১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিয়ের আসরে রোবট

বিয়ের আসরে কনের আঙ্গুলে আংটি পরিয়ে দেবেন বর। হলরুমজুড়ে অতিথিরা অপেক্ষা করছেন। এমনই এক মুহূর্তে মানুষের বদলে স্টেজে আংটি নিয়ে হাজির হয় রোবট ‘হাও ইয়ি’। চীনের তিয়ানজিয়ানে অনুষ্ঠিত এক বিয়ের আসরে দেখা মিলেছিল রোবট ওয়েটারটির।

কর্মদক্ষতায়

আলো

কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে ঘুম, অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে আলো। জার্মান বিজ্ঞানীরা ‘ডায়নামিক লাইট’-এর মাধ্যমে ঘরের মধ্যে আলোর চরিত্র বদলে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

অফিস-আদালতে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে অনেক ভুল করা হয়। তাতে শুধু বিস্তর বিদ্যুত খরচ হয় তাই নয়, কর্মীদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়। বাল্ব ও কম্পিউটার মনিটর থেকে আলোর কারণে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব বা মাথাব্যথা দেখা দেয়।

শরীরের ওপর আলোর নানা প্রভাবের কারণেই এমনটা ঘটে। আলো গবেষক অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘আমাদের ওপর আলোর মোটামুটি ৩ রকমের প্রভাব রয়েছে। একটা অবশ্যই বায়োলজিক্যাল প্রভাব। অর্থাৎ আলো আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া অবশ্যই আলোর কারণে আমরা দেখতে পাই। সেই দৃশ্য মনের মধ্যে আবেগেরও সৃষ্টি করে। সেই আবেগ আমাদের ভাল থাকার জন্য জরুরী।’

সবচেয়ে উপযুক্ত হলো স্বাভাবিক দিনের আলো। ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের আলো গবেষকরা তাই অফিসের মধ্যেই আকাশ নিয়ে এসেছেন। গোটা ঘরজুড়েই যেন আকাশ ছেয়ে রয়েছে, এমনকি মেঘের ছায়াও নকল করা হচ্ছে। ঠিক যেন মনে হবে, ঘরে নয় বাইরে বসে রয়েছি। প্রায় ৩৫,০০০ এলইডি বাতি দিয়ে কৃত্রিম এই ‘ডায়নামিক’ আকাশ তৈরি করা হয়েছে, যা ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি রং ফুটিয়ে তুলতে পারে। অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘মানুষ এই এই ডায়নামিক লাইট পছন্দ করছে, সেটাই বঙ কথা। তাদের ভাল নাও লাগতে পারত। এই আলো মানুষকে আরও সজাগ রাখে, মনকে তরতাজা করে তোলে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে মানুষ ডায়নামিক লাইট বেশি পছন্দ করেন।’

‘ইন্টেলিজেন্ট’ টেবিলও একইভাবে কাজ করে। এর মূল সুবিধা হলো, আলোর শক্তি ও রঙের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ সকালের দিকে নীল আলো পছন্দ করে, যা সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। বিকেলের দিকে লাল আলোই তাদের পছন্দ, যা মনকে শান্ত রাখে। গ্রীষ্মে আলোর ছটা শীতল হলেই ভাল, আর শীতে উষ্ণ।

শুধু বাতি নয়, কম্পিউটার মনিটরের আলোও চোখের মাধ্যমে আমাদের ভাল-মন্দ- বোধ ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সন্ধ্যায় পর্দায় নীল আলো কমাতে বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক ধরনের মনিটর তৈরির কাজ করছেন, যাতে নীল অংশ কম। ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট-এর আখিম প্রস বলেন, ‘আমরা এই মনিটরে লাল, সবুজ ও নীলের সংমিশ্রণে সাদা রং তৈরি করছি। লাল ও নীল রংয়ের বিভিন্ন মাত্রা দিয়ে সেটা করা সম্ভব। নীলের একটি শেড বা মাত্রা মানুষকে দিনে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। অন্য একটি শেড ততটা শক্তিশালী নয়, তার প্রভাব অনেক শান্ত। অর্থাৎ রাতের জন্য তা উপযুক্ত।’

আলোর মাধ্যমে কম্পিউটার বা মনিটরের কাজ সহজ করে তোলা সম্ভব। যেমন এক্ষেত্রে কম্পিউটার, মনিটর, কিবোর্ড ও মাউসের মধ্যে বিভাজন ঘুচিয়ে তোলা হয়েছে। দুটি শক্তিশালী প্রোজেক্টর এক সাধারণ টেবিলের উপর নানা ডিজিটাল ডকুমেন্ট ফুটিয়ে তোলে। আলো আমাদের ঘুম ও জেগে থাকার ছন্দও নিয়ন্ত্রণ করে। মনমেজাজ ও শরীরের অনেক ক্রিয়ার উপরেও তার প্রভাব রয়েছে। তাই ঘরের মধ্যে সচেতনভাবে আলোর ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আলোর বিষয়টি আরও ইন্টেলিজেন্ট হয়ে পড়বে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের আলোকসজ্জা আমাদের উপর লক্ষ্য রাখবে। কখন ঘুম ভাঙ্গল, কীভাবে অফিসে গেলাম, এর মধ্যেই যথেষ্ট দিনের আলো পেয়েছি কিনা, সে সব জেনে নেবে। সেই অনুযায়ী তা আলোর ছটা স্থির করবে।’

সূত্র : বিবিসি