১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইসকন মন্দিরে হামলা বীরগঞ্জে অস্ত্রসহ আরও একজন আটক

ইসকন মন্দিরে হামলা  বীরগঞ্জে অস্ত্রসহ  আরও একজন আটক

সাজেদুর রহমান শিলু, দিনাজপুর থেকে ॥ কাহারোলে ইসকন মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার মোসাব্বিরুল হক (২২) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি একে পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল ও ৪২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণের রাস মেলায় বোমা হামলার পাঁচদিন যেতে না যেতেই ইসকন মন্দিরে হামলা হিন্দু সমাজকে ব্যথিত করেছে। এর আগে দিনাজপুরে ঘটে যাওয়া চারটি জঙ্গী ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন। ইসকন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, ৩০ নবেম্বর জেলা ইসকনের সভাপতি ডাঃ বীরেন্দ্র নাথ রায়কে হত্যার উদ্দেশে গুলি ও ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঐতিহাসিক কান্তজিউ রাস মেলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার না করার কারণেই একের পর এক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর এবং মন্দিরে হামলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারকে বিব্রত করা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতেই একটি চক্র একের পর এক এই জঘন্য হামলা চালাচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার পর দিনাজপুরে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইসকন মন্দিরের পাশের গ্রামের ৮৩ বছরের বৃদ্ধ সুবল চন্দ্র স্থানীয় ভাষায় বলেই ফেললেন, ‘বাপ-দাদার জন্ম যে ভিটাত, সেইটেও বোধ হয় আর থাকা যাবে নাই বাহে’।

কাহারোলে ইসকন মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আটক করা হয় দু’জনকে। বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবর্ষণে আহত দু’জন হলেন বোচাগঞ্জের ইশানিয়া গ্রামের রেবতী মোহন রায়ের পুত্র রঞ্জিত কুমার রায় (২৮) ও কাহারোলের সৈয়দপুর গ্রামের সরেন রায়ের পুত্র মিঠুন রায় (২২)। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোসাব্বিরুল হক (২২) নামে এক তরুণকে গ্রামবাসী আটক করে। মোসাব্বিরুল লালমনিরহাট সদর উপজেলার শওকত আলী নামে একজন গ্রাম্য চিকিৎসকের পুত্র বলে জানা গেছে। আটক তরুণ নিজেকে বাঁচাতে গুলি চালালে বীরগঞ্জের সিংড়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি একে পয়েন্ট ২২ বোর আগ্নেয়াস্ত্র (রাইফেল) ও ৪২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ রফিকুল ও গণপিটুনিতে আহত মোসাব্বিরুলকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটক দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আটককৃতরা পূর্বের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত কিনা তাদের সঙ্গে বিভিন্ন যোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করবে। এদিকে ঘটনার পর থেকে র‌্যাব ও সিআইডি সদস্যরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করলেও কোন পুলিশ সদস্যকে শুক্রবার ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই হামলার প্রতিবাদে ইসকনের ভক্তরা শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয় ইসকন মন্দিরের পাশে জয়নন্দহাটে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় কারা, কিভাবে জড়িত তদন্ত নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত বলা যাবে না। আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাকিদেরও আটক করা হবে। যারা শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের কোনক্রমেই ছাড় দেয়া হবে না।

নির্বাচিত সংবাদ