্য আমরা কিছু শব্দ পরিবর্তনের চেষ্টা করব। পাশাপাশি কিছু সংশোধনী আনার মাধ্যমে আমরা এই খসড়াটি কনফারেন্স অব দ্য পার্টির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য ফাইট করব।’

তিন দফা সময় পরিবর্তন করে বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস কমিটি প্যারিস চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। যাকে ‘প্যারিস আউটকাম’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এ খসড়া চুক্তি প্রকাশের খবর। সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া রুমগুলোর প্রিন্টারগুলোতে সাড়া পড়ে যায় চুক্তিটির প্রিন্টেড কপি সংগ্রহের জন্য। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও চুক্তির খসড়া কপি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ স্টলে বসে পড়েন চুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য।

২৮ পৃষ্ঠা চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি ১.৫ ডিগ্রী বা ১.৫ ডিগ্রীর নিচে রাখার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চুক্তিতে। চুক্তিতে সরাসরি আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়ে কিছু বলা না হলেও, আইনী বাধ্যবাধকতার আলোকেই চুক্তিটি করা হয়েছে। কোন সদস্য দেশ চুক্তিতে না থাকতে চাইলে তার প্রস্থানেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে চুক্তিতে। কোন দেশ চুক্তিতে যোগ দেয়ার তিন বছর পর চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নোটিস দিতে পারবে। এক বছর পর ওই দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ চুক্তিতে প্রবেশের পর অন্তত চার বছর ওই দেশকে চুক্তিতে থাকতে হবে এবং জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলার কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে আনার জন্য কিছু শব্দগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবেব আইনগত বাধ্যবাধকতার কথা বলা না হলেও পরোক্ষভাবে তা এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে নেগোসিয়েশনের জন্য এটি একটি গ্রহণযোগ্য খসড়া। এখন এটিকে নিয়ে আমাদের ফাইট করতে হবে নেগোসিয়েশনে যাতে আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে বহাল থাকে।’

অর্থায়নের ক্ষেত্রে চুক্তিতে তিনটি পন্থার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলোÑ ১. সকল দেশকে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থ দিতে হবে। ২. উন্নত দেশগুলো এবং ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে অর্থায়ন করবে। এবং ৩. সকল দেশমিলে প্রভাব মোকাবেলায় অর্থায়ন করবে। তবে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলার সব অর্থই আসবে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে।