২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বদরগঞ্জে শিক্ষক ও দুই ছাত্রের লড়াই

মানিক সরকার মানিক, রংপুর ॥ শিক্ষক এবং দুই ছাত্র মিলে এবার বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদের নির্বাচন জমে উঠেছে ছাত্র শিক্ষকের মাঝে। রংপুরের তিনটি পৌরসভার মধ্যে এবারে নির্বাচন হচ্ছে একমাত্র বদরগঞ্জ পৌরসভাতেই। অপর দুই পৌরসভা হারাগাছ এবং পীরগঞ্জে নির্বাচন হচ্ছে না আইনী জটিলতার কারণে। আর এজন্যই সবার নজর এবার বদরগঞ্জের দিকেই। দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি মূলত এ তিনটি দলই এখন মুখ্য। আর এখানকার পৌর নির্বাচনে এ তিন দলেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন তিন ছাত্র শিক্ষক। শিক্ষক বলছেন, তারা আমার ছাত্র, সন্তানসমতুল্য। ভোটাররা চাইলে তাদের একজন মেয়র হবে। অন্যদিকে, ছাত্ররাও বলছেন একই কথা, তিনি আমাদের শিক্ষক, শ্রদ্ধেয়। কিন্তু রাজনীতিতো দল কেন্দ্রিক। জনগণ চাইলে তিনিই হবেন। তবে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ প্রার্থীদের ব্যক্তি নীতি ও আদর্শ নিয়ে।

১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় বদরগঞ্জ পৌরসভা। সে সময় প্রথম প্রশাসক মনোনীত হন দলের নেতা উত্তম কুমার সাহা। সেই থেকে পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনেও জনগণের ভোটে তিনিই নির্বাচিত হন মেয়র। এবারও তিনিই আওয়ামী লীগ প্রার্থী। অন্যদিকে এখানে বিএনপি প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বদরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আজিজুল হক। উত্তম সাহা এবং আজিজুল হক এ দু’জনই অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর ছাত্র। বদরগঞ্জ মূলত পাক আমল থেকেই আওয়ামী লীগের একটি শক্ত ঘাটি। বরাবরই এখানকার রাজনীতি পরিচালিত হতো আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এবং কয়েক দফার সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে। বদরগঞ্জে রয়েছে সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মেইল বন্ধন। বিএনপি প্রার্থী পরিতোষ চক্রবর্তীও এমনটিই জানালেন। বললেন, এখানে আমরা যে যেই দল করি না কেন, আমাদের সামাজিক এবং সম্প্রীতির বন্ধন অনেক দৃঢ়। তিনি বলেন, আমার অপর দুই শক্ত প্রার্থীর দু’জনই আমার ছাত্র। তাদের কলেজে পড়িয়েছি আমি। তারা এখন আমার রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী। জনগণ চাইলে তারা হবে। একই রকম কথা বললেন, ছাত্র উত্তম এবং আজিজুল। তবে স্যারের প্রতি শ্রদ্ধাবনতভাবেই তারা জানান, সবারই একটি ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক আদর্শ থাকে। সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে আসে নানা প্রশ্ন। তবে এই দুই ছাত্র প্রার্থীরা এ বিষয়ে কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও জানা যায়, অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্র ইউনিয়ন দিয়ে।