১১ ডিসেম্বর ২০১৫

সিলেটের বিদায়ে শেষ চারে ঢাকা

সিলেটের বিদায়ে শেষ চারে ঢাকা

মিথুন আশরাফ ॥ ছয় দলের বিপিএলে চার দল শেষ চারে খেলবে, দুটি দল বিদায় নেবে। সেই দুটি দল মিলে গেল। আগেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) তৃতীয় আসর থেকে বিদায় নিয়েছে চিটাগাং ভাইকিংস। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৭১ রানে হেরে বিদায় নিয়েছে সিলেট সুপার স্টারসও। কুমিল্লার ১৫০ রান অতিক্রম করতে গিয়ে ৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় সিলেট। এ জয়ে রংপুর রাইডার্সকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল কুমিল্লা। এক নম্বর দল হয়েই টুর্নামেন্টের লীগ পর্বের খেলা শেষ করল।

রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও বরিশাল বুলস আগেই শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করেছে। সিলেটের হারে ঢাকা ডায়নামাইটসও শেষ চারে খেলার টিকেট পেয়েছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে খেলতে নামার আগেই চতুর্থ দল হিসেবে ঢাকা শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার দিনটি ঢাকা ও সিলেটের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সমীকরণটি ছিল এমন, যদি দিনের প্রথম ম্যাচটিতে ভালভাবে জিতে সিলেট আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে হারে ঢাকা, তাহলে সিলেটেরও শেষ চারে খেলার সম্ভাবনা ছিল। দুই দলই বৃহস্পতিবার ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে খেলতে মাঠে নামে। ম্যাচে মাঠে নামার আগে এমন অবস্থা ছিল, সিলেট যদি জিতে আর ঢাকা যদি হারে তাহলে দুই দলেরই সমান ৮ পয়েন্ট হয়ে যাবে। তখন রানরেটে যে দল এগিয়ে থাকবে, তারাই শেষ চারে খেলবে। তবে সিলেট যেহেতু দিনের প্রথম ম্যাচটি খেলবে, তাই ঢাকার জন্য তা অনেক সুবিধাই ছিল। ৬ পয়েন্ট পাওয়া সিলেট যদি হেরে যায় তাহলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নির্ভার হয়েই খেলতে পারবে ঢাকা। আর যদি সিলেট জিতে, তাহলে চাপে পড়ে যাবে। জিততেই হবে, এমন চাপ নিয়েই খেলতে হবে ঢাকার ক্রিকেটারদের। তখন হারলে রানরেটে বাদ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ঢাকা চাপমুক্ত হয়েই খেলতে নামতে পারে। সিলেট যে দিনের প্রথম ম্যাচে হেরে যায়।

কুমিল্লা-সিলেট ম্যাচটিতে টস জিতে শহীদ আফ্রিদির দল সিলেট। মাশরাফি বিন মর্তুজার দল কুমিল্লাকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। সুযোগটিও ভালভাবেই কাজে লাগায় কুমিল্লা। ৪ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৫০ রান করে। আহমেদ শেহজাদ সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। জবাবে শুভগত হোম (৩/৮) এবং ২ উইকেট করে নেয়া আসহার জাইদি ও আন্দ্রে রাসেলের বোলিং তোপে ১৩.৫ ওভারে ৭৯ রান করতেই গুটিয়ে যায় সিলেট। সেই সঙ্গে হার নিশ্চিত হয়, বিদায় ঘণ্টাও বাজে।

কুমিল্লার ইনিংস শেষ হতেই সিলেটের ওপর যেন পাহাড়সম চাপ পড়ে যায়। ঘোষণা আসে, যদি ১০.৪ ওভারে কুমিল্লার গড়া স্কোর টপকে যেতে পারে সিলেট, তাহলে ঢাকার যে রানরেট আছে তার সমান হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে শেষ চারে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে এমন নয়, তবে সুযোগ থাকবে। কারণ, দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা যদি খারাপভাবে হারে তাহলে পয়েন্ট সমান হওয়ার সঙ্গে রানরেটেও এগিয়ে যেতে পারবে সিলেট। তখন শেষ চারে খেলত সিলেটই। কিন্তু ঢাকার হার-জিত পরে হবে, সিলেট তো জিততেই পারল না।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে ব্যাটসম্যানরাও যেন ছন্নছাড়া হয়ে পড়লেন। মাত্র তিন ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারলেন। জসুয়া কব, জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মুমিনুল হক দুই অংকের ঘরে পৌঁছান। তবে কবই শুধু ২০ রানের গ-ি ছাড়াতে পারেন। টপাটপ উইকেট পড়তে থাকে সিলেটের। যখন ৪৮ রানে গিয়ে ৬ উইকেটের পতন ঘটে, এমন সময় শহীদ আফ্রিদি আউট হয়ে যান, সেখানেই আসলে সিলেটের হার যেন নিশ্চিত হয়ে যায়। বাকি সময়টা শুধু হারের অপেক্ষা থাকে। শেষপর্যন্ত মুমিনুল অপরাজিত ১৫ রান করে টিকে থাকেন। কিন্তু বাকিরা সব আউট হয়ে যান। সিলেটও বিদায় নিয়ে নেয়।

কুমিল্লা শুরুতেই লিটন কুমার দাসকে হারিয়ে বিপদে পড়ে। কিন্তু সেই বিপদ থেকে মুহূর্তেই দলকে মুক্তি দেন আহমেদ শেহজাদ ও ইমরুল কায়েস। দুইজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। দলের স্কোরবোর্ডে যখন ৭৫ রান জমা হয় এমন সময় শেহজাদ আউট হয়ে যান। কিছুক্ষণ না যেতেই ইমরুলও (২৭) সাজঘরে ফেরেন। ততক্ষণে দলের স্কোরবোর্ডে ৮৬ রান জমা হয়। এরপর অলক কাপালী ও আসহার জাইদি মিলে আরেকটি বড় জুটি (৫৬ রানের জুটি) গড়ে দলকে ১৪২ রানে নিয়ে যান। ততক্ষণে ইনিংস শেষ হতে আর ৩ বল বাকি থাকে। এ তিন বলে আরও ৮ রান হয়। অলক কাপালী অপরাজিত ৩২ রান করেন। তার সঙ্গে আন্দ্রে রাসেলের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১ রান। যে রান করে কুমিল্লা, তাতেই বড় জয় মিলে যায়। রানের দিক দিয়ে এবারের আসরে সবচেয়ে বড় জয়টি পায় কুমিল্লাই। এ জয়টি কুমিল্লাকে পয়েন্ট তালিকার প্রথম স্থানেও চলে যায় মাশরাফির কুমিল্লা।