২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে আট বিদ্রোহী

  • জমে উঠেছে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ বহিষ্কারের হুমকিসহ কঠোর নির্দেশনা ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করেও যশোরে ছয় পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পাঁচজন ও বিএনপির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও শুধুমাত্র মার্কার কারণে দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি অংশ নিচ্ছে দু’রাজনৈতিক দল। ভোটের মাঠে শুরু হয়ে গেছে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও সেখানে নৌকার বিপরীতে ধানের শীষ ছিল না। যশোরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় নির্বাচনী আমেজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন যশোরের মানুষ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশের ন্যায় যশোরের ছয় পৌরসভায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মাঝে প্রত্যেকটা দল তাদের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়েছে তাদের দলীয় প্রার্থীদের। সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটা দলের কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে না দাঁড়ানোর জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও যশোরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল থেকেই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা বলছেন, তাদের দল তাদের প্রতি অবিচার করেছে। যে কারণে দলীয় নেতাকর্মীসহ পৌরবাসীর চাওয়া-পাওয়া পূরণেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যশোর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, দলীয় মনোনায়ন না পেয়ে আমি অবাক হয়েছি। আগেও দু’বার মেয়র ছিলাম। পৌরবাসী আবারও আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়।

এদিকে, বাঘারপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন কামরুজ্জামান বাচ্চু। একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন খলিলুর রহমান। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি বাঘারপাড়া পৌরসভার প্রথম মেয়র। বাঘারপাড়া পৌরবাসী আবারও আমাকে মেয়র দেখতে চায়। তাই আবারও আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।

এই পৌরসভার বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল হাই মনা। মজার ব্যাপার হলো- তার ছেলে ইখতে খাইরু মোস্তাক এখনও পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, ১৩ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র উঠিয়ে নেবেন। দলটির অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকী। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ। বাঘারপারায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করেছি। ২৩ বছর ধরে একটানা ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তিনি তৃণমূলের খোঁজ করেন না। আন্দোলন-সংগ্রামে তার কোন ভূমিকা ছিল না। একজন জনপ্রতিনিধির কথামতো আব্দুল হাই মনাকে মনোনয়ন দিয়েছে জেলা বিএনপি। বাঘারপাড়া পৌরসভার হাজার হাজার তৃনমূল নেতাকর্মীর দাবি জেলা বিএনপি শোনেনি। তাই তৃণমূলের দাবি রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

চৌগাছায় আওয়ামী লীগের টিকেট পেয়েছেন নূর উদ্দিন আল মামুন। সেখানে দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুল, যিনি বিগত পৌর নির্বাচনে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, পৌরবাসী আমাকে চায় তাই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।

অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকার টিকেট পেয়েছেন সুশান্ত দাশ। সেখানে ফারুখ হোসেন ও সাবেক মেয়র সরদার ওলিয়ার রহমান দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফারুখ হোসেন বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হয়েছেন রবিউল হোসেন। আর তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের এসএম মশিয়ার রহমান। তিনি বলেন, আশা ছিল দলীয় মনোনোয়ন পাব। কিন্তু দল আমাকে হতাশ করেছে। তাই স্বতন্ত্র হিসেবেই দাঁড়িয়েছি।

মনিরামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী জিএম মজিদ।

এ সকল বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকবে না। আমরাও তাদের কথামতো চেষ্টা চালাচ্ছি। কোন প্রার্থী আমাদের কথা না শুনলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অপরদিকে, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াটা একটি বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত। তবে এতে আমাদের তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ তৃনমূলের নেতাকর্মীরা দলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালাচ্ছে।