২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অযত্ন অবহেলায় শহীদ মিনারের মর্যাদাহানি

এমদাদুল হক তুহিন ॥ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবহেলা আর অযতœ চরমে উঠেছে। পবিত্রতম স্থানটির পবিত্রতা বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাদদেশে জুতা পায়ে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা কিছুতেই থামছে না! এমনকি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাদদেশেই আড্ডা দিচ্ছে কপোত-কপোতী। রাতের আঁধারে অনৈতিক কর্মকা-ের ঘটনাও অহরহ। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছেন শীতনিদ্রায়!

সরেজিমেনে ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদীর দুই দিকে দুটি সাইনবোর্ড। এতে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে ‘মূল বেদীতে জুতা পায়ে ওঠা ও বসা নিষেধ’। কিন্তু কেউ শুনছে না ওই নির্দেশনা। মূল বেদী ছাড়াও প্রতিটি বেদীতেই জুতা পায়ে চলছে ফটোশ্যূট। চলছে গল্প আর অড্ডা।

জানা গেছে, শহীদ মিনারের চারদিকে হকারের উৎপাতও কম নয়। সিগারেট আর বাদামের খোসায় প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে অপরিষ্কার আর অপরিচ্ছন্ন। এমনকি প্রাঙ্গণে আলোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব পাশের কয়েকটি লাইট নষ্ট রয়েছে।

বৃহস্পতিবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কথা হয় এশিয়া পেসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মূল বেদীতে জুতা পায়ে ওঠা ও বসায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না ওই নির্দেশনা। যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও লজ্জাকর।’ তার অভিযোগ, প্রায় সারাবছরই শহীদ মিনার থাকছে অবহেলা আর অযতেœ। ডিসেম্বর আর ফেব্রুয়ারি মাসে কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করা গেলেও অন্য সময় আইনের প্রয়োগ নেই। নেই সচেতনতাও। একই সময় ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সালমান বলেন, ‘আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই। আশপাশে পুলিশ সদস্য আছেন, তবে তাদের মনযোগ অন্যদিকে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ও সচেতন মানুষ যখন শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করে; তখন জাতি হিসেবে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’পাদদেশে আড্ডা দেয়া কপোত-কপোতীর একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইচ্ছে করে এমনটি হয় নি। ভুল করে উঠেছিলাম। এখন নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। পুরো ঘটনাটিই ভুলবশত ঘটেছে। আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।’ এরা অনুতপ্ত হলেও অধিকাংশই অনুতপ্তও হয় না! জড়িয়ে পড়ে বাকবিত-ায়।

আশপাশের কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহীদ মিনারে জুতা পায়ে ওঠা ও বসা ছাড়াও ঘটছে অসামাজিক কার্যকলাপ। প্রাঙ্গণের চারদিকের বেশ কয়েকটি লাইট নষ্ট রয়েছে দীর্ঘদিন। ফলে রাতে অনৈতিক কাজ বৃদ্ধি পায়। আর শহীদ মিনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের নির্দিষ্ট কোন পোশাক দেয়া হয়নি। এমনকি দেয়া হয়নি বাঁশিও। ফলে দায়িত্ব পালনে বেগ পোহাতে হয়। আশপাশে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে ইনফর্ম করলেও অনেক সময় তারা সাড়া দেয় না। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাবশালী নেতারাও শহীদ মিনারে পবিত্রতা বিনষ্ট করছে।

এ প্রসঙ্গে রমনা গণপূর্ত উপবিভাগ-১ অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ আলম ফারুক চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনারে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনাগোনা। এর একটি অংশ নির্দেশনা অমান্য করে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষিত। ফলে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনার বিকল্প নেই। তবে আমাদের পক্ষে দায়িত্ব পালনের সাধ্যাতীত চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী জনকণ্ঠকে বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩ ক্লিনার ও ৩ সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে। কেউ যেন নিরাপত্তায় না ভুগে আমরা সে ব্যবস্থা করেছি। পবিত্রতা বিনষ্ট যাতে না হয় তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বহুবার। তবে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ‘চেতনাগত দিক শক্তিশালী’ না হলে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটবেই।