১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে ছাত্রীসহ দুই নারীর আত্মহত্যা

  • গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর শেরেবাংলানগর ও কাফরুলে এক ছাত্রীসহ দুই নারী আত্মহত্যা করেছে। হাজারীবাগে স্বামীর ছোড়া গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে কাফরুল থানা এলাকায় ফারজানা আক্তার সীমা (২১) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকালে ১১টার দিকে কাফরুল থানার পশ্চিম বাইশতেকি একটি বাসা থেকে ফারজানার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামীর নাম জুয়েল রানা। গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন পরিবার ধারণা করছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানী শেরেবাংলানগরে একটি বাড়িতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লোপা খাতুন (২০) নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে। লোপার বাবা সুলতানুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার কাজলীবাজার গ্রামে। সে শেরেবাংলানগরের ১১৮/১১৯, আলী সর্দার টাওয়ারে থাকত। নিহতের ভগ্নিপতি মনোয়ার হোসেন মুন্না জানান, লোপা বকশীবাজার সরকারী বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পাস করার পর তিতুমীর কলেজে অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে লোপা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। টের পেয়ে দ্রুত তাকে সেখানে থেকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে লোপা খাতুন ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে লোপা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। দুপুরে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বামীর ছোড়া গরম পানিতে ঝলছে যাওয়া গৃহবধূর মৃত্যু ॥ রাজধানীর হাজারীবাগে স্বামীর ছোড়া গরম পানিতে ঝলসানো গৃহবধূ সারা আক্তার (২৫) অবশেষে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাবার নাম সোলায়মান মিয়া। গ্রামের বাড়ি জেলার রায়পুর থানার দেনায়েপুর। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানিয়েছিলেন, গরম পানিতে ওই গৃহবধূর শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আলিমুজ্জামান জানান, গত রবিবার হাজারীবাগে সকালে ভাড়া বাড়ির মালিকের সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে গরম পানি দিয়ে স্ত্রীর মুখম-ল ঝলসে দেয় মাদকাসক্ত স্বামী। এ ঘটনার পর তার স্বামী ইউসুফ পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ওসি জানান, এ ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ সারা আক্তার জানিয়েছিলেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে তার স্বামী ইউসুফ মোহন (৩৫) চুলা থেকে গরম পানি নিয়ে তার মুখম-লসহ শরীর ঝলসে দেয়।

এই মাত্রা পাওয়া