২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যের ডাক দিলেন জয়

দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যের ডাক দিলেন জয়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হই। উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত আর জাতীয় সেøাগান নিয়ে এগিয়ে যাই। তবে শুধু বাদ দেব যারা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস যুদ্ধাপরাধী। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদ। তাদের আমি চাই না। আর যারা যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় পতাকা দিয়েছেন, জঙ্গীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয় তাদের আমি চাই না। এছাড়া আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমার আশা বাংলাদেশের সব বাঙালী মুসলমান, হিন্দু, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, নাস্তিক সবাই বাংলাদেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ ঐক্যের ডাক দেন। সভাটির আয়োজন করে সুচিন্তা বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত। বক্তব্য রাখেন শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, মুক্তিযুদ্ধকালীন ক্রিকেটার রকিবুল হাসান প্রমুখ।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কোন আপোস নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কোন আপোস হবে না। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কাজ চলছে। অনেকেই এ বিচার বন্ধের জন্য চেষ্টা করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের মধ্যেই কত সন্দেহ! কাদের মোল্লার যখন যাবজ্জীবন হলোÑ আমাদের মধ্যেই এতো মানুষ হতাশ হলেন। অনেকেই বলতে লাগলেন যে, আওয়ামী লীগের জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে! এটি কি বিশ্বাস করা সম্ভব যে আওয়ামী লীগ একাত্তরের ঘাতক জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে ফাঁসি দেবে না?

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি সাকার (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) বিচার নিয়ে হতাশা ছিল, ভয় ছিল অনেকের। কেননা, এতে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ছিল। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম বিচার কবে হবে, রায় কবে হবে। একবার যখন ফাঁসির রায় এসে গেছে, তখন বোধহয় আর সন্দেহ ছিল না, এবার ফাঁসি হবেই হবে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর করবেনই। পৃথিবীর কোন শক্তি নেই সেটা রুখে দেবে। তিনি বলেন, সাকা-মুজাহিদ পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন, এটা পাকিস্তান প্রমাণ করে দিয়েছে। একাত্তরে মানুষ হত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত। এজন্য তাদের কাছে অফিসিয়ালী দাবিও করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেন, বিচার কাজ চলছে, অর্ধেক যুদ্ধাপরাধীর রায়ও হয়েছে। বাকিগুলোও যেন সমাপ্ত করতে পারি, সেজন্য স্বাধীনতা পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় না থাকলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ হয়ে যাবে। বোমা হামলা হবে-জঙ্গীবাদ বৃদ্ধি পাবে। দেশে কেউ-ই নিরাপদ থাকবে না। এজন্য স্বাধীনতা পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, আনতে হবে। যখনই নির্বাচন হোকÑ আগামীতেও নির্বাচন আছে। সেই নির্বাচনে যারা স্বাধীনতা পক্ষের নেতৃত্বে দেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদেরই ক্ষমতায় আনতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়ন হবে।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমাদের রাজনৈতিক জীবনে যা দেখেছি, স্বাধীনতার চেতনার বিশেষজ্ঞ যারাÑ তাদের মেধা বুদ্ধি জানাতে তারা কিন্তু আওয়ামী লীগের ভুল ধরতে চেষ্টা করেন। যত ভালই করিÑ তাদের কথা হচ্ছে আরও করা উচিত। আরও করা যেত। যত ভালই করি না কেন, আরও ভাল করা যায়। কোন কিছুই ১০০ শতাংশ ভাল হয় না। এমন কেউ কি আছেন ভুল হয় না। আরও ভাল করবো এর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাব।

কিছু সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কাজের সময় কিন্তু ভাল মানুষ পাওয়া যায় না। বুদ্ধিজীবী, সুশীলদের বলবÑ আসুন কাজ করুন, বসে আছেন কেন? তিনি বলেন, আমাদের বুদ্ধিজীবী সুশীলরা একটি শব্দ ব্যবহার করেন, ন্যাশনাল কনসান্স (জাতীয় ঐক্যমত)। তারা চান ন্যাশনাল ডায়লগ (জাতীয় সংলাপ) করতে। আমার প্রশ্ন যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, পুনর্বাসন করেছে, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেÑ এদের সঙ্গে কী আমাদের কনসান্স হবে? আজকে এই হলরুমে প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত আছেন, সবাই কী একটি বিষয়ে একমত হবেন?

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বলেন, শুধু দোষ খুঁজলে হবে না। আওয়ামী লীগের ভুল হচ্ছে, দেশ গেল-গেল, এসব বলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। শুধু সমস্যা নিয়ে বললেই হবে না। সমস্যা সমাধানের পথও দেখিয়ে দিতে হবে। আমি সমালোচনা-আলোচনার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। যারা আমাদের বুদ্ধি দিতে আসেন, তাদের বলব, আপনারাও একটু কাজ করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় দু’টো কাজ করলো। জয় বাংলা আওয়ামী লীগের সেøাগান নয়Ñ কিন্তু তারা আরেকটা সেøাগান দাঁড় করালো। সেই পাকিস্তানের সেøাগান জিন্দাবাদ দাঁড় করালো। বিএনপি ক্ষমতায় এসে জোর করে, নতুনভাবে জাতির পিতা দাঁড় করানোর চেষ্টাও করলো। জাতীয় পতাকা যে পাল্টে ফেলেনি, জাতীয় সঙ্গীত যে পাল্টে ফেলেনি এজন্য কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত তাদের। কেননা বিএনপি আরও ক্ষমতায় যদি থাকতো, তবে উর্দুতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হতো।