২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফ্যাশনেবল কার্ডিগান

  • তৌফিক অপু

ঋতুর পালা বদলে বইছে কনকনে হাওয়া। শীতের আমেজ বিরাজ করছে। আর এ সময়টাতে চারিদিকে উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়। পারিবারিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় যে কোন উৎসবই এ মৌসুমে এসে যেন অন্য রকম আবহ সৃষ্টি করে। এ সময়টায় উৎসবের আকাশ যেন আরও রঙিন হয়ে ওঠে। উৎসবপ্রিয় জাতি হিসেবে বাঙালী জাতি অনন্য বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। যে কোন উৎসবেই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একাকার হয়ে যেতে পারে। ভেদাভেদ ভুলে উৎসবকে করে তোলে আরও বেশি বর্ণময়। উৎসব উপলক্ষে নেয়া হয় নানা রকমের প্রস্তুতি। তার মধ্যে পোশাক অন্যতম। বাঙালী এখন ফ্যাশনসচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। উৎসবভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। কোন্ উৎসবের সঙ্গে কোন্ পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ফ্যাশন জগত। আর এ পথ চলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেক পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে উপলক্ষ সামনে এসে দাঁড়ায় সে উপলক্ষ নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারণে সাধারণ মানুষদেরও নিত্য নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। যেমন এই শীত মৌসুমে কার্ডিগান, জ্যাকেটের মতো মোটা কাপড় ছাড়াও রঙেরও একটা বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ কালার কম্বিনেশনের চমৎকার একটি রূপ এ মৌসুমে চোখে পড়ে। বিভিন্ন রং তো বটেই গাঢ় রঙের পোশাক এ সময়টায় দারুণ মানিয়ে যায়। অন্যান্য সময় যা শোভনীয় নয় এ সময়টায় তা দারুণ লাগে। ঠা-া হাওয়ায় কার্ডিগান অন্যতম এক পোশাক। প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউসেই দেখা মিলবে কার্ডিগানের। বর্ণিল কার্ডিগানগুলো ফ্যাশন ট্রেন্ডে যোগ করেছে অন্য রকম মাত্রা। একটা সময় ছিল যখন শীত নিবারণই মুখ্য ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তন এসেছে সবক্ষেত্রে। ফ্যাশন হাউসও সে আওতার বাইরে নয়। কার্ডিগান এখন শুধু শীত নিবারণের পোশাক নয় বরং ফ্যাশনেবল। অনেক ভেরিয়েশন এসেছে কার্ডিগানে। রং এবং ডিজাইনে এসছে ভিন্নতা। রাউন্ড কলার কিংবা ভি শেপের কার্ডিগান এখন দারুণ চলছে। রীতিমতো শীত ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হচ্ছে এই কার্ডিগান। এ প্রসঙ্গে ফ্যাশন হাউস ব্যাঙের কর্ণধার প্রিন্স জানান, অন্যান্য পোশাকের মতো কার্ডিগান বা সোয়েটার নিয়েও গবেষণা চালাতে হয়। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হয় সোয়েটার। কারণ ক্রেতারা সোয়েটার কেনার ক্ষেত্রেও রুচির পরিচয় দিয়ে থাকে। যে কারণে যেনতেন সোয়েটার ক্রেতাদের সামনে হাজির করা যায় না। এখন ফুলসিøভ সোয়েটারের সময়। তবে রকমভেদ রয়েছে অনেক। যেমন পাতলা ফুলসিøভ সোয়েটার যেমন রয়েছে তেমন রয়েছে মোটা ফুলসিøভ সোয়েটার। আবার ব্লেজারের নিচে পরার মতো সোয়েটারও রয়েছে। যা দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। কালার ভেরিয়েশনও লক্ষ্য করার মতো। সব বয়সীদের জন্য সোয়েটার থাকলেও তরুণ প্রজন্ম এ ব্যাপারে সবচেয়ে আগ্রহী। তারা কালার এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চুজি। ফ্যাশন ট্রেন্ডের ধারার পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করে থাকে তরুণরাই। সে কারণেই তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। দেশের প্রায় প্রতিটি আউটলেটেই। ঋতু অনুযায়াী পোশাক তৈরির ট্রেডিশন খুব বেশিদিন হয়নি এদেশে চালু হয়েছে। তারপরেও খুব দ্রুত এ ট্রেডিশনটি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ ব্যস্ত জীবনে ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক এখন হাতের কাছেই মেলে। যার ফলে বাড়তি চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয় না। এ ঋতুতে মূলত ফুলসিøভ সোয়েটার প্রাধান্য পেয়েছে। নানা রঙের ফুলসিøভ সোয়েটারের দেখা মিলবে দেশের প্রায় প্রতিটি আউটলেটে। এর মধ্যে বসুন্ধরা সিটি, পলওয়েল, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজা, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায়। দামও হাতের নাগালে। ফুলসিøভ সোয়েটার পাওয়া যাবে ৫৫০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। কিছু কিছু পাতলা সোয়েটার ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় মিলবে। মানুষ যত বেশি ফ্যাশনসচেতন হয়ে উঠছে ততই বাড়ছে ফ্যাশন হাউসের সংখ্যা। ইচ্ছে হলেই যুগোপযোগী পোশাকে সাজানো যাবে নিজেকে। আবহাওয়ার সঙ্গে যদি পোশাকের মানানসই না ঘটে তাহলে অস্বস্তিতে ভুগতে হয়। সে অবস্থা থেকেই

ছবি : সুমন হোসেন

মডেল : সিমু ও শাওন

পোশাক : ফ্যাক্ট

মেকআপ : পারসোন