২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাগুরায় ৫ বধ্যভূমি রক্ষার উদ্যোগ নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা, ১১ ডিসেম্বর ॥ সংরক্ষণের অভাবে জেলার ৫ বদ্ধভূমি ধ্বংস হতে চলেছে। এগুলো রক্ষায় নেই কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারা, আলবদর, আলসামসরা মাগুরা শহরে পিটিআই, ঢাকারোড ব্যারেজ ও পারনান্দুয়ালী ক্যানেলে শতশত মানুষকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখত ও নদীতে ভাসিয়ে দিত। এই বদ্ধভূমিগুলো সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে। শহরের মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে অবস্থিত পিটিআইতে ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। এখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে গণকবর দেয়া হতো। গণকবরগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি। এখানে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ হওয়ায় গণকবরগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে পিটিআইয়ের প্রবেশ পথে শুধু একটি ফলক রয়েছে। ঢাকারোড ব্যারেজ ও পারনান্দুয়ালী ক্যানেলে নবগঙ্গা নদীতে শতশত মানুষকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। শালিখার ছয়ঘরিয়ায় মাগুরা-যশোর সড়কের দু’পাশে ১৩ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর রয়েছে। রাজাকাররা ফরিদপুরে যাওয়ার পথে এই ১৩ মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পরে দুটি কবরে এদের গণকবর দেয়। গণকবরটি সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে। নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ার পর বোঝার উপায় নেই এখানে কোন গণকবর ছিল। জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। আড়পাড়ার ডাক বাংলোটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। নদী পথে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ গেলে তাদের ধরে এনে নির্মম অত্যাচারের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত। কথিত আছে বহু মানুষকে হত্যা করে বাংলোর সামনের ইঁদারায় ফেলে দিত। ইঁদারাটি বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে।