২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ হানাদারমুক্ত মুন্সীগঞ্জ টাঙ্গাইল কুষ্টিয়া হিলি লাকসাম

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ১১ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লার লাকসাম। এ উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার ডোমার হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতাদের।

মুন্সীগঞ্জ ॥ ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল দিন। ২১৬ দিন শত্রুকবলিত থাকার পর ’৭১-এর এই দিনে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ (তৎকালীন মহকুমা) দখলমুক্ত হয়। দিবসটি পালনে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শহরে বিজয় র‌্যালি ও আলোচনাসহ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে হানাদার বাহিনী লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল ॥ ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে। উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ১১ ডিসেম্বর ভোরে কাদেরিয়া বাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউস আক্রমণ করে দখলে নেন এবং শহর শত্রুমুক্ত করেন। এরপর তারা ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্র্ণ হানাদার মুক্ত হয়। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া ॥ ১১ ডিসেম্বর। কুষ্টিয়া হানাদার মুক্ত দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের বহু আত্মত্যাগ ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অবশেষে ’৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধের মধ্যদিয়ে শত্রু মুক্ত হয় কুষ্টিয়ার মাটি। ৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনীর চলে প্রচ- যুদ্ধ। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর পাক বাহিনী কুষ্টিয়া ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাবার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার মাটি সম্পূর্ণ শত্রু মুক্ত হয়।

দিনাজপুর ॥ আজ হিলি মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে এইদিনে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী। এক পর্যায়ে ৯ ও ১০ ডিসেম্বর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন ভারতীয় ৩শ’ ৪৫ জন মিত্রবাহিনী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর শক্রমুক্ত হয় হিলি। প্রতিবছর এইদিনে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী নিহত মুক্তিসেনাদের স্মৃতিচারণ, রুহের মাগফেরাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে।

লাকসাম (কুমিল্লা) ॥ ১১ ডিসেম্বর লাকসাম হানাদার মুক্ত দিবস। লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় থ্রী-এ সিগারেট ফ্যাক্টরিতে পাকবাহিনী বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ১০ হাজার নিরীহ লোককে ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করে জংশনের দক্ষিণ পাশে পুঁতে রাখে। সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনী পরাজিত হয়ে পিছু হটলে ১১ ডিসেম্বর লাকসাম হানাদার মুক্ত হয়।

নীলফামারী ॥ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ডোমার উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচীতে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। শহীদ ধীরাজ-মিজান স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা করা হয়।