২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লালচানের লাশ জীপের পেছনে বেঁধে ঘোরানো হয়

তরুণ ইপিআর সদস্য রিয়াজুল হক লালচান তাঁর কয়েক সঙ্গীসহ ২০ মার্চ বিদ্রোহ করে কর্মস্থল রংপুর ইপিআর ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি পার্বতীপুর শহরে দক্ষিণপাড়ায় নিজ বাড়িতে এসে দেখতে পান অবাঙালী ও মুজাহিদরা তাদের বাড়িসহ পুরো গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবারের লোকজনের দেখা মিলল না। শহরে কোন বাঙালী নেই। প্রতিদিন তারা ধরে এনে নারী পুরুষ শিশু নির্বিচারে হত্যা করছে। চারপাশের গ্রাম বসতি পুড়িয়ে দিচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে দলে দলে যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে। লালচান অস্ত্রের সন্ধান করতে থাকেন। এক সময় অস্ত্রও পেয়ে যান। হলদিবাড়ি কলোনির রেজাউল আলম বুলবুল এক পাঞ্জাবি মেজরকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে তার চাইনিজ রাইফেল ও গোলাবারুদ নিজ হেফাজতে রেখেছেন। ওই অস্ত্র লালচান নিয়ে নেন। আরও কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জোগাড় ও এলাকার যুবকদের একত্রিত করে ক্ষুদ্র বাহিনী গঠন করেন। তাদের অস্ত্র চালানোর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পার্বতীপুর শহর আক্রমণের অপেক্ষায় থাকেন। মার্চের ২৫-৩০ তারিখের ঘটনা। সেদিন দু’পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাইফেলের গুলি শেষ হলে লালচান ধরা পড়েন অবাঙালীদের হাতে। তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বেয়নেট চার্জ করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে। শেষে খোলা জীপের পেছনে লাশটি বেঁধে শহরের রাস্তায় টেনে ঘোরানো হয়। পরে পানিতে ফেলে দেয়া হয় লাশ।

Ñশ.আ.ম হায়দার

পার্বতীপুর থেকে

নির্বাচিত সংবাদ