২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৩ ডিসেম্বর থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন চেতনায় দেশপ্রেমে শাণিত হওয়ার দিন বিজয় দিবস। এবারের বিজয় দিবস বাঙালীর জীবনে কিছুটা অন্যভাবে এলো। একটু একটু করে কলঙ্ক মুক্তির পথে দেশ। একের পর এক যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করার ফলে বিজয়ের আনন্দ আরও গভীর হবে এটাই স্বাভাবিক। সেই আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে প্রতিবারের মতো বিজয়োৎসবের আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সময়ের মূল প্রতিপাদ্য উঠে আসে প্রতিবারের বিজয়োৎসবের সেøাগানে। তাই এবারের উৎসবের সেøাগান ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথে, জঙ্গীবাদকে দাঁড়াও রুখে।’ রাজধানীজুড়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিসরে ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বিজয়োৎসব-২০১৫।’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এদিন বিকেল ৪টায় ৮ দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজেয় শ্যাম। এ উপলক্ষে ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির জোট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। এতে উপস্থিত ছিলেন জোট সভাপতি উসব আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ, সহ-সভাপতি ফকির আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, সোহেল আহমেদ প্রমুখ।

গোলাম কুদ্দুছ তার লিখিত বক্তব্যে বিজয় উৎসবের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ১৪টি মঞ্চে একযোগে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ উৎসব চলবে। নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক, চলচ্চিত্র, আলোচনাসহ নানা আয়োজনে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। এবার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা, নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও সঙ্গীতশিল্পীদের নামে বিভিন্ন মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদ্বোধনী দিন থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবসের আলোচনা। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের হবে। ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরে (ভাষাসংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেন), রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর (টিএসসি) (চাষী নজরুল ইসলাম চলচ্চিত্র মঞ্চ), মিরপুর শিল্পী নঈম গহর, নাট্যশিল্পী রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বাদশা, মুকুল ফৌজ মাঠ, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণ, প্রভাত মাঠ, সুবল দত্ত ও টিএ্যান্ডটি কলোনি হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য মঞ্চে ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। দনিয়া বর্ণমালা স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণসংলগ্ন সড়কে মাসুদ আহমেদ চৌধুরী মঞ্চে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর, উত্তরা রবীন্দ্র সরণি ভাষাসৈনিক শরফুদ্দিন আহমেদ মঞ্চে ১৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বর, বাহাদুর শাহ্ পার্ক মঞ্চে ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে রামেন্দু মজুমদার বলেন, স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে জোটের প্রধান ফয়েজ আহমদকে আহ্বায়ক করে প্রথমবারের মতো ঢাকায় বিজয়োৎসব হয়। এ উৎসব হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে। এখন এ উৎসবের ব্যাপকতা অনেক, এটা এখন সবার উৎসবে পরিণত। এবারের উৎসব তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ও কার্যকরের ফলে জঙ্গীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক পরিম-লকে নিয়ে আমরা এর বিরুদ্ধে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব।

ফকির আলমগীর বলেন, এবারের বিজয়োৎসব উদ্বোধন করবেন আমার সতীর্থ শিল্পী সুজেয় শ্যাম। এর জন্য নিজেকে গর্বিত বোধ করছি। বিজয়োৎসবে এবার ক্ষত-বিক্ষত এক ধ্বনি উচ্চারিত হবে দেশের সর্বত্র।

নির্বাচিত সংবাদ