১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এতদিন কোথায় ছিলেন?

সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস ॥ উৎসব পার্বন এলে যেমন ঘরবাড়ি ধোয়া-মোছার কাজ শুরু হয় তেমনই পৌর নির্বাচন সামনে রেখে শহর ধৌতকরণের কাজ চলছে। বগুড়ার পৌর নির্বাচনী হালচাল দেখে তাই মনে করছে পৌরবাসী।

এতদিন যে মেয়রকে সময়মতো সদরে অন্দরে (অফিসে ও বাইরে) পাওয়া যায়নি তিনি এখন ফুটবল টিমের সেন্টার ফরোয়ার্ডের মতো মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি হলেন, বিএনপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। দুই টার্মের মেয়র মাহবুবুর রহমান এবারও প্রার্থী। পৌরবাসীর চড়া হিসাব-নিকাশের ফেরে পড়েছেন। ভোটাররা যখন বর্ধিত এলাকার এবড়ো থেবড়ো দাঁত মুখ খিঁচানো পথঘাট দেখিয়ে বলে, উন্নয়ন কেন হয়নি তখন তার (মেয়র) সাফ কথা সরকার বরাদ্দ দেয়নি। হালে এই কথা বলেও পার পাচ্ছেন না। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয়, কেন বরাদ্দ আনতে পারেন না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খেতে হয়। এ জায়গাটিতে অনেকটা সুবিধা করতে পারছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ্যাডেভোকেট রেজাউল করিম মন্টু। তিনিও ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। তার পাঁচ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বকালে (ওই সময়ে চেয়ারম্যান পদ) পৌরবাসীর মন জয় করে একটা ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন। সেই ইমেজ নিয়েই মাঠে নেমেছেন। তবে তার সময়ে পৌর আয়তন কম (১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার) থাকায় তিনি সহজে সব দিকে নজর দিতে পেরেছেন। বর্তমানের পৌর আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার। ১২টি ওয়ার্ড বেড়ে হয়েছে ২১টি। পৌর ভোটের খেলার মাঠ এবার শুধু বড়ই নয় সারাদেশে যত পৌরসভা আছে তার মধ্যে এক নম্বরে। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪ জন। হিসাব করে নিন ভোটের ফুটবল খেলায় দুই দলের দুই স্টাইকারের মাঠের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত দৌড়াতে কি হাল হচ্ছে। নিজেদের মোটরগাড়ি থাকলেও তা হাঁকিয়ে ভোটারদের দুয়ারে যেতেও পারছেন না। ভোটারদের মনের মধ্যে ঢুকে ভালোবাসা পাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়! একেবারে কড়ায় গ-ায় হিসাব।

রানিং মেয়র মাহবুবুর রহমান ঘরবাড়ি ধোয়া-মোছার মতো ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তার বাতি শহর পরিচ্ছন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া চওড়া সড়কের মধ্যে বাগান নির্মাণসহ নানা কাজ শুরু করেছেন। বর্ধিত এলাকা যা এতকাল অবহেলিত হয়ে আছে সেখানে টুকটাক কাজ করছেন। ভোটারদের মন কতটা জয় করতে পারছেন তা বোঝা যাবে ভোটের ফলাফলে। তবে সমালোচনার মধ্যেও পড়ছেন। বলাবলি হয়, মেয়র সাহেব এতদিন কাজ করেননি কেন! এতদিন কোথায় ছিলেন? ভোটারদের প্রশ্নের এ জায়গাটিতেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম মন্টু একবারে চোখা তীর ছুঁড়ে দিচ্ছেন এভাবে ‘বরাদ্দ ঠিকই আসে কাজ হয়নি।’ রানিং মেয়র এর উত্তরে নিজেকে যতই ডিপেন্ড করার চেষ্টা করেন তা ধোপে টিকছে না। তার অর্থ আবার এও নয় যে রেজাউল করিম মন্টু ভাল অবস্থানে আছেন। ভোটের ক্যাম্পেনে দেখা যাচ্ছে মন্টুর সঙ্গে দলীয় লোকজন খুব বেশি নেই। বিভিন্ন সূত্রে যে খবর মেলে তাও সুখকর নয়। ঘরের মধ্যেই বিভীষণের অস্তিত্ব আঁচ করা যায়। এ অবস্থার অবসান না হলে ইমেজ সঙ্কটে পড়তেও পারেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তাতে তমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই। আরও একজন প্রার্থী আছেন ইসলামী ঐক্যজোটের খেলাফতে মজলিশের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কতটা সফল তা আগামীতেই বলে দেবে। দিনে দিনে বেশ জোরেসোরে জমে উঠছে ভোটের মাঠ। অনেকটা কবির লড়াইয়ের মতো।