১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তাহীনতায় পশ্চিমা বিশ্ব

  • সন্ত্রাসবাদ ও অভিবাসন সঙ্কটে উত্থান ঘটছে ট্রাম্প ও লি পেনের মতো কট্টর ডানপন্থীদের

সাধারণ মানুষের ওপর ইসলামপন্থী জঙ্গীদের গুলিবর্ষণ, অভিবাসীদের আগমনে ইউরোপীয় দেশগুলোর সীমান্ত রেখা মুছে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শ্রমিকদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়া এবং উচ্চ শ্রেণীর আরও ধনী হওয়া এসব কিছু পাশ্চাত্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে এ পরিবেশের তুলনা করা যায়। এ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের ম্যারিনলি পেন এবং হাঙ্গেরির ভিক্তর ওরবানের মতো এক নতুন প্রজন্মের ডানপন্থী পপুলিস্ট (মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগায় এমন) রাজনীতিকরা পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধি করছেন।

তাদের অনেকে (যেমন-ট্রাম্প) মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও কৃষ্টিগত সত্তার প্রতি এক হুমকি হিসেবে অভিহিত করে প্রচার মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। বামপন্থী সমালোচকরা পপুলিস্টদের বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের ফাসিস্টদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে এমন কারও কারও যেমন অস্টিয়ার ফ্রিডম পার্টি এবং গীসের গোল্ডেন ডনের সুনির্দিষ্টভাবেই নব্য নাৎসীবাদী ভিত্তি রয়েছে।

সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা বা ইউরোপীয় অভিবাসী সঙ্কট মুসলিম অভিবাসনের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করার আগে পপুলিস্টরা ও শ্রমজীবী ভোটারদের স্বার্থের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যিক রক্ষণবাদী বা অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী হিসেবে সমর্থনভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। এসব ভোটার প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রতি বিমুখ হয়ে উঠেছিল। আর প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত দলগুলো পপুলিস্ট নেতাদের মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূল ধারার ভোটারদের ডানপন্থীদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপে গত দু’বছরে বড় রকমের লাভবান হয়েছে এমন ডজন খানেকেরও বেশি দলের মধ্যে লি পেনই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

চলতি সপ্তাহে তার ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি ফ্রান্সের আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটের সবচেয়ে বড় অংশ শতকরা ৩০ ভাগ লাভ করে। এতে তার ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেয়। তিনি তার ভাষায়Ñ ফ্রান্সের ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি ফ্রান্সের রাস্তায় মুসলিমদের নামাজ পড়াকে নাৎসী দখলদারিত্বের সঙ্গে তুলনা করেন।

কিন্তু লি পেন তার কৃষ্টিগত স্বাদেশিকতাকে শ্রমজীবী বা নিম্নমধ্যবিত্ত ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ দূর করার কর্মসূচীর সঙ্গে সংমিশ্রিত করেন। তারা বিশেষত ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কটের পর থেকে উচ্চমাত্রার বেকারত্ব, মজুরির স্থবিরতা ও আরেক ক্রমবর্ধমান অসমতার কারণে দুঃখকষ্টের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি এক নির্বাচনী সমাবেশে লি পেন প্রশ্ন করেন, তারা অভিবাসীদের জন্য রাস্তা থেকে সব প্রতিবন্ধকতা গুটিয়ে ফেলছে কিন্তু আমাদের অবসরপ্রাপ্তদের দিকে তাকাচ্ছে কে? তিনি বলেন, তারা বিদেশী জন্য দরিদ্রের অর্থ চুরি করছে, অথচ বিদেশীরা এখানে আসতে আমাদের অনুমতি পর্যন্ত চায়নি।

ট্রাম্প সোমবার ‘আমাদের দেশের প্রতিনিধিরা কি ঘটছে তা বিবেচনা না করা পর্যন্ত’ আমেরিকান সীমান্ত সব মুসলিমের জন্য বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানালে তাকে লা পেন ও তার মতো অন্যান্য ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

লা পেন এটা তার জন্য মাত্রাতিরিক্ত বলে উল্লেখ করেন। এর অন্যতম কারণ সম্ভবত এই যে, এতে বর্ণবাদী ও ইহুদিনবিরোধী বলে তার দলের আগের দুর্নাম দূর করতে তার অর্জিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তিনি এমন আশঙ্কা করেন। বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তাকে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনারা কি কখনও আমাকে এমন কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি ফ্রান্সের সব নাগরিককে রক্ষা করতে চাই, তাদের জন্মস্থান বা ধর্ম যাই হোক না কেন। Ñনিউইয়র্ক টাইমস