২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ জামালের লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন

  • মজিবর রহমান

ঘোষিত সময়ের মধ্যে ফুটবলারদের দলবদল সম্পন্ন করা আদৌ কী সম্ভব? প্রশ্নটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের এএফসি কাপে অংশগ্রহণ সামনে রেখে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে দল বদলের তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), তথা লীগ কমিটি। মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ফুটবলাররা বর্তমানে ব্যস্ত জাতীয় দলের ক্যাম্পে। সাফ ফুটবল সামনে রেখে খেলোয়াড়দের পুরোদস্তুর অনুশীলন চলছে বিকেএসপিতে। ভারতের কেরলে ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে মর্যাদার এই আসর। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে ভারত থেকে জাতীয় দল ফিরবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এর কিছুদিন পরই শুরু হবে শেখ জামাল ধানম-ির মিশন। হোম এ্যান্ড ভিত্তিক কাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হবে ফেব্রুয়ারির শেষ সম্পাহে। তার চেয়েও বড় কথা, চলমান বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ থেকে শীর্ষ দুটি দল ওঠে আসবে প্রিমিয়ার লীগে। পেশাদার লীগে জায়গা করে নেয়া এ দল দু’টিকেও ঘর সাজানোর সুযোগ দিতে হবে। অর্থাৎ দল বদলের মাধ্যমে সাধ্যমতো ভাল টিম গড়ার সুযোগ দেয়াটাও লীগ কমিটির কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়রশিপ শেষ হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে দলবদল আয়োজন কতটুকু সমীচীন বাফুফে ভাল বলতে পারবে। তবে লীগ কমিটির কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই অবগত। কিন্তু সবকিছু জেনেশুনেও কেন তরিঘরি দলবদল তা কারও বোধগম্য নয়।

জাতীয় দল সাফ ফুটবল খেলে ভারত থেকে ফেরার পর এএফসি কাপ খেলার প্রস্তুতি শুরু করবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। এ আসরে শেখ জামাল ধানম-ির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের। তার কথায় এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। দেশের ফুটবলের ইজ্জত জড়িত। বিষয়টা আমরা জানি বিধায় ভাল ফলের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে চাই। মনজুর কাদের জানান, শেখ জামাল ধানম-ি বর্তমানে একটি ‘সেট টিম’। এএফসি কাপে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে এই টিমটা ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরী। দল বদলের পর হয় তো আমরা আরও টিম করতে পারব। কিন্তু একটা তৈরি দল পব না। আমি বর্তমান দলটা নিয়ে লড়াই করতে চাই। আর সুযোগটা দেশের মানসম্মান ও ফুটবলের দিকে তাকিয়ে বাফুফেকেই করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী বিদেশের মাটিতে শেখ জামালই একমাত্র সফল ক্লাব। যে দলটি শিরোপা ছাড়া দেশে ফেরেনি। সেই নেপালের পোখরা সাফাল কাপ, ভুটানের কিংস কাপ শিরোপার সঙ্গে রয়েছে ভারতের শতবছরের ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট আইএফএ শিল্ড রানার্সআপ। সর্বশেষ কিরগিজস্থানে এএফসি কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল আসরে জায়গা করে নেয়া। সঙ্গত কারণে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত ফুটবলারদের এই ‘টাইট সিডিউল’-এর মধ্যে দলবদল আয়োজন করে একটা লেজেগোবরে পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কোন মানে নেই। যদিও প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানম-ি, রানার্সআপ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন বাফুফের নির্ধারিত তারিখে দলবদলে অংশ নেবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল। বর্তমান লীগ কমিটির অধীনে ফুটবলের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না বলেও জানানো হয়েছে ঢাকার পাঁচ শীর্ষ ক্লাবের পক্ষ থেকে। সঙ্গত কারণে এমনিতেই একটা নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে দেশের ফুটবল। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সামনে ফুটবলের অবস্থা কি দাঁড়াবে কেবল সময়ই ভাল বলতে পারবে। একদিকে দলবদল করতে অনড় বাফুফে, অন্যদিকে পাঁচটি ক্লাব তাদের কঠোর সিদ্ধান্তে অটল। এতে সার্বিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে দেশের এক সময়কার জনপ্রিয় খেলার একটি হকির ভূত এসে ভর করতে যাচ্ছে ফুটবলে। ফেডারেশন-ক্লাব দ্বন্দ্বে হকির অবস্থা বেহাল। দলবদল নেই। নেই মাঠে খেলা। তবে কি ফুটবলেও এই চিত্র ফুটে ওঠবে বা দেখা যাবে? এ কথা অনস্বীকার্য, ফুটবল গ্রেট কাজী সালাউদ্দিন বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ফুটবলের মরা নদীতে জোয়ার আসে। ফুটবলারদের এখন আর দলবদলের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রেসক্লাব, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম চত্বরে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায় না। একের পর এক খেলা। সালাউদ্দিন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বছরব্যাপী ফুটবল মাঠে রেখে। খেলোয়াড়ি জীবনের মতো সংগঠক হিসেবেও তিনি শতভাগ সফল, সুনামের অধিকারী। আর এ কারণে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, সম্প্রতি বাফুফে-ক্লাব দ্বন্দ্ব বা যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এটাও তিনি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মিটমাট করতে সক্ষম। প্রয়োজন কেবল উদ্যোগ। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই তার উচিত অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনার সমাধান করা। আর দেশের ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে এ বিষয়ে তিনি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী সবাই। দেশের শীর্ষ পাঁচ ক্লাব যেহেতু এই মুহূর্তে দলবদলে অংশ নিতে চাচ্ছে না সেহেতু আলোচনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের জার্সি বদল কার্যক্রম পিছিয়ে দেয়া কিনা চিন্তাভাবনা করা উচিত। মোদ্দাকথা যে উপায়ে হোক সমস্যার সমাধানটাই খুব জরুরী। তা না হলে ফুটবলের ভাগ্যেও হকির পরিণতি হতে পারে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ গতকাল বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠকে জানান, ঘোষিত সময়ের মধ্যে দলবদল করেই এএফসি কাপে খেলতে হবে শেখ জামাল ধানম-িকে। এটাই এএফসির নিয়ম। আমরা ইতোমধ্যে সিডিউল পাঠিয়ে দিয়েছি এএফসিতে। কাজেই ১৫ ফেব্রয়ারির মধ্যে দলবদল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে শেখ জামালকে। সোহাগ জানান, বাফুফে সভাপতি এএফসির কাছে অনুরোধ করেছিলেন, বাংলাদেশের দলটিকে যেন ’ইস্ট জোন’-এ খেলার সুযোগ করে দেয়া হয়। প্রতিবার দেখা যায় বাংলাদেশকে ’ওয়েস্ট জোনে‘ ঠেলে দেয়া হয়। ইস্ট জোনের তুলনায় ওয়েস্ট অনেক পরাক্রমশালী। ফলে বাফুফে সভাপতির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ জামালকে ইস্ট জোনে খেলার সুযোগ দেয়ায় প্লেঅফ খেলতে হচ্ছে না শেখ জামাল ধানম-িকে। দলটি সরাসরি অংশ নিচ্ছে এএফসি কাপের (২০১৬) মূল আসরে।। বাছাই, প্লেঅফ উতরিয়ে মোট ৩২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে মূল পর্বের খেলা। আট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়াই করবে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। গতকাল বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠিত গ্রুপিং ড্র’তে শেখ জামাল খেলবে ‘ই গ্রুপ’-এ। চার প্রতিপক্ষ দল হচ্ছে, সিঙ্গাপুরের টেম্পাইন রোভার্স অথবা ওয়ারিওর্স এফসি, মালয়েশিয়ার সেলেঙ্গর এফএ, ফিলিপিন্সের সিরেস লা সেলে এফসি।