২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোগসের দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে উড়ন্ত অস্ট্রেলিয়া

ভোগসের দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে উড়ন্ত অস্ট্রেলিয়া
  • হোবার্ট টেস্ট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এ্যাডাম ভোগসের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি ও শন মার্শের দারুণ এক সেঞ্চুরি এবং দু-জনের রেকর্ড পার্টনারশিপের ওপর ভর করে হোবার্ট টেস্টে রানের পাহাড় গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৪ উইকেটে ৫৮৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিক অসিরা। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর বোর্ডে ২০৭ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। ফলোঅন এড়াতে উইন্ডিজের চাই আরও ১৭৬ রান। ৯৪ রানে অপরাজিত থেকে অতিথিদের হয়ে ব্যাট হাতে লড়ছেন ড্যারেন ব্রাভো। ৩১ রান করে তার সঙ্গে আছেন কেমার রোচ। মাত্র দু-দিনেই দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটা টের পাচ্ছে জেসন হোল্ডারের দল।

ম্যাচ, লড়াই সব ছাপিয়ে হোবার্ট টেস্টের স্পটলাইটে ভোগস, পার্শ্ব চরিত্রে তার সঙ্গী হয়ে ঝলমল করছেন ১৮ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়া শন মার্শ। ভোগস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কবে ওয়ানডে খেলেছেন সেটি হয়ত তার নিজেরও মনে নেই! কে জানে সেই ক্ষোভটাই টেস্টে মেটালেন কি না। হোবার্টে প্রথম ইনিংসটা খেললেন একেবারে ওয়ানডের স্টাইলে। ২৮৫ বলে অপরাজিত ২৬৯! স্বভাববিরুদ্ধ এই টর্নেডো ইনিংস দিয়েই ক্রিকেটের অন্যরকম রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন ৩৬ বছরের অস্ট্রেলিয়ান। যেখানে তার ওপরে কেবল বীরেন্দর শেবাগ। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ইনিংস ঘোষণা না করলে ভোগস কোথায় গিয়ে থামতেন, সেটিই বা কে জানে। কিন্তু তার আগেই যা করেছেন, তাতে রেকর্ড বইয়ের পাতা ওল্টাতে হবে কয়েকবার। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়ার পথে ভোগসের স্ট্রাইক রেট ৯৪.৩৮। টেস্ট ইতিহাসে আড়াই শ’ পার করা ইনিংসগুলোর মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে যা চতুর্থ দ্রুততম। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার আগে আছেন কেবল শেবাগ। এই তালিকায় প্রথম তিনটি স্থান সাবেক ভারতীয় ওপেনারের দখলে। শেবাগ আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান, তিনি এই তালিকায় থাকতেই পারেন, তাই বলে ভোগস? ওয়ানডেতেই যার স্ট্রাইক রেট ৮৭, টেস্টে পঞ্চাশের আশপাশে। সেই ভোগসই কি না নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পথে (ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি) পেছনে ফেললেন ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাথু হেইডেন, ক্রিস গেইল ও ভিভ রিচার্ডসের মতো মহারথীদের। ওয়ার্নারেরই দুঃখটা বেশি লাগার কথা। মাস খানেক আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৬ বলে ২৫৩ রান করে তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছিলেন তিনি। তার সেই কীর্তি ভোগসের কারণে মোটে ২৭ দিন স্থায়ী হলো! ভোগস কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ডে থেমে থাকেননি। শন মার্শকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন ৪৪৯ রানের রেকর্ড জুটি। যেখানে বড় মার্শের অবদান ১৮২। এই এক জুটিতে ভেঙ্গেছে অনেক রেকর্ড। হোবার্টে এটি যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি, আগে যেটি ছিল ৩৫২ রানের, রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্কের। কেবল হোবার্টে নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই সর্বোচ্চ জুটির নতুন রেকর্ড এটি। ১৯৪৬ সালে ডন ব্র্যাডম্যান ও সিডনি বার্নসের কার ৪০৫ রানকে পেছনে ফেলেন ভোগস-মার্শ। আর চতুর্থ উইকেটে সেটি তো অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ডই হয়ে গেছে। চতুর্থ উইকেট জুটির রেকর্ড এতদিন ছিল মাহেলা জয়াবর্ধনে ও থিলান সামারাবীরার দখলে, ২০০৯ সালে করাচী টেস্টে। সেটি পেরিয়ে এবার নতুন ইতিহাস গড়লেন ভোগস-মার্শ। ২৮৫ বলে খেলা ভোগসের অপরাজিত ২৬৯ রানের ইনিংসটি ৩৩ চার দিয়ে সাজানো। আর ২৬৬ বলে ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৮২ রান করে আউট হন মার্শ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৪ ওয়ার্নারের। ভোগসের দিনে জবাব দিতে নেমে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে উইন্ডিজ। কিন্তু সপ্তম উইকেটে ৯১ রান তুলে লড়াই করছেন ব্রাভো-রোচ। ৩ ও ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাথান লেয়ন ও জস হ্যাজলউড।

স্কোর ॥ অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৫৮৩/৪ ডিক্লে. (১১৪ ওভার; ভোগস ২৬৯*, শন মার্শ ১৮২, ওয়ার্নার ৬৪, বার্নস ৩৩, স্মিথ ১০; ওয়ারিকান ৩/১৫৮, গ্যাব্রিয়েল ১/৫৯)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস ২০৭/৬ (৬৫ ওভার; ড্যারেন ব্রাভো ৯৪*, চন্দ্রিকা ২৫, স্যামুয়েলস ৯, রামদিন ৮, হোল্ডার ১৫, রোচ ৩১*; লেয়ন ৩/৪৩, হ্যাজলউড ২/৪৩, সিডল ১/২২)। ** দ্বিতীয় দিন শেষে