২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজয় দিবসে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে কোটি কণ্ঠে

  • বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির কর্মসূচী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে এবারের বিজয় দিবসে কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের ডাক দিয়েছে ‘বিজয় দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি।’ এদিন দেশসহ সারাবিশ্বের প্রবাসী বাঙালীরা একযোগে গাইবেন প্রাণের সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’। শুক্রবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিজয় দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে সারাদেশে একযোগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে আত্মসমর্পণ করেছিল বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী। এই বিজয়ের স্মৃতিকে ধরে রাখতেই এ আয়োজন। ২০১৩ সাল থেকে ঠিক এ সময়েই সারাদেশসহ বিশ্বব্যাপী লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিজয়ের উৎসবকে আগামীর প্রত্যয়ে পরিণত করে আসছে জাতীয় কমিটি।

এ বছর দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-গ্রামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে একযোগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পাশাপাশি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশীদের এ কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান ইমরান।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, এবার কেবল লাখো কণ্ঠে নয়, কোটি কণ্ঠে বিশ্বব্যাপী জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিকামী সকল মানুষ। জাতীয় সঙ্গীতের পবিত্র সুরে বিশ্বব্যাপী প্রতিহত করবেন যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদী অপশক্তিকে। শপথ নেবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপ্রসূত শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, এ বছর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয়োৎসবের উদ্বোধন হবে ১৬ ডিসেম্বর বেলা ১১টায়। উদ্বোধন করবেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমাদের সংস্কৃতি।’ এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে কোটি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে হবে ‘আগামী বাংলাদেশের শপথ।’ শপথবাক্য পাঠ করবেন বিজয় দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের কণ্ঠে মুক্তিযুদ্ধের গান। এরপর আছে ‘বিজয় আতশ সন্ধ্যা।’ সবশেষে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিজয় মঞ্চে হবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদলের অংশগ্রহণে ‘কনসার্ট ফর ফ্রিডম।’

ইমরান এইচ সরকার বলেন, স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছরে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে এসেছে সামনে, তেমনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির হিংস্র থাবা’ বার বার আক্রান্ত করেছে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে। একদিকে একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে, তেমনি একাত্তরের মতোই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতার সপক্ষের লেখক-প্রকাশকসহ মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যা করছে।

তাই এবার আরও সাহসী, আরও প্রাণবন্তভাবে বিজয় দিবস উদ্যাপনের আহ্বান জানান কমিটির সদস্য সচিব।

বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল বারকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ভাস্কর রাসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেন, সঙ্গীতা ইমাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।