২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় দলের খেলা হলে বোলিং করতেন মাশরাফি

জাতীয় দলের খেলা হলে বোলিং করতেন মাশরাফি

মোঃ মামুন রশীদ ॥ জাতীয় দলের অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই রানের মধ্যে নেই। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম ও নাসির হোসেন ছাড়া ব্যর্থদের তালিকাটা বেশ লম্বা। সেই তালিকায় আছেন সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েসরা। এ কয়েকজন ব্যাট হাতে এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ আসরে পুরোপুরিই ব্যর্থ। তাদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তামিম ও ঢাকা ডায়নামাইটসের লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার ব্যাটিং পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এবার তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে একাদশে থেকেও ইনজুরির কারণে তিন ম্যাচ বোলিং করেননি, এক ম্যাচে ১ ওভার বোলিং করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ম্যাচশেষে তিনি দাবি করলেন বাংলাদেশ দলের খেলা হলে অবশ্যই বোলিং করতেন।

মাশরাফির মনের জোর নিয়ে কোন সংশয় নেই। ওই একটিমাত্র কারণেই এখন পর্যন্ত নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। শুধু ইনজুরির কারণেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় চার বছর। ১১ বার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তবু বার বার পরিশ্রম আর মানসিক দৃঢ়তায় ফিরে এসেছেন খেলায়। এত ইনজুরিও তার নৈপুণ্যে সামান্যতম প্রভাব ফেলেনি। ইনজুরি আর মাশরাফি যেন যমজ ভাই। বিপিএল শুরু করেছিলেন পরিপূর্ণ ফিটনেস আর ভাল অবস্থায়। কিন্তু আবার পুরনো সেই হাঁটুর সমস্যা। একটি মাংসপেশি ছিঁড়ে গেছে। এ কারণে সর্বশেষ চার ম্যাচে তাকে মাত্র একবারই বল হাতে দেখা গেছে, তবু করেছেন ১ ওভার। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে অন্য বোলারদের ব্যর্থতায় বাধ্য হয়ে বোলিং করেছিলেন। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সত্যি বলতে এখনও বোলিং করতে গেলে ঝুঁকি থেকে যাবে। আসলে বাংলাদেশের খেলা হলে আমি করে ফেলতাম। কিন্তু আমি কাউকে ছোট করছি না, কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও আমাকে পারিশ্রমিক দিয়ে খেলায়। এটা আমার কাছে অনেক বড়। উনাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমি শতভাগ না কিন্তু আমি পারব। কিন্তু শতভাগ না হয়ে আমি বোলিং করতে চাচ্ছি না। কারণ আমার পুরো ক্যারিয়ারে এ রকম ছোট ছোট কিছু অনেক বড় হয়ে যায়। এজন্য একটু বাড়তি সতর্কতায় আছি।’ হ্যাঁ, অতীতে শুধু মনের জোরে ইনজুরি নিয়েও বোলিং করার ফলটা শুভ হয়নি মাশরাফির, আরও বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে।

এবার বিপিএলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নৈপুণ্য বেশ ভাল। তবে জাতীয় দলে যারা সম্প্রতি খেলছেন তাদের নৈপুণ্য তেমন সুবিধার নয়। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে একেবারেই বেহাল অবস্থা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কিছুটা আনলাকি। এ ধরনের টুর্নামেন্টে যেটা হয় জাতীয় দলের সবাই কিন্তু রিল্যাক্স থাকে। সাঙ্গাকারা আর তামিম যেভাবে হিসেব করে ব্যাটিং করেছে ওভাবে করতে পারলে ভাল হয়। যাদের কথা বলছেন তারা সময় মতোই ফিরে আসবে। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। রংপুরের সঙ্গে খেলা ছিল তখন সৌম্যর সঙ্গে কথা বলেছি। ইমরুল, লিটন ওরা তো আমার দলেই আছে। মুশফিক বেশ ভাল, অনেক অভিজ্ঞ। ওদের বিবেচনা করা হবে তখন যখন ওরা জাতীয় দলের হয়ে সেরা সার্ভিস দেবে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসতে পারত। কিন্তু চোখে দেখা যাচ্ছে এটা হয়নি। জাতীয় দলের কোচও বেশির ভাগ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছে দেশ ছাড়ার আগে। আমরা যখন আমাদের চেনা পরিবেশ ও ড্রেসিং রুমে ফিরে আসব তখন সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আসলে একেবারেই উদ্বিগ্ন না। কারণ একটা ইনিংস প্রয়োজন হয় ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। কারণ পরবর্তীতে যে টুর্নামেন্টগুলো হবে সেগুলো ভাল উইকেটে হবে। উইকেটও কিছু হেল্প পাবে। ওই সময় কিন্তু সংগ্রাম করবে না।’ আগামী বছর দেশের মাটিতে এশিয়া কাপ টি২০ আসর এবং তারপরই ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ। বিপিএলে বেশকিছু তরুণ ক্রিকেটারকে ভাল লেগেছে মাশরাফির। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘টি২০ বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ খুব কাছাকাছি। এগুলো কোচ ও নির্বাচকদের কাজ। ওনারা ফলো করছেন। এখানে ক্যাম্পে ডাকা আমার গুরুত্বটা থাকে না। কিন্তু খালি চোখে যাদের ভাল লেগেছে তাদের মধ্যে আমাদের রনি আছে, (নুরুল হাসান) সোহান আছে।’