১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীর সাহেব বাজারে আইল্যান্ড বিড়ম্বনা

  • জিরো পয়েন্টে গোলচত্বর নির্মাণের দাবি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাহেব বাজার। রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এ স্থানটি। আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে নানা ঘটন, অঘটন, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের হাজারো স্মৃতি রয়েছে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট ঘিরে। বলতে গেলে রাজশাহীর প্রধান প্রাণকেন্দ্র এটি।

আন্দোলন সংগ্রামের তীর্থ স্থান হিসেবে মানুষ এখনও এই সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টকেই কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়। প্রতিদিন চলে বিভিন্ন সংগঠনের বহুমাত্রিক আন্দোলন। মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদী কোন কর্মসূচী সব কার্যক্রম শুরু হয় এখান থেকেই। তবে এ জিরো পয়েন্টকে সম্প্রসারিত করা হয়নি বরং দিনে দিনে তা সংকুচিত করা হয়েছে।

হালে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে আইল্যান্ড গড়ে তোলায় এখানে যানজট নিত্যদিনের। অথচ শহরের এ মূল পয়েন্টে একটি ‘গোলচত্বর’ স্থাপনের কোন উদ্যোগ নেই কারও। সিটি করপোরেশনও এটি নিয়ে ভাবেনি কখনও। ফলে ট্রাঢিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আইল্যান্ড স্থাপন করায় মূল শহরের দুই পাশে বিভক্ত করা হয়েছে। যা প্রতিনিয়ত যানবাহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরীর সবচেয়ে ব্যাস্ততম এই সাহেববাজারে সহজে প্রবেশ করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে, শত শত দালান ভেঙে, ৬০ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করে গোরহাঙ্গা মোড় থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক বানানো হয়েছে।

বর্তমান সরকারের আমলে এ প্রসস্ত সড়কের সুফল পাচ্ছেন নগরবাসী। তবে সড়কটি যেখানে ঠেকেছে সেখানে ঘটা করে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের দেয়া আইল্যান্ডের কারণে সফল যাত্রায় বাধা আর বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন নগরবাসী। অথচ এখানে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা হলে অনায়াসে নগরবাসী চলাচল করতে পারতেন। সে ভাবনা নেই নগর উন্নয়ন পরিকল্পকদের। খোদ সিটি করপোরেশনই এ বিষয়টি নিয়ে ভাবেনি।

সাহেব বাজারের মধ্য দিয়েও একটি বড় রাস্তা আছে। যার মাঝখানে ঠিক জিরোপয়েন্টে আইল্যান্ড। জিরো পয়েন্টের এই আইল্যান্ডই দুই পারের মানুষকে বিভক্ত করে রেখেছে। এভাবে চলছে বছরের পর বছর। ফলে সেখানে যানজট নিত্য ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। একদল ট্রাফিক পুলিশ হরদম বাঁশি বাজিয়েও সেখানে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন যানজট।

নগরীর শহীদ কামারুজ্জানান চত্বর গোরহাঙ্গা মোড় থেকে সরলীকরণ সড়ক হিসেবে দুই বছর আগে চালু হয়েছে প্রশস্ত একটি সড়ক। সেটি গিয়ে ঠেকেছে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে। এই সড়ক দিয়ে আসা বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীরা এখন আর সহজেই কোন মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেন না। শুধু আইল্যান্ডের গ্যারাকলে আটকে ঘুরে পার হতে হচ্ছে তাদের। জিরো পয়েন্ট পার হয়ে আরডিএ মার্কেটে প্রবেশ করতে হলে কিংবা সাহেব বাজার বড় মসজিদ ও পদ্মার পারে যেতে হলে ঘরতে হচ্ছে বেশ খানিকটা পথ। তাও অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে। বিশাল এ মোড়ে কোনো স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকায় হরদম পুলিশই বাঁশি বাজিয়ে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ভোর থেকে রাত অবধি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ব্যস্ততম সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের যানজট নিয়ন্ত্রণের কারণেই ট্রাফিক পুলিশ আইল্যান্ড গড়ে বন্ধ করে দিয়েছে সড়কটি। ফলে এখন মানুষকে সাহেববাজারে প্রবেশ করতে হলে জিরো পয়েন্ট থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বে কুমারপাড়া মোড় ঘুরে ঢুকতে হচ্ছে। সরাসরি এখন সাহেব বাজার বড় মসজিদ, আরডিএ মার্কেট, নিত্য পণ্যের বাজার ও পদ্মার নদীর দিকে যেতে পারেন না।

আর রাজশাহী নগরের দক্ষিণ পাশে পদ্মা নদী হওয়ায় সেদিক থেকে কোন মানুষ শহরে প্রবেশ করতে পারেন না সরাসরি। তাদেরও ঘুরে আসতে হয় খনিকটা পথ মাড়িয়েই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোরসহ সারা দেশের যত মানুষ এই শহরে প্রবেশ করেন তারা সবাই গোরহাঙ্গা থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট রাস্তা ব্যবহার করেন। তবে বড় সড়কটি যেখানে মিশেছে সেখান থেকেই শুরু হয় ঝক্কি-ঝামেলা আর বিড়ম্বনা। শহরে নতুন কেউ প্রবেশ করলেই তাকে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট আইল্যান্ড দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় সেখানকার জ্যাম কমেনি। বরং গাড়িঘোড়া ঘুড়তে গিয়ে আরও যানজট বেড়েছে। একটি গোলচত্বর নির্মাণ না করে সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় সাহেব বাজার থেকে শুরু করে ওদিকের কুমারপাড়া মোড় ও সোনাদীঘি মোড়ে দ্বিগুণ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জিরো পয়েন্ট সহজ যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার কারণে মানুষ এখন বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে। তারা গলিপথে গাড়ি ঢোকাচ্ছে। এতে করে গলি রাস্তায় ভিড় ও দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, জিরো পয়েন্টে একটি প্রশস্ত গোলচত্বর নির্মাণ করা গেলে এখানকার স্থায়ী সমস্যার সমাধান হতে পারে। তারাও দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্রশস্ত গোল চত্বরের দাবি জানিয়ে আসছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আজিম জানান, জিরোপয়েন্ট প্রশস্ত করার বিষয়ে সিটি করপোরেশন স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে। সেখানে একটি গোল চত্বর তৈরি করা গেলে সবকিছু অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন এটি নিয়ে কাজ করবে।