২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

  • মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা ॥ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ভবনগুলো দীর্ঘদিনেও ভাঙ্গা বা অপসারণ করা হয়নি। ব্যবহারের অনুপযোগী এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য লোক বসবাস করছে। কিছু ভবনের নীচতলায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ একাধিক ভবন ধসে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের বিভন্ন সভায় এ বিষয়টি আলোচিত হলেও এ ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। এ সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে নানা জটিলতা রয়েছে। যার সমাধান প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও জনপ্রতিনিধিধের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয় বলে একাধিক সূত্র জানায়।

খুলনা মহানগরীতে ঝূঁকিপূর্ণ ও পরিত্যাক্ত ভবনের প্রকৃত সংখ্যা কত তা সংশ্লিষ্ট কোন দফতর থেকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ২০০৪ সালের জুন মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর জরাজীর্ণ ৫৯ টি ভবন ঝঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ওই ভবনের মালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। দু’একটি ভবন অপসারণ ও সংস্কার করা হলেও অধিকাংশ ভবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে।

কয়েক মাস আগে কেসিসি মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে ৪৮টি ভবন চিহ্নিত করেছে। চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে ১২টির মালিক জেলা প্রশাসন, ৮টির মালিক গণপূর্ত অধিদফতর। কয়েকটি ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কেসিসি’র পক্ষ থেকে চিহ্নিত ভবনসমূহে সাইনবোর্ড টানিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, কেসিসি’র তালিকা অনুযায়ী নগরীর বড়বাজার এলাকার ওয়েষ্ট মেকট রোড ও ভৈরব স্ট্যান্ড রোডে জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ২০টির অধিক। এ ছাড়া ক্লে রোড, কালিবাড়ী রোড, খানজাহান আলী রোড, সিমেট্রি রোড, কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোড, শের ই বাংলা রোড, রূপসা স্ট্র্যান্ড রোড, বাবু খান রোড, সদর হাসপাতাল রোড, খালিশপুর হাউজিং, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যাক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী ভবন রয়েছে। কেডিঘোষ রোডের যে ভবনটিতে বিএনপি অফিস রয়েছে সেই ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

সূত্র জানায়, খুলনাঞ্চলে লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাবে পাকা ভবনাদি খুব দ্রু নষ্ট হয়। পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনগুলোর অধিকাংশ অনেক আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে নগরীর বড়বাজার এলাকার ওয়েষ্ট মেকট রোডের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কার্নিশ ধসে পড়ে দুই জন নিহত হয়। ওই বছরের ২০ জুলাই খানজাহান আলী রোডের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে সেখানকার দুই বাসিন্দা আহত হয়।

চলতি বছরের ২৭ জুন নগরীর আহসান আহমেদ রোডস্থ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসে শাপলা নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাজমূল ইসলাম বলেন, ব্যবহার অনুপযোগী বাড়িগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।