২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারত থেকে অস্ত্র আনার পথে আক্রান্ত হই

আমি, মেজর জলিল, মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও নুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ ৫০/৬০ মুক্তিযোদ্ধা ভারত থেকে লঞ্চযোগে অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে গাবুরিয়া এলাকায় যাচ্ছিলাম। পথে পাকবাহিনী দু’টি গানবোট নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। আমাদের আসার খবরটি আগ থেকেই ওই এলাকার পাকবাহিনীর দোসররা জানত। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ হচ্ছে। এক পর্যায়ে পাকবাহিনী আমাদের লঞ্চ দু’টি ডুবিয়ে দেয়। আমরা নদী সাঁতরে বেড়িবাঁধে উঠে আশ্রয় নেই। সেখান থেকে আমরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যাই। মেজর জলিল ও নুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা পুনরায় ভারত চলে যান। আমি, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন নাসির, সরদার জালাল, কাক্কা, কামরুল, বাদল, সুরুজসহ ১৯ মুক্তিযোদ্ধা স্থান পরিবর্তন করার সময় পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে আটক হই। এক পর্যায়ে আমি ও সুরুজ নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করলেও পরে ওই এলাকার আলবদর ও রাজাকারদের হাতে ফের আটক হই। দুই দিন আটক ছিলাম তাদের হাতে। এ সময় আমাদের উপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। তখন ওই এলাকার বাসিন্দা ও বি.এল কলেজের তৎকালীন বিএম কলেজের ভিপি হিসাবে আমাকে চিনতে পেরে কৌশলে রাজাকার আলবদরদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পাই আমাদের সঙ্গী অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে আটক করে রাখা হয়। দীর্ঘ ৯ মাস আটক থাকার পর তারা মুক্ত হয়। আমি ৩০ মে ফের ভারত চলে যাই। সেখানে ৯নং সেক্টরের চীফ পলিটিক্যাল মটিভেটরের দায়িত্বপালন করি।বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ।

Ñকামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল থেকে