২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা

ভাষা আন্দোলনের অবিস্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের রচয়িতা ও বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর জš§দিন আজ। ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি বরিশাল জেলার উলানিয়ার চৌধুরী পরিবারে জš§গ্রহণ করেন। তার বাবা হাজী ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন। গাফ্ফার চৌধুরীরা তিন ভাই, পাঁচ বোন। বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৫৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সেলিমা আফরোজকে বিয়ে করেন। তাঁর এক ছেলে অনুপম আহমেদ রেজা চৌধুরী ও চার মেয়ে তনিমা, চিন্ময়ী, বিনীতা ও ইন্দিরা। পরিবার সম্পর্কে গাফ্ফার চৌধুরীর নিজের অভিমত, ‘আমাদের পরিবারটা ছিল একটি জমিদার পরিবার। সবাই বলত উলানিয়ার জমিদার বংশ। তখন বরিশালে মুসলিম জমিদার তেমন ছিল না বললেই চলে। শায়েস্তাবাদের নবাব বংশও ছিল আর একটি দুর্লভ মুসলিম জমিদার বংশ। পারিবারিকভাবে এদের সঙ্গে যুক্ত ডক্টর কামাল হোসেন। উলানিয়ায় আমাদের পারিবারিক জমিদারিটা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পারিবারিক জমিদারি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ট্যাগোর এস্টেটের অংশ ছিল। ১৯৫৪ সালে জমিদারি উচ্ছেদের সঙ্গে তাদের ভূ-স্বামিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়।’

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় উলানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায়। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৫৮ সালে বিএ অনার্স পাস করেন।

তাঁর সাংবাদিকতা শুরু হয় মূলত ১৯৪৭ সালে কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত ‘কংগ্রেস হিতৈষী’ পত্রিকায় কাজ করার মধ্য দিয়েই। ১৯৪৯ সালে ‘সওগাত’ পত্রিকায় তার প্রথম গল্প ছাপা হয়।

১৯৫০ সালে ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর দৈনিক সংবাদ, মাসিক সওগাত, মাসিক নকীব, দৈনিক ইত্তেফাক, মওলানা আকরম খাঁর দৈনিক আজাদ, দৈনিক জেহাদ, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় চাকরি করেন। এক সময় ‘অনুপম মুদ্রণ’ নামে একটি ছাপাখানাও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ সময় কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার, যুগান্তর পত্রিকায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কলাম লেখেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক জনপদ’ বের করেন।

১৯৭৪ সালে তিনি লন্ডনে চলে যান। এর পর তার প্রবাস জীবনের ইতিহাস। প্রবাসে সাপ্তাহিক বাংলার ডাক, সাপ্তাহিক জাগরণে কাজ করেন। ১৯৮৭ সালে সাতজন অংশীদার নিয়ে ‘নতুন দিন’ প্রকাশ করেন। ১৯৯০ সালে নতুন দেশ এবং ১৯৯১ সালে পূর্বদেশ বের করেন। প্রবাসে বসে এখনও বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন।

সাংবাদিকতার বাইরে একজন সাহিত্যিক হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। তাঁর চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ নামে কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’, ‘একজন তাহমিনা’ ও ‘রক্তাক্ত আগস্ট’। তাঁর ডকুড্রামা ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’ তুমুল আলোচিত। প্রবাসে বাস করলেও আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বাঙালী জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। আজ তাঁর ৮১তম জš§দিন। এই বয়সেও তারুণ্যে ঝলমলে তিনি। দীর্ঘদিন লেখালেখি করেও ক্লান্ত নন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্যে উচ্চারিত হয়েছে, ‘যতদিন বেঁচে আছি লিখে যাব। পাশাপাশি থাকতে চাই প্রতিটি বাঙালীর মাঝে।’ তাঁর জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। গাফ্্ফার ভাই শতায়ু হোন।

দুলাল আচার্য