২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিলরুবা আহমেদের ৩টি বই গদ্য আচার্য

চোখের নিচে খুবই অল্প একটু পানি। তবে ওই এক বিন্দু অশ্রুর পেছনে যে গল্পটা আছে তা কিন্তু অল্প কিছু নয়। কিংবা এক চিলতে হাসি, তা ফোটানোর পেছনেও রয়েছে চমৎকার এক দিঘী দীঘল গল্প। ছোট ছোট গল্পগুলো বিশাল জীবন থেকে তুলে আনা এক একটি খ-চিত্র। আর তা উপস্থাপন করে বিশাল এক পটভূমিকেই। গ্রন্থটিতে রয়েছে ১০টি ছোটগল্প, যা বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন, সাদাটে ধূসর বা বর্ণীল ভালোবাসা কিংবা স্যাতসেঁতে কষ্ট বা ব্যর্থতায় ঘেষা। প্রতিজনের জীবনেও হয়তো বা আছে তার কিছু ছোঁয়া, পাশ ফিরে থাকলেও আলতো করে লাগবে তার দোলা। হাওয়ায় দুলে গল্পকথায় খানিক না হয় ভাসালেন লেখক অন্য জীবনে, যদি মনে হয় সেটা পাঠকেরই জীবন বা ডানপাশে বসে থাকা হলুদ শাড়ির বান্ধবীর কাহিনী বা সামনের বাসার বৃদ্ধটিরই ঘটনা। আর তা হলেই সার্থক হবে বলে মনে করেন লেখক। ‘রাত নিঝুম’, ‘এখনই থামো’. ‘ফোনের জীবন’, ‘ঈদী’, ‘গ্রামে যাইরে’, ‘এক যুবক বলেছিল ভালোবাসি’, ‘ফেইসবুকে তুমি’, ‘ও ধারেও কেউ নেই’, ‘তোমার আমার গল্পটা’, ‘মুক্তার হিন্দু বর’ গল্পগুলোর সব চরিত্রই কাল্পনিক নয়। লেখকের স্বীকারোক্তিÑ ‘গল্পের চরিত্রগুলো বাস্তবে পেয়ে গেলেই আমি ধন্য হবো। বুঝে নেবো আমি খুব বেশি অবাস্তব কল্পনা করিনি।’

একই পরিবারের মানুষজনদের সাথে নিয়ে দুই চাচাতো বোনের কাহিনী। যাদের জীবনে ভালোবাসা হয়ে উঠেছিল অনেকটাই কণ্টকসজ্জা, সেই গল্প নিয়ে এ উপন্যাস। ইচ্ছে মতো পেখম মেলার কোনো অধিকার নেই, অথচ অনেক স্বপ্ন, অনেক ভাবনা, অনেক বিপ্লব করার বাসনা তাদের দু চোখেই। আবার এই সাথে পরিবারের সবার জন্য প্রগাঢ় ভালোবাসা যেমন তাদের আটকে রেখেছে, তেমনই রক্ষণশীল একান্নবর্তী পরিবারের অলিগলি, চড়াই-উৎরাইয়ের চোরা পথ তাদের বিপন্ন-বিধ্বস্ত করেছে প্রতিনিয়ত। চলার পথে বার বারই ভেবেছে তারা দুজনই, একজন কেউ আসুক, সাথে থাকুক, পাশে বসুক, জীবন হোক গতিময়। কিন্তু সঠিক মানুষটির সাথে দেখা না-হওয়া পর্যন্ত যে যাত্রাপথ, তাতে একারই এই পথ চলা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লেখকের পরবাসী জীবনটার সূচনা হয় ২০০১ সালে। রিমঝিম শব্দ তুলে স্বপ্নের কোন রূপকথায় যাত্রালোকের আনন্দে মহিত হয়েছিলেন কিনা তিনি, তার যেমন উনার জানা নেই, আমাদেরও নেই। তবে এত বছর পর তা আজ সবই পরিণত এখন। প্রতি পলে প্রতি পদে চতুর্দিকের বহুমুখী অচেনার সাথে যোগাযোগ, ঠোকাঠুকি আর পরিচিত হয়ে ওঠার এই অভিযাত্রা, যা এক ধরনের যুদ্ধ মনে হয় লেখকের কাছে। এই গ্রন্থটি তারই কিছু ছিটেফোটা স্বাদ আর আমেজ দিয়ে রচিত। পাঠকেও সঙ্গী করেছেন তিনি এই পথচলায়। লেখকের মন্তব্যÑ ‘আমার চারদিকের সবকিছুকে ঘিরে কিছু সত্যের সাথে কিছু কল্পনা বা কিছু শোনার সাথে কিছু না দেখার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সাদাকালো বিনম্র আয়োজন এই ‘টেক্সাস টক’কে মলাটে বাঁধালাম ধরে রাখতে অনাগত সময়ের জন্য।’