১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিটি আমার রক্তে...

রুমেল খান ॥ সাঁতারের জন্য যেমন কুষ্টিয়া, ফুটবলের জন্য যেমন নারায়ণগঞ্জ, তেমনি টেবিল টেনিসের (টিটি) সূতিকাগার হিসেবে বিখ্যাত হচ্ছে নড়াইল। এই জেলাটি বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শেখ মোহাম্মদ সুলতান এবং জাতীয় ক্রিকেটার ‘নড়াউল এক্সপ্রেস’ খ্যাত মাশরাফি মর্তুজার জন্য। এছাড়া মানসম্পন্ন টিটি খেলোয়াড় গড়ার উর্বর ভূমি হিসেবেও রয়েছে জেলাটির খ্যাতি।

আঁখি আক্তার সিন্থিও তেমনই এক প্রতিভাবান টিটি খেলোয়াড়। দশ বছরের ক্যারিয়ার তার। ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলেন (পাঁচ বছর ধরে, এর আগে খেলেছেন বাংলাদেশ বিমানে, তিন বছর নড়াইল জেলার হয়ে দেড় বছর)। পারিবারিক টিটি আবহের কারণেই এ খেলায় আসেন সিন্থি (প্রথম কোচ ছিলেন মোস্তফা বিল্লাহ্ এককে সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। বর্তমান কোচ মোহাম্মদ আলী), ‘আমার চাচাতো বোন সোনম সুলতানা সোমা (জাতীয় টিটিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন), ফুপাতো বোন সালেহা পারভীন সেতু (তিনিও ৫ বারের শিরোপাধারী) ... তাছাড়া আমাদের বাসার পাশেই ছিল টেবিল টেনিস ক্লাব। এসব কারণেই টিটি খেলতে আগ্রহী হই। আসলে টিটি মিশে আছে আমার রক্তে!’ সে সময় তখন সিন্থি ক্লাস সিক্সে পড়েন নড়াইল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে। এখন ঢাকার ইডেন কলেজে অনার্স থার্ড ইয়ারে ফিলোসফি নিয়ে পড়া ২১ বছর বয়সী সিন্থির টিটিতে সাফল্যগুলো হলোÑ বাংলাদেশ গেমসে ২ ব্রোঞ্জ, ২ গোল্ড; জাতীয় পর্যায়ে ১ ব্রোঞ্জসহ (এককে) মিশ্র দ্বৈরথ এবং দলীয় সাফল্যও আছে। টিটি খেলার সুবাদে ২০১২ সালে ভারতের মেঘালয়ে গিয়েছিলেন সিন্থি। টুর্নামেন্টটি ছিল সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। ছোট ভাই অন্তু হোসেন জয়ও জুনিয়র টিটি খেলোয়াড়। দেশে সিনিয়র পর্যায়ে সিন্থির র‌্যাঙ্কিং ৫। আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দুই বোন সোমা-সালেহাকেই বেছে নিয়েছেন সিন্থি। স্মরণীয় ম্যাচ? ‘চট্টগ্রামে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা। কোয়ার্টারের ম্যাচ। ডান হাতে ভীষণ ব্যথা পাই। স্প্রে করে, ওষুধ খেয়ে খেলা চালিয়ে যাই এবং জিতি। তবে সেমিতে বোন সোমার কাছে হেরে যাই!’

শারীরিকভাবে এবং উন্নত কোচিংÑ এই দুটি বিষয়ে বিদেশী খেলোয়াড়দের চেয়ে বাংলাদেশী খেলোয়াড়রা অনেক পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন সিন্থি। ‘যদি বিদেশী কোচ এনে বছরে অন্তত দুটি ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তাহলে আমাদের খেলার মান আরও উন্নত হবে।’ সিন্থির অভিমত। জাতীয় পর্যায়ে না হলে ক্লাব পর্যায়ে দুবার বিদেশী কোচের অধীনে খেলেছেন সিন্থি (একবার বিমানে খেলার সময় পাকিস্তানী কোচ আরিফ খান, আরেকবার বাংলাদেশ গেমসে ভারতীয় কোচ সৌগত)। টিটি ফেডারেশনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না সিন্থিরা, ‘আমাদের জন্য দরকার উন্নতমানের রাবারের (ব্যাটে ব্যবহার করা হয়)।’ ভবিষ্যত পরিকল্পনা? ‘জাতীয় পর্যায়ে একেক চ্যাম্পিয়ন এখনও হতে পারিনি। এসএ গেমসে এবার অন্তত রৌপ্যপদক জিততে চাই।’ ঢাকার আজিমপুরে বাস করা সিন্থি এখনও অবিবাহিতা। তার স্বপ্নÑ বিয়ে করার পরও খেলাটা যতদিন সম্ভব চালিয়ে যেতে চান। টিটি ছাড়া পছন্দ করেন ব্যাডমিন্টন এবং ফুটবল। ‘লিওনেল মেসি আমার প্রিয় ফুটবলার।’