২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলতি বছরে বিকল্প সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হচ্ছে না দেশ

ফিরোজ মান্না ॥ বাংলাদেশ সি-মি-উই-৫ নামের আরেকটি বিকল্প সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে এ বছর যুক্ত হতে পারছে না। কেবল স্থাপনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। কথা ছিল এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। এখন বলা হচ্ছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে সি-মি-উই-৫ কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল দেশে যুক্ত হলে এখান থেকে এক হাজার ৩শ’ জিবিপিএস (গিগা বাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। ফোর জি (চতুর্থ প্রজন্মের) ফাইভ জি (পঞ্চম প্রজন্মের) নেটওয়ার্ক স্থাপন করা সহজ হবে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনসহ নানা অবকাঠামো তৈরি করেছে। এখান থেকে কক্সবাজারের জিলং পর্যন্ত (প্রথম সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ল্যান্ডিং স্টেশনে যুক্ত হবে) ব্যাকবোন তৈরি করার কাজও শুরু হয়েছে। বর্তমানে সি-মি-উই-৪ কেবলের মাধ্যমে দেশে ব্যান্ডউইথ আসছে। এই কেবলে কোন কারণে সমস্যা দেখা দিলে সিমিউই-৫ কেবলের মাধ্যমে বিকল্প পথে ব্যান্ডউইথ (ব্যাকআপ) আনা হবে।

বিএসসিসিএল সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৬৬ কোটি টাকা দেয়া হবে। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) দেবে ১৬৬ কোটি টাকা। বাকি ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ সহযোগিতা দেবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বিকল্প আরেকটি কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ আনার জন্য সি-মি-উই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামের সদস্য পদ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সিউই-৪ এর (সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) কেবলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এই কেবলের মালিক হচ্ছে ১৬টি দেশ। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালী, তিউনিশিয়া, আলজিরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫ নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের মালিকও এই ১৬টি দেশ। কনসোর্টিয়াম ২০ হাজার কিলোমিটার সি-মি-উই-৪ কেবলের ‘আপগ্রেডেশন’ বা উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। এখন দেশে বাড়তি ১৬০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ৪৪ দশমিক ৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। বাড়তি ১৬০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পেতে ৫০ কোটি টাকা কনসোর্টিয়ামকে বিএসসিসিএল পরিশোধ করেছে। আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হতে পারে ৩৭ দশমিক ০৭৫ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সরকার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমালেও গ্রাহক পর্যায়ে ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হচ্ছে না। গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্য নেয়া হচ্ছে। এটা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে মনে করেন তারা। ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর দাবি অনেক দিনের। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর জন্য বলেছেন। এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ স্বল্প মূল্যে গোটা দেশে পৌঁছে দিতে আরও দুটি সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুটি সাবমেরিন কেবল দেশের সঙ্গে যুক্ত হলে ‘কানেকিটভিটি’ বহু গুণ বাড়বে। বিদেশীরাও এ দেশে কলসেন্টারসহ ইন্টারনেট কেন্দ্রিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে। তখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে কে কত কম দামে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে সেই চেষ্টাই থাকবে। প্রতিযোগিতা হলে স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমবে। এখন তো শুধু সরকারীভাবে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারী পর্যায়ে সাবমেরিন কেবল কোন কারণে ত্রুটি বা কাটা পড়লে বিকল্প কেবলের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইন্টারনেট যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

আন্তর্জাতিক সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ, দেশের অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ (ডাটা ও ভয়েসের ক্ষেত্রে) চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সফটওয়্যার রফতানি, ডাটা এন্ট্রি ও ফ্রি-ল্যান্সিংসহ সার্বিক তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে। সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ইতালি পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হবে। ১৬টি দেশের ১৬টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক একটি কনসোর্টিয়ামের অধীনে সাবমেরিন কেবল সিস্টেম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমরিাত, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় স্থাপিত ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত কেবল সংযোগ স্থাপন করা হবে। এখান থেকে ৩শ’ কিলোমিটার কেবল সংযোগ হবে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে।

উল্লেখ্য ২০০৫ সালে একই কনসোর্টিয়ামের অধীনে সি-মি-উই-৪ নামে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ঢাকার মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জে সাবমেরিন কেবল সংযুক্ত হয়। আরও একটি কেবল স্থাপনের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।