২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেলিখালী যুদ্ধে সামনে ছিলেন মেসবাহ

ময়মনসিংহে ভারত সীমান্তের তেলিখালী ক্যাম্প আক্রমণের প্রথম সফল যুদ্ধে ডান কাঁধ, ডান পাঁজর ও ডান হাতে তিনটি গুলি লাগে ইপিআর জোয়ান মেসবাহ উদ্দিনের। এর আগে শেরপুর সীমান্তের নালিতাবাড়ি থানার হাতি পাগাড় ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে প্রথম গুলিবিদ্ধ হন মেসবাহ। ময়মনসিংহের তেলিখালী ও শেরপুরের হাতি পাগাড় ক্যাম্প আক্রমণ ছাড়াও দুর্ধর্ষ এই মুক্তিযোদ্ধা একাত্তরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর প্রতিরোধ যুদ্ধসহ মধুপুর ও শেরপুরের নাকুগাঁও ক্যাম্প দখলের সময় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। রণাঙ্গনে পাক সেনাদের গুলির সেই দাগ এখনও জ্বল জ্বল করছে মেসবাহর শরীরে। অর্ধশতাধিক পাকসেনাকে খতম করেন তিনি। ইপিআর জোয়ানসহ ২২ মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে দল গঠন করে অংশ নেন বিভিন্ন অপারেশনে। সীমান্তে ক্যাম্প আক্রমণ ও দখল, পাক সেনাদের হত্যাসহ শেরপুরের নালিতাবাড়ির ক্যাম্পে বন্দীদশা থেকে জামালপুরের হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের পাঁচ নারী সদস্যকে উদ্ধার করেন মেসবাহ। একাত্তর রণাঙ্গনের এরকম অনেক বীরত্ব গাঁথা থাকলেও মেসবাহ স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছরেও পাননি প্রত্যাশিত খেতাব কিংবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বা মর্যাদা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ পরিবারের সদস্যসহ সহযোদ্ধারাও।

সেদিন ছিল সোমবার, ৩ নবেম্বর। ঘড়ির কাঁটা তখন ভোর ৪টার ঘরে। মিত্র বাহিনীর কর্নেল রঘুবন ও ঢালু হেড কোয়ার্টার ব্যাটালিয়নের সাব সেক্টর কমান্ডার লে. আবুল হাশেম অপারেশনের জন্য প্রস্তুত। নির্দেশের প্রহর গুনছিলেন তারা। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ততক্ষণে ভারত সীমান্তের হালুয়াঘাট তেলিখালী ক্যাম্প দু’দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। অগ্রভাগে মুক্তিযোদ্ধার দল, পেছনে মিত্রবাহিনী। তার পেছনে কাট-অফ পার্টি সতর্ক পাহারায়। ক্যাম্পের পাকি সেন্ট্রিকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলি ছুঁড়েন শেরপুরের নালিতাবাড়ি থানার শহীদ ইদ্রিস। পাল্টা জবাব আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় গুলিবৃষ্টি। টানা আট ঘন্টা যুদ্ধের পর বেলা ১২ টার দিকে পাকসেনাদের এই ক্যাম্পটি দখল করে নেয় মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যরা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তের প্রথম এই সফলযুদ্ধে ১২৫ পাকসেনার মধ্যে ১২৪ জনই খতম হয়। বিপরীতে মিত্রবাহিনীর ২৬ ও তিন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধ্যে তেলিখালী ক্যাম্প ছিল পাকসেনাদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সেদিনের এই তেলিখালী ক্যাম্প আক্রমণে অগ্রভাগে ছিলেন ইপিআর জোয়ান মেসবাহ উদ্দিন। পরবর্তীতে যুদ্ধাহত মেসবাহ খেতাব ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ নানা জায়গায় আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছরেও পাননি বীরত্বের খেতাব বা রাষ্ট্রীয় স্বৃীকৃতি।

Ñবাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ থেকে