১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কাঁচা বাজারে ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ সবজি। শীতের টাটকা সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। শ্রাবণÑভাদ্র মাসের বর্ষায় এ বছর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সবজি ক্ষেতগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় আলু ব্যতিত ৬০-৮০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যায়নি। শীতকালীন সবজি বাজারের সেই অভাব ঘুচিয়ে দিয়েছে। এতে ক্রেতারাও আছেন স্বস্তিতে। সরবরাহ যেভাবে বাড়ছে তাতে এবার শীতের সবজি বেশ সস্তায় পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া রাজধানীর বাজারে দেশী পেঁয়াজ বাদে নতুন ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়, আমদানিকৃত ৩৫-৪০ এবং নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা কমেছে। এ সপ্তাহে দাম বৃদ্ধির তালিকায় আছে খোলা সয়াবিন তেল, ব্রয়লার মুরগি ও চিনি। প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭৬-৮০ টাকায়। এছাড়া ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১৩০ টাকায়। বাজারে অধিকাংশ মাছের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, ডিম ও আটার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগ বাজার ও ফকিরাপুল বাজার নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফকিরাপুল বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ২৫-৩০, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা যা গত সপ্তাহে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। শিম কেজি ৩০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা, মুলা কেজি ২০ টাকা যা গত সপ্তাহে ২৪ টাকা ছিল। এছাড়া লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের দামও কমে আসছে। তবে দাম কিছুটা বেড়ে শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল কেজি ৪০ টাকা ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০ টাকায়।

ফকিরাপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা জয়নাল জানালেন, সরবরাহ বাড়ায় শীতকালীন সবজির দাম কমে আসছে। এতদিন ৫০ টাকার ওপরে ছিল সবজির দাম আর এখন তা ৫০ টাকার নিচেই কিনতে পারছেন ক্রেতারা। তবে সামনের দিকে দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে এ বছর সবজির উৎপাদন বেশি হয়েছে। বর্ষায় অধিকাংশ সবজিক্ষেত নষ্ট হওয়ার পর চাষীরা ফের শীতকালীন সবজি আবাদ করে। সেই সবজি এখন বাজারে। তাই আগামীতে দাম আরও কমবে।

এদিকে, মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে। ছোট প্রতিকেজি ১১০-১২০ টাকা, বড় ১৪০ টাকায়, রুই মাছ দেশী কেজি ১৮০ টাকা, ভারতীয়টি কেজি ২৫০ টাকা, কাতল মাছ কেজি ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০-১২০ টাকা, গ্রাসকার্প ১২০-১৫০ টাকা, কার্ফু মাছ ১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১১০-১২০ টাকা, রূপচাঁদা ৫০০ টাকা, চিংড়ি ছোট সাইজের ৩০০ টাকা ও বড় ৫৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। জাটকা সাইজের প্রতিজোড়া ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়। এছাড়া মাঝারি সাইজের প্রতিপিস ইলিশ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের মাছ বিক্রেতা রায়হান জানালেন, মাছের সরবরাহ কম। তাই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহনাগাদ দাম কমে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

এছাড়া শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে হাঁসের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।