২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানব পাচার, ৩ জন গ্রেফতার

  • এক অস্ট্রেলীয় জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানব পাচারের মূল ভূমিকা পালন করছে এক অষ্ট্রেলীয় নাগরিক। তার নাম মি. জন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানবপাচারের অভিযোগে আটককৃত কয়েকজন দালালকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমনই তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া পল্লবী থানা থেকে পালিয়ে গেছে মানবপাচারের এক আসামি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা, বনানী ও তাঁতীবাজার এলাকা থেকে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ডিভিশন ১৫ লাখ টাকাসহ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন- মোঃ আজাদ (২৭), ফিরোজ আহমেদ (২৮) ও কৃষ্ণ পোপাল দে (৩৮)। গ্রেফতারের সময় কৃষ্ণ গোপালের শরীরে ‘বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা’ অবস্থায় পনেরো লাখ টাকা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বেতনে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর নামে কয়েকজনকে তারা ইন্দোনেশিয়ায় পাচার করে। আন্তর্জাতিক এই চক্রের সঙ্গে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও রুমানিয়ান বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও জড়িত। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হেল বাকি জানান, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর ‘ভিকটিমদের’ সেখানে আটকে রাখা হয়। তাদের পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগিয়ে বলা হয়, কয়েকদিনের মধ্যে তাদের নিউজিল্যান্ডে নেয়া হবে। এভাবে কিছুদিন আটকে রেখে পাচারকারীরা বাংলাদেশে ‘ভিকটিমদের’ পরিবারকে চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল বলে জানান তিনি। ডেমরা থানার কাওছার আহমেদ নামের এক ব্যক্তি গত নবেম্বরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হন। নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে কাওছারের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় ১৩ লাখ টাকা। অনেক কৌশল করে ঢাকায় ফেরার পরও চক্রটি পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে আসছিল বলে কাওছার পুলিশকে জানিয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশী নাগরিকদের বিভিন্ন দেশে পাচার প্রক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ওই নাগরিক জড়িত রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। মি. জন নামে অস্ট্রেলিয়ার ওই নাগরিক মানবপাচারের একটি চক্রের মূল হোতা। তার চক্রে কয়েকজন বাংলাদেশী ছাড়াও বেশ কয়েকজন ভারতীয় ও ইন্দোনেশীয় নাগরিক জড়িত।

শুক্রবার সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইম ডিভিশনের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকি জানান, চক্রটি শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানবপাচার পরবর্তী ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। তারা এ পর্যন্ত অনেক বেকার যবুক-যুবতীকে দেশের বাইরে পাচার করে। ঠিক কতজন এই চক্রের ভিকটিম হয়েছে এ সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে। আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে। এদের অন্য সহযোগীদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

থানা থেকে পালিয়েছে এক আসামি ॥ এদিকে, পল্লবী থানা থেকে মানবপাচার মামলার এক আসামি পালিয়ে গেছে। তার নাম আতিকুর রহমান সূর্য। তার বাড়ির ঠিকানা জানা যায়নি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জিল্লুর রহমান নামে থানার এক এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার কাইয়ুম-উজ-জামান। তিনি বলেন, সূর্যকে গ্রেফতারের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন এসআই জিল্লুর। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আসামিকে রেখে তিনি শৌচাগারে যান। এই সুযোগে আসামি পালিয়ে যায়।