২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইসি অনড় ॥ নৌকা প্রতীকে কোন প্রার্থী থাকছেন না শরীয়তপুর পৌরসভায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দলীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ইসি। ফলে শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে এ পৌরসভায় নৌকা মার্কা নিয়ে কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না। আইন অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর অধীনেই দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফারুক আহম্মেদ তালুকদারকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত ইসির পক্ষ থেকে এ দাবি নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

ইসির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে পৌর নির্বাচনের আইন ও বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী কাউকে এ পর্যায়ে আর দলীয় প্রার্থী করার আইনগত সুযোগ নেই। ইসির সহকারী সচিব মোঃ রাজীব আহসান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালকে দলীয় প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়। এ পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহম্মেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার দায়িত্ব রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র নিয়ে রফিকুল ইসলাম ৩ ডিসেম্বর শরীয়তপুর পৌরসভায় মেয়রপদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বাছাইয়ে তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী দলের পক্ষে একজন মাত্র প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এর বাইরে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হলেও সে দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করার কথা রয়েছে। কিন্তু গত ৫ ও ৬ ডিসেম্বর বাছাইয়ে রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলে দলের পক্ষে আর কারও মনোনয়নের কোন সুযোগ না থাকলেও ৭ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহম্মেদকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দলীয় প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে দলীয় প্রতীক বরাদ্দে অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যয়নপত্র দিলেও শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে ইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০১৫ এর ১২ এর উপ-বিধি ৩ এর দফা (গ) এর উপ-দফায় (ইইই) বলা হয়েছে, কোন রাজনৈতিক দল পৌরসভায় মেয়রপদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে ওই দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। এবারই প্রথম দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের আইন পাস করা হয়। সংশোধিত এ আইন অনুযায়ীই মেয়রপদে দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে সবাই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাইবাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সীমিত আকারে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামীকাল ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামবেন। দলীয় প্রার্থীদের জন্য দলীয় প্রতীকই বরাদ্দ থাকছে।

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রত্যেক রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ইসিতে জমা দেয়া হয়। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কারও প্রত্যয়ন ইসি গ্রহণ করেনি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রত্যয়ন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা মোঃ শাহজাহানের সই করা প্রত্যয়নপত্রসহ মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কছে জমা দেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রত্যয়ন করেন পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নিজেই। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আগেই জানিয়ে দেয়া হয় কোন রাজনৈতিক দল কোন পৌরসভায় একাধিক ব্যক্তিকে মেয়রপদে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবে না। একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় সেই দলের সব মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।

তবে ইসির এ ঘোষণায় রাজনৈতিক দলগুলো আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত আইন মেনে সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একজন করে প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে একজনের মনোনয়নের কারণে ইতোমধ্যে বিএনপির ১২ জন প্রার্থীর যাচাইবাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে এসব পৌরসভায় নতুন করে আর কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগেরও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুর পৌরসভার দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন রয়েছে। তবে রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও পরে শেখ হাসিনা চিঠি দিয়ে দলের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহম্মেদ তালুকদারকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য চিঠি দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ চিঠির কারণে ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার সমালোচনা করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমালোচনা করে বলেন, পৌর নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়েই আচরণবিধি লঙ্ঘনের সূচনা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার সমালোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ইসির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দে চিঠির অনুমোদন দেয়া হয়নি। ফলে পৌরসভায় রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হলে আর কেউ নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিধিতে যা বলা রয়েছে তা-ই হবে। আইন-বিধির বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা আইন-বিধি মোতাবেক কাজ করব।

এর আগেও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নাচক করে দেয়। তফসিল ঘোষণার পর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পৌর নির্বাচন পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানায়। অনুরূপ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে এমপিদের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে গত ৩০ নবেম্বর কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধ না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশন থেকে জানানো হয় আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনে এমপিদের প্রচারে নামার কোন সুযোগ যেমন নেই, তেমনি সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে বলা হয় পৌর নির্বাচন পেছানোরও কোন সুযোগ নেই।