১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোগী দেখতে বাধা দেয়ায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি এক রোগীকে দেখতে যেতে বাধা দেয়ার জের ধরে ভাংচুর চালিয়েছে রোগীর আত্মীয়স্বজন।

গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা এই ভাংচুর করেন। ওসি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদারের এক ভাই দীর্ঘদিন ধরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৬ দিন আগে অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ওই রোগী মারা গেলেও বিল বাড়ানোর জন্য তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে- এমন কথা শোনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন স্বজন তাকে দেখতে যান। এ সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই রোগীর স্বজনরা নিচে নেমে এসে ভাংচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি জানান, হাসপাতালের নিচতলায় ফ্রন্ট ডেস্ক, কম্পিউটার, ভেতর-বাইরের গ্লাস ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙ্গা হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন ধরে রোগীকে দেখতেও দিচ্ছে না। আবার রোগীর সর্বশেষ তথ্যও দিচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, গত ১৫-১৬ দিন ধরে সে তথ্যও জানায়নি কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, রোগীর সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রোগীকে দেখতে আইসিইউতে যেতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রোগীর স্বজনরা জানান, যেহেতু আমাদের দেখতে দিচ্ছে না তাই মনে হয়েছে রোগী হয়ত মারা গেছে। বিল বাড়ানোর জন্য দেরিতে খবর দিচ্ছে- এমন সন্দেহ হওয়ায় রোগীকে দেখতে চেয়েছি। দেখতে না দেয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। এ কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার আধা ঘণ্টা পরই হাসপাতালে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি সাংবাদিকদের জানান, উভয়পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ভাংচুরের বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পুরো ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

এদিকে, রাত ১টার দিকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের চীফ ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডাঃ মাহবুব উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ভাংচুর পুলিশের সামনেই হয়েছে। তিনি ভাংচুরের চিত্র সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, কী তা-ব চালানো হয়েছে সব তো আপনারা এসে দেখতে পাচ্ছেন। ভুল বোঝাবুঝি থেকে এতবড় ঘটনা অপ্রত্যাশিত। ডাঃ মাহবুব আরও জানান, ঘটনার সময় পুলিশও উপস্থিত ছিল। যারা ভাংচুর করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুযোগ ছিল। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভাংচুরে অন্য কেউ যোগ দিয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা আমি এখন বলতে চাই না। যে বা যারাই হামলা করেছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। হাসপাতালের সম্পদ এভাবে নষ্ট করা ঠিক হয়নি।