২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আউটসোর্সিংয়ে কর্মসংস্থান

সংবাদপত্রে চাকরি না করে ফ্রিল্যান্সার বা প্রদায়ক হিসেবে অর্থোপার্জনের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে থাকেন দেশ-বিদেশের তরুণ প্রজন্ম। এখন তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং করেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ভাল রোজগার করছেন। অনলাইনে এই ফ্রিল্যান্সিংয়েরই পোশাকী নাম আউটসোর্সিং। এখন স্বাধীনচেতা, কর্মঠ তরুণদের মধ্যে এটি প্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে ঘরে বসে অর্থোপার্জনের এ কাজটি বর্তমান বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে চলে এসেছে। আর এ কাজের জন্য কেবল ইন্টারনেট সংযোগবিশিষ্ট একটি ল্যাপটপ থাকলেই হলো। কয়েক বছর হলো বাংলাদেশের তরুণরা সফলভাবে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার তরুণ মুক্ত পেশাজীবী (ফ্রিল্যান্সার) হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আউটসোর্সিংয়ে। অনিয়মিতভাবে যুক্ত আছেন আরও অনেকে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আইসিটিতে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ভারত, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা ব্যাপক আগ্রহের সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ে কাজ করছেন। ইন্টারনেটের কল্যাণে তারা এখন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পথ হাঁটছেন। আগামীদিনে এই তরুণরাই দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন। ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে সব বন্ধ দরজা। এখন বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশে উন্নয়ন ঘটবে।

সাম্প্রতিককালে দেশে আউটসোর্সিংয়ে ব্যাপকভাবে তরুণরা এগিয়ে আসার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব। আউটসোর্সিংয়ে ৫ বছরে কর্মসংস্থানের টার্গেট দুই লাখ করার পদক্ষেপ গ্রহণে অনুপ্রাণিত হবে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আউটসোর্সিংয়ে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণদের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে তারা আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, আইটি কোম্পানি গড়ে তুলতে পারে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবীর বাইরেও যে সম্মানজনক পেশা রয়েছে এটি উদাহরণ হতে পারে।

বাংলাদেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। তাদের ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। সাড়ে চার হাজার বেশি ইউনিয়নে তথ্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। বর্তমান সরকার গোটা দেশকে শতভাগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ৬৪টি জেলা ও ১৯৭টি উপজেলা ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাই ফাইবার অপটিক্যালের আওতায় আনা হবে। দেশের তরুণ-তরুণীরা বর্তমানে এই সেক্টর থেকে প্রতিবছর ২শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছেন। আশা করা যায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বেছে নিতে শুরু করেছে। ওদিকে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার খবরও শোনা যায়। ধারণা করা হয় এসব টাকার উৎস কর ফাঁকি ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত। এসব টাকা কোথায় কিভাবে যাচ্ছে তা অবশ্যই বের করতে হবে। একইসঙ্গে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে কাজে লাগাতে পারে।