১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বুলেট ছিন্টু

নাম ছিল তার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ছিন্টু। কিন্তু স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকসেনাদের সঙ্গে প্রতিটি সম্মুখযুদ্ধে বুলেটের মতো ভূমিকা রাখায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই তার নাম হয়েছে বুলেট ছিন্টু। সেই থেকে তাকে বুলেট ছিন্টু নামে সবাই চেনে। বয়স বেড়ে সত্তরের কোঠায় পৌঁছছে।

দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৪ জুন। রাত ২টার দিকে জোছনা রাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বান্দাবাড়ীর নাগরা গ্রামের নদীর মাঝখানে নৌকায় অবস্থান করছিলাম আমরা ১২ মুক্তিযোদ্ধা। এমনই সময় স্থানীয় রাজাকারদের ইশারায় অর্ধশতাধিক পাকিস্তানী পুলিশ আমাদের দিকে বন্দুক তাক করে তীরে আসার জন্য হুকুম করে। নৌকার সামনে বন্দুক নিয়ে বসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্য ইব্রাহিম, মুক্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন। আমি ছিলাম নৌকার মাঝখানে। নৌকা তীরে আসার পূর্ব মুহূর্তে আমিসহ সহযোদ্ধা ইব্রাহিম ও হেমায়েত ভাই পাক পুলিশ এবং রাজাকারদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকি। এতে ঘটনাস্থলেই এক পাকিস্তানী পুলিশ নিহত হয়। এ সময় পাকিস্তানী পুলিশ ও রাজাকারের পাল্টাগুলিতে বুকে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার কোলের ওপর লুটিয়ে পড়েন সহযোদ্ধা ইব্রাহিম। একাধিক গুলি এসে বিদ্ধ হয় আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে। একপর্যায়ে আমাদের রক্ষা করার জন্য হেমায়েত উদ্দিন এলএমজি দিয়ে গুলি ছুঁড়লে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে পালাতে থাকে পাকিস্তানী পুলিশ ও রাজাকার। এ সময় এলাকাবাসী ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা ধাওয়া করে ১৭ পুলিশ ও ১৮ রাজাকারকে আটক করে হত্যা করে। পাকবাহিনীর সঙ্গে এটাই ছিল হেমায়েত বাহিনীতে যোগ দেয়ার পর আমার ও বাহিনীর প্রথম সম্মুখযুদ্ধ।

যুদ্ধ শেষে সহকর্মীরা আমাকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকার পল্লী চিকিৎসক রনজিত ব্যানার্জির কাছে নিয়ে আসে।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে