২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’৭১-এর শহীদ স্মরণে কুষ্টিয়ায় ‘মুক্তিমিত্র স্মৃতিস্তম্ভ’

  • উদ্বোধন করলেন ত্রিপুরার গবর্নর তথাগত রায়

এমএ রকিব, কুষ্টিয়া থেকে ॥ স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পর কুষ্টিয়ায় উদ্বোধন করা হলো একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘মুক্তিমিত্র স্মৃতিস্তম্ভ’। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চৌড়হাস মোড়ে এই স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গবর্নর তথাগত রায়। এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র ভূমিতে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করতে পেরে আমি অবিভূত। আপনাদের দেশকে আমরা প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাই। যে অসাধারণ লড়াই করে আপনারা স্বাধীনতা অর্জন করেছেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী আপনাদের স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে অংশ নিতে পেরেছে সেই জন্য আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে আমাদের সহযোগিতার হাত এক শ’র জায়গায় এক হাজারে এগিয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের এমপি আব্দুর রউফ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল হাকিম সরকার, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীসহ জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা হাতের কাছে বীরাঙ্গনাদের যে তালিকাগুলো পেয়েছি তা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকাশ করেছি। আগামী জুন মাস পর্যন্ত এ তালিকা প্রকাশিত হবে। তারপরও যদি কেউ বাদ পড়ে তাদের নাম ও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হবে।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ মুহুর্তে পাকি হায়েনাদের কবল থেকে কুষ্টিয়া শহর দখল মুক্ত করতে গিয়ে এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে চৌড়হাস মোড়ে এলাকায় ঝরে পড়ে ‘মুক্তিমিত্র যৌথ বাহিনী’র বহু তরতাজা প্রাণ। ওই যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দেয়া সেসব বাংলাদেশী ও ভারতীয় বীর শহীদদের স্মরণে ও তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পর এখানে নির্মিত হলো ‘মুক্তিমিত্র স্মৃতিস্তম্ভ’। এই স্মৃতিস্তম্ভে স্থান পেয়েছে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী জাতীয় নেতাদের ম্যুরাল। আরও স্থান পেয়েছে যুদ্ধবিমান ও ট্যাংক সংবলিত স্তম্ভ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কুষ্টিয়া এলজিইডি, কুষ্টিয়া পৌরসভা, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ও ঢাকার আরমা গ্রুপ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতা রয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে। ‘মুক্তিমিত্র স্মৃতিস্তম্ভের’ চার পাশে রয়েছে মোট ৭টি ম্যুরাল। যার প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীর প্রতিকৃতি। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের চিত্র, মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি, স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের চিত্র, কুষ্টিয়া শহর হানাদার দখলমুক্ত করার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কের ওপর বিজয়োল্লাসিত জনতার ছবি, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মহিউর রহমানসহ সাত বীরশ্রেষ্ঠর প্রতিকৃতি ও পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক চিত্র। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধক্ষেত্র চৌড়হাস মোড়ে এলাকা। এখানে একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরের দখল নিয়ে সংঘটিত যুদ্ধে মুক্তিমিত্র বাহিনীর শতাধিক সৈন্য শহীদ হন। প্রাণ হারানো সৈন্যদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ভারতীয় সেনা।