২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আড়াইহাজারে নিহত পাঁচ ডাকাতের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর

  • অন্য তিনটি মর্গে ॥ পুলিশের মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামবাসী

মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ আড়াইহাজারে পুরিন্দা বাজারে চালের আড়তে ডাকাতির সময় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে আট জনের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ জনের লাশ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) জহিরুল ইসলাম। অপর তিনটি লাশ মর্গে রয়েছে। এদিকে, আট ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার লোকের নামে মামলা করায় গ্রামবাসীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার পুরিন্দা বাজারে ডাকাতির সময় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত ৮ ডাকাতের মধ্যে ৫ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনের লাশ হস্তান্তর করে। ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার আলমপুর এলাকার ওবায়দুল হকের ছেলে ট্রাকচালক নিহত রাজিব ওরফে রনির লাশ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী নাজমা বেগম, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুনারপাড় গ্রামের মজিবর মিয়ার ছেলে জুয়েল ওরফে টিটুর লাশ গ্রহণ করেন তার বাবা নিজেই, একই জেলার একই থানার ভাটিবাড়েরা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে রুবেলের লাশ গ্রহণ করেন তার মামা সেলিম, একই জায়গার মৃত শহর আলীর ছেলে সোহাগের লাশ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই শওকত উল্লাহ ও একই এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে ছোটনের লাশ গ্রহণ করেন বড় ভাই খোকন মিয়া।

নিহত ছোটনের বড় ভাই খোকন মিয়া জানান, তার ছোট ভাই ছোটন বাড়িতে বাবার সঙ্গে কৃষি কাজে সহযোগিতা করত। ঘটনার আগের রাতে টেলিফোনে তাদের পরিবারের লোকজনকে জানায়, সে বন্ধুদের সঙ্গে গাজীপুরে বেড়াতে যাচ্ছে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে চুরি বা ডাকাতির কোন অভিযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তাদের ধারণা, বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সে এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ জহিরুল ইসলাম আরও জানান, নিহত এবং আহত প্রত্যেকেই আন্তঃজেলা ডাকাত জেলা দলের সদস্য। তারা পেশাদার ডাকাত। আটককৃত ডাকাতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় ১৮ জন জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত লোকমানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনার হোতা ছিল নিহত সোহাগ। তিনি আরও জানান, নিহত অপর তিনজনের লাশ মর্গে আছে। তবে নিহত আরেক জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম দুলাল। তার বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। তার লাশ নিতে তার আত্মীয়স্বজনা নারায়ণগঞ্জে আসছেন বলে রাতে ঐ এএসপি এ প্রতিনিধিকে জানান।

এদিকে আড়াইহাজারে বিগত দিনে চালের আড়তে, বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তাঘাটে ও মহসড়কে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন। এতেও স্থানীয় বাসিন্দারা ডাকাতদের প্রতি দিন দিন ফুঁসে উঠতে থাকে। গত নবেম্বর মাসে আড়াইহাজারে চার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ৫ নবেম্বর রাতে আড়াইহাজারের হাইজাদী ইউনিয়নের আশারামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ডাকাতরা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ১৬ নবেম্বর রাতে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নিজেরপাড়া গ্রামে এবং হাইজাদী ইউনিয়নের বারআনি গ্রামে ডাকারিত ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা দু’বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা-পয়সাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ১৭ নবেম্বর রাতে দুপ্তারা ইউনিয়নের মানেহর গ্রামের প্রবাসী জুয়েলের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা নগদ ৭ লাখ টাকা ও ৭ স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এভাবেই আড়াইহাজারে ডাকাতির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন ছিল ক্ষুব্ধ। তাই অনেকে মনে করছেন ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েক গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে পিটিয়ে ৮ ডাকাতে হত্যা ও ৪ ডাকাতকে আহত করেছে।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে পুরিন্দা বাজারে গণপিটুনিতে আট ডাকাত নিহত ও চার ডাকাত আহত হওয়ার ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে চাউলের আড়তে ডাকাতির ঘটনায় ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক এম এ গফুর বাদী হয়ে নিহত ৮ ও গ্রেফতারকৃত ৪ জনসহ ২০Ñ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রামবাসীর মধ্যে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আড়াইহাজার থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আমরা এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। আহত ও গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে বলে তিনি জানান।