২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে পুলিশ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় বিতর্কের মুখে কলেজ শিক্ষক

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে পুলিশ অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থেকে অর্থ কামাই করছে এমন মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সরকারী কলেজের এক শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বলে দাবি চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের। এই শিক্ষক আন্দোলনরত ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তুলে অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েছেন কলেজ মিলনায়তনে। ছাত্রীদের ছবি তুলে মানহানিকর ঘটনা ঘটানোর পরও দম্ভোক্তি করছেন এ শিক্ষক। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করার মতো হয়রানিমূলক ভয়ভীতি দেখিয়ে খুলশী থানায় পুলিশ পাঠাতে ফোন করেছেন বলে অভিযোগ করে ভীতসন্ত্রস্ত্র শিক্ষার্থীরা। অডিও রেকর্ডেই প্রমাণ মিলবে এ শিক্ষকের দম্ভোক্তি ও পুলিশের বিরুদ্ধে করা বিরূপ উক্তির। কিন্তু অনৈতিকভাবে শ্রেণীকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করানোর নীলনক্সা প্রমাণ হওয়ায় পিছু হটে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত ৬৬৬ শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের অর্থ জমাদানে স্লিপ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্দোলনরত শত শত শিক্ষার্থী হাতে হাত ধরে রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সড়কে বসেই এসব শিক্ষার্থী নীরব প্রতিবাদ শুরু করে পরীক্ষার ফি জমা স্লিপ পাওয়ার দাবিতে। খুলশী থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যারিকেড তুলে নেয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক জাহিদের কটূক্তিমূলক বক্তব্যের কারণে শিক্ষার্থীরা অনড় ছিল।

শিক্ষক জাহিদ সরকারী কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ আদায়ের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের মামলার ভয়ও দেখিয়েছেন এ শিক্ষক। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের হয়রানির চেষ্টা অডিও রেকর্ডে ধারণকৃত।

শিক্ষক জাহিদ ওই বক্তব্যে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কথায় কলেজ চলবে না, কলেজ প্রশাসনের কথায় চলবে। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশে চাকরি করি না, ঘুষ দিয়ে দিলে সবকিছু জায়েজ হয়ে যাবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তোমরা যেহেতু কলেজে আস না প্রিন্সিপালও চেন না, শিক্ষকও চেন না।

এ ব্যাপারে খুলশী থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত দাশ জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যারিকেড তুলে নেয়ার জন্য ও শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি শিক্ষকরা মেনে নেয়ার কথা বললে তারা ব্যারিকেডও তুলে নেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ছিল না। কিন্তু কলেজ শিক্ষক পুলিশ বিভাগকে উদ্দেশ্য করে যে উক্তি করেছেন এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারী কর্মকর্তা এভাবে একটি বাহিনী নিয়ে কথা বলতে পারেন না।