১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে কমছে তাপমাত্রা

  • টুকরো খবর

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন ধরেই কুশায়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে শীতের মাত্রাও। সূর্যের তীব্রতা কম এবং হাল্কা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে উত্তরের বিভাগীয় জেলা রাজশাহী অঞ্চলে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৮৮ শতাংশ। শুক্রবার সকালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটা শীতের পদধ্বনি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসতে পারে শীত। বয়ে যেতে পারে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

বিএসএফের গুলিতে দামুড়হুদায় যুবক নিহত

সংবাদদাতা, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা, ১১ ডিসেম্বর ॥ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার ঠাকুরপুর সীমান্তে যুবক রুহল আমিন ম-লকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুহুল ম-ল ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার লক্ষ্মীপুর বড়ইগাতী গ্রামের কাসিম মলের ছেলে এবং বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার সুভলপুর গ্রামের বাবলু মলের মেয়ের জামাতা।

জানা যায়, শুক্রবার ভোরে রুহুল ম-লসহ বেশ কয়েকজন ঠাকুরপুর সীমান্তের ৯১ নম্বর মেন পিলারের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সময় মালুয়াপাড়া বিএসএফ ক্যা¤েপর টহলরত সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

নড়াইলে একাত্তরের

জল্লাদ গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল, ১১ ডিসেম্বর ॥ জেলার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনতাকামী মানুষদের হত্যাকারী জল্লাদ আব্দুল ওহাবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার ফুলশ্বর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সুভাষ বিশ্বাস জানান, নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ওহাবকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সদর উপজেলা কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবীর জানান, পিস কমিটির চেয়ারম্যান কুখ্যাত রাজাকার সোলায়মানের নির্দেশে জল্লাদ ওহাব নড়াইল জজকোর্ট সংলগ্ন লঞ্চঘাটের পল্টনে নিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষদের নির্মমভাবে জবাই করে চিত্রা নদীতে ফেলে দিত। অন্যান্য জল্লাদদেরও গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

মহান বিজয় দিবসে

ব্যাপক কর্মসূচী

চসিকের

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার লালদীঘি পার্কে সকাল ৮টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ১৬ ডিসেম্বর বুধবার প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, একইদিন কর্পোরেশনভুক্ত বিদ্যালয় ও কলেজসমূহের স্কাউট, গার্লস গাইড, রোভার-রেঞ্জার, কাব এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে কর্ণফুলী সেতু সংলগ্ন বাকলিয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৮টায় প্যারেড ও কুচকাওয়াজ এবং সকাল ১০টায় ডিসপ্লে। চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করবেন।

পতাকা বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১১ ডিসেম্বর ॥ মহান বিজয় দিবসে ফুলছড়ি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী-বেসরকারী অফিসে একযোগে নতুন জাতীয় পতাকা উত্তোলন সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পতাকা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় নাপিতেরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে পতাকা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউএনও মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটে স্নাতক উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শুক্রবার জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সুপ্রভাত হালদারের সভাপতিত্বে শালতলা হরিসভা মন্দিরে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিসি কলেজের ইংরেজী বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নিতীশ বিশ্বাস। প্রধান বক্তা ছিলেন বিপ্লবী নরেশ চন্দ্র সেন। বক্তব্য দেন মুখার্জী রবীন্দ্রনাথ, সুযশ কান্তি ম-ল, হরেন্দ্রনাথ রানা, শিব শংকর হালদার, বাবুল সরদার প্রমুখ।

টুকরো খবর

৩ ডাকাত গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। আটক অভিযানের সময় পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ আমির ডাকাতকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অভিযানকালীন ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার ছাড়াও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো- জালালাবাদ থানাধীন লালারগাঁওয়ের আমির, মোল্লাগাঁওয়ের হাসন ও বলাউরার আমিন।

মালামাল লুট

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ ফকিরহাটে দুর্বৃত্তরা একটি বাড়ির ৫ জনকে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন নওয়াপাড়ার শেখেরডাঙ্গা এলাকার ফারুক হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করলে বাড়ির সকলে অচেতন হয়ে পড়ে।

ইয়াবাসহ আটক ২

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী, ১১ ডিসেম্বর ॥ ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকা থেকে শুক্রবার ভোরে ৬৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৭ সিপিসি-১ এর টহল দল কমলাভর্তি একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশি চলিয়ে কাভার্ডভ্যানের কেবিনের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ৬৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোঃ সোহেল প্রকাশ সোহাগ ও সাইফুল ইসলাম মিজানকে আটক করে।

প্রার্থী নিয়ে মুখোমুখি রাজশাহী

নগর ও জেলা বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ পৌর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই কাটাখালী পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে নগর ও জেলা বিএনপি নেতারা। নগর বিএনপি নেতাদের বাণিজ্যমুখী আচরণে চরম ক্ষুব্ধ জেলা নেতাকর্মীরাও। জানা গেছে, কাটাখালি পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। যার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন পৌরসভা ও জেলা বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এবং চারঘাটের সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদ তদবির করে দলে নিষ্ক্রিয় কর্মী মাসুদ রানাকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের প্রার্থী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। যিনি গত নির্বাচনে মাত্র ৫২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

এদিকে, দলের মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানাকে ভোটের প্রচার চালাতে কাপাশিয়া এলাকায় ঢুকতে দেয়নি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবু সাঈদ চাঁদ তাকে নিয়ে পৌরসভার কাপাশিয়া এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

অপরদিকে, দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানার ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে মিজানুর রহমান মিনুর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন কাটাখালি বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বুধবার বিকেলে মিজানুর রহমান মিনু তার বাসভবনে কাটাখালি পৌরসভা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। তবে কাটাখালি পৌরসভা জেলা বিএনপির ইউনিট হলেও সে বৈঠকে জেলা বিএনপির কোন নেতাকে ডাকা হয়নি। ওই বৈঠকে কাটাখালি পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বার, মোনতাজ আলী ও রাজশাহী বারের সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলামসহ অর্ধশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বসেই মিজানুর রহমান মিনু দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানায়। এ সময় মিনুর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে মাসুদ রানাকে দলের জন্য কোন ধরনের ত্যাগ ও যোগ্যতার বিবেচনায় দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মিজানুর রহমান মিনুর কাছে পাল্টা জানতে চায় নেতাকর্মীরা। প্রার্থী কে সেটি না দেখে ধানের শীষের পক্ষে থাকার জন্য আবারও আহ্বান জানান মিনু। দলের সিনিয়র নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করলে শফিকুল হক মিলন বলেন, দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে দল থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এ সময় সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মিলনের সঙ্গে কাটাখালি বিএনপির নেতাদের উচ্চ বাক্য বিনিময়ও হয়। এক পর্যায়ে বৈঠক বর্জন করে কাটাখালি বিএনপির নেতারা বের হয়ে যান।

কাটাখালি পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি মোনতাজ আলী সরদার বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হয়ে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম সামান্য ভোটে পরাজিত হয়। এবার দলীয় নির্বাচনে মনোনয়ন সে পাবে বলে আমরা জানি। কিন্তু গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর পোস্টার লাগিয়েছে এমন এক ছেলেকে এবার দলীয় মনোনয়ন দিয়ে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য মিজানুর রহমান মিনুর প্রস্তাব দু’একজন ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সবাই অধ্যাপক সিরাজুলের পক্ষে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, কাটাখালি পৌরসভা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মহানগর কমিটির মতবিনিময় বিধি সম্মত হয়নি। আর দলের যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে মিজানুর রহমান মিনু যদি সে বৈঠক ডেকে থাকেন তবে জেলা নেতৃবৃন্দকেও সেখানে ডাকা উচিত ছিল। কিন্তু সেখানে জেলার কাউকে ডাকা হয়নি বলেন তিনি। শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে জেলার কোন পৌরসভায় বিদ্রোহ দমন হচ্ছে না দাবি করে এ নেতা বলেন, এখন প্রার্থী নিয়ে প্রচার শুরুর আগেই জেলা ও নগর বিএনপির মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য নেতিবাচক।

এতদিন কোথায় ছিলেন?

সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস ॥ উৎসব পার্বন এলে যেমন ঘরবাড়ি ধোয়া-মোছার কাজ শুরু হয় তেমনই পৌর নির্বাচন সামনে রেখে শহর ধৌতকরণের কাজ চলছে। বগুড়ার পৌর নির্বাচনী হালচাল দেখে তাই মনে করছে পৌরবাসী।

এতদিন যে মেয়রকে সময়মতো সদরে অন্দরে (অফিসে ও বাইরে) পাওয়া যায়নি তিনি এখন ফুটবল টিমের সেন্টার ফরোয়ার্ডের মতো মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি হলেন, বিএনপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। দুই টার্মের মেয়র মাহবুবুর রহমান এবারও প্রার্থী। পৌরবাসীর চড়া হিসাব-নিকাশের ফেরে পড়েছেন। ভোটাররা যখন বর্ধিত এলাকার এবড়ো থেবড়ো দাঁত মুখ খিঁচানো পথঘাট দেখিয়ে বলে, উন্নয়ন কেন হয়নি তখন তার (মেয়র) সাফ কথা সরকার বরাদ্দ দেয়নি। হালে এই কথা বলেও পার পাচ্ছেন না। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয়, কেন বরাদ্দ আনতে পারেন না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খেতে হয়। এ জায়গাটিতে অনেকটা সুবিধা করতে পারছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ্যাডেভোকেট রেজাউল করিম মন্টু। তিনিও ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। তার পাঁচ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বকালে (ওই সময়ে চেয়ারম্যান পদ) পৌরবাসীর মন জয় করে একটা ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন। সেই ইমেজ নিয়েই মাঠে নেমেছেন। তবে তার সময়ে পৌর আয়তন কম (১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার) থাকায় তিনি সহজে সব দিকে নজর দিতে পেরেছেন। বর্তমানের পৌর আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার। ১২টি ওয়ার্ড বেড়ে হয়েছে ২১টি। পৌর ভোটের খেলার মাঠ এবার শুধু বড়ই নয় সারাদেশে যত পৌরসভা আছে তার মধ্যে এক নম্বরে। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪ জন। হিসাব করে নিন ভোটের ফুটবল খেলায় দুই দলের দুই স্টাইকারের মাঠের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত দৌড়াতে কি হাল হচ্ছে। নিজেদের মোটরগাড়ি থাকলেও তা হাঁকিয়ে ভোটারদের দুয়ারে যেতেও পারছেন না। ভোটারদের মনের মধ্যে ঢুকে ভালোবাসা পাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়! একেবারে কড়ায় গ-ায় হিসাব।

রানিং মেয়র মাহবুবুর রহমান ঘরবাড়ি ধোয়া-মোছার মতো ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তার বাতি শহর পরিচ্ছন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া চওড়া সড়কের মধ্যে বাগান নির্মাণসহ নানা কাজ শুরু করেছেন। বর্ধিত এলাকা যা এতকাল অবহেলিত হয়ে আছে সেখানে টুকটাক কাজ করছেন। ভোটারদের মন কতটা জয় করতে পারছেন তা বোঝা যাবে ভোটের ফলাফলে। তবে সমালোচনার মধ্যেও পড়ছেন। বলাবলি হয়, মেয়র সাহেব এতদিন কাজ করেননি কেন! এতদিন কোথায় ছিলেন? ভোটারদের প্রশ্নের এ জায়গাটিতেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম মন্টু একবারে চোখা তীর ছুঁড়ে দিচ্ছেন এভাবে ‘বরাদ্দ ঠিকই আসে কাজ হয়নি।’ রানিং মেয়র এর উত্তরে নিজেকে যতই ডিপেন্ড করার চেষ্টা করেন তা ধোপে টিকছে না। তার অর্থ আবার এও নয় যে রেজাউল করিম মন্টু ভাল অবস্থানে আছেন। ভোটের ক্যাম্পেনে দেখা যাচ্ছে মন্টুর সঙ্গে দলীয় লোকজন খুব বেশি নেই। বিভিন্ন সূত্রে যে খবর মেলে তাও সুখকর নয়। ঘরের মধ্যেই বিভীষণের অস্তিত্ব আঁচ করা যায়। এ অবস্থার অবসান না হলে ইমেজ সঙ্কটে পড়তেও পারেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তাতে তমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই। আরও একজন প্রার্থী আছেন ইসলামী ঐক্যজোটের খেলাফতে মজলিশের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কতটা সফল তা আগামীতেই বলে দেবে। দিনে দিনে বেশ জোরেসোরে জমে উঠছে ভোটের মাঠ। অনেকটা কবির লড়াইয়ের মতো।

সৈয়দপুরে প্রার্থীরা উর্দু

ভাষীদের নিয়ে

বেশি ব্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে পর্যন্ত যে নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল উর্দুভাষীদের গিঞ্জি শহর সৈয়দপুরে তা হঠাৎ করে ঝিমিয়ে পড়েছে। দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে হিসাব-নিকাশ নিয়ে বসেছে মেয়র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। মনোনয়নপত্র জমা, যাছাই-বাছাই সব সম্পন্ন হলেও প্রতীক ছাড়া প্রচার প্রচারণা বা জনসংযোগ এক প্রকার থমকে গেছে। প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বরের প্রতীক বরাদ্দের অপেক্ষার দিন গুণছে। প্রতীক পেলেই প্রচার নেমে পড়বেন। ফলে ভোটের যে গমগম শব্দ তা এই মুহূর্তে নেই বললেই চলে সৈয়দপুরে।

ভোটারদের মধ্যে উর্দুভাষী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

এদিকে সৈয়দপুর পৌরসভায় যাচাই-বাছাইয়ের তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এখন চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। এরা হলেনÑ সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন (আঃ লীগ), আমজাদ হোসেন সরকার ভজে (বিএনপি), জয়নাল আবেদীন (জাতীয় পার্টি) ও নুরুল হুদা (ইসলামী আন্দোলন)। তারা জানান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রচারণা বা জনসংযোগ শুরু করা হয়নি। তারা এখন দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। দফায় দফায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ওয়ার্ডে ওর্য়াডে গিয়ে দলের সমর্থকদের নিয়ে কমিটি গঠন করছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন বলেন প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। তাই প্রতীক বরাদ্দের পূর্বেই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনার কৌশলসহ বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ জরুরী বৈঠক করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে সকল নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

অপরদিকে সৈয়দপুরের বর্তমান মেয়র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সরকার ভজে খুব হিসাব করে পা ফেলছেন। তিনি বিশেষ করে সৈয়দপুরের উর্দুভাষী ভোটারদের নিয়ে বেশি সময় পার করছেন। এবার দলীয় প্রতীকের নির্বাচন তাকে চিন্তায় ফেলে দিয়ে দিয়েছে।

সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে চরম বিভেদ থাকায় দলীয় প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে দলের নেতাকর্মীদের গোছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। অপর দিকে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী নুরুল হুদা রয়েছেন আড়ালে। ফলে জনসংযোগ বা প্রচারণা না থাকায় নির্বাচনের কোন উত্তাপ এখনও দেখা যায়নি সৈয়দপুরে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরন নাহার বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত কোন মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নৌকা-ধানের শীষে উদ্বেলিত রাজশাহীর ভোটার

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের ভোটের লড়াই শেষ কবে হয়েছিল তা প্রায় ভুলতেই বসেছিল প্রার্থীরা। সর্বশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দীর্ঘদিন পর বেশ কয়েক দফা নির্বাচন হয়েছে। তবে প্রতীক হিসেবে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হয়নি। এবার সেই স্বাদ পেতে চলেছেন ভোটাররা। এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন নৌকা ও ধানের শীষে ভোটযুদ্ধে নামার আগে ভোটাররাও উদ্বেলিত।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর আসন্ন পৌর নির্বাচনে দুই প্রতীক আবার মুখোমুখি হচ্ছে ভোট যুদ্ধে। তাই এ ভোটে প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অন্য রকমের উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ভোটের মাঠে আর একদিন পরই দেখা যাবে প্রতীকের ছড়াছড়ি। তবে প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনের প্রচারণায় প্রার্থীরা নেমেছেন এরই মধ্যে। শীতের সকালে সূর্য ওঠার আলোকচ্ছটার আগেই প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন পৌর এলাকার গ্রাম-গঞ্জে। ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এখন সবখানে। রাজশাহীর মু-ুমালা পৌর এলাকার সাদীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, ‘মেল্যাদিন পরে ভোটের মাঠত নামমু বারে। খেলা এবার জমে গেলছে। নৌকা আর ধানের শীষের যুদ্ধটাই আলাদা। মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার ভ্যানচালক সাদরুল ইসলাম জানান, নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক পায়া ভালোইতো লাগিত্তে। ন্যাতারা খালি স্যালাম দেত্তে। ভালই লাগিত্তে। চারিদেক খ্যালি ভুটভুট করিত্তে। পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি জানান, দীর্ঘদিন পরে দুই প্রতীক ভোট যুদ্ধে মাঠে নামার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা বেশি। সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

দলীয় প্রতীকের বিষয়ে মেয়রপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, দেশের মানুষ আগের মতো নেই। এখন মানুষ জানে নৌকা প্রতীক ছাড়া তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে কারণে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উৎসাহ আছে নৌকা প্রতীককে ঘিরে। রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সাধারণ ভোটার ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে দারুণ খুশিতে আছে। প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার জন্য অপেক্ষায় আছে তারা। প্রতীক ছাড়া যদিও প্রচার শুরু হয়ে গেছে। তারপরেও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কথা অন্যরকম। রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, এটি সংসদ নির্বাচন নয়, যে দলীয় প্রতীক প্রার্থীর পক্ষে বিজয়ী হতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।

সিরাজগঞ্জে কোমর বেঁধে মাঠে প্রার্থীরা

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ মার্কা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক প্রচারে শুরুতেই সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনীত ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলার প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন, ভোট চাইছেন। আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেছেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীরাও সঙ্গে ছিলেন। বিএনপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী ও দলীয় কর্মী সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করছেন। বসে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী টি আর এম নূরে আলম হেলালও। সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তার নৌকা পৌর এলাকার ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। তবে প্রচারে তেমন উত্তাপ নেই অন্য প্রার্থীদের, যেমনটা নৌকার উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই পাড়ায় মহলায় সভা সমাবেশ করছেন, দলীয় কর্মীরাও মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী বাহিনী দৃশ্যমান থাকলেও জামায়াতের কোন দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তবে শোনা যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াত এবার কৌশল বদলিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষাবলম্বন করেছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভার নির্বাচনে এবারের হিসেব একটু ভিন্নমাত্রা পেয়েছে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। ভোটাররা চায় যাকে ভোট দিলে বিপদে-আপদে কাছে পাওয়া যাবে, যিনি জনহিতকর কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবেন, এলাকার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে কাজ করবেন এমন মানুষটিকেই তারা বেছে নিতে চান, তাদের ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসানকে মনোনয়ন দিলেও আবদুর রউফ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীর কাছে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চমক এসেছে। দলের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে তিনি নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। তিনি মেয়র পদে নতুন মুখ। অন্য যারা প্রতিদ্বন্দিতায় নেমেছেন তাদের দু’জন বিএনপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী টিআরএম নুরে আলম হেলাল ইতোমধ্যেই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

দলীয়ভিত্তিক প্রথম পৌরসভা নির্বাচনে জেলার ৬ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। ভোটের আগে ভোট দিয়ে একক প্রার্থী নির্বাচনে কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী এখনও মাঠে নেই। দলের হাইকমান্ডের কড়া নির্দেশনায় মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা দলীয় সিদ্বান্ত মেনে নিয়ে একক প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। সিরাজগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাসদ, ইসলামী ঐক্যজোট আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এলডিপিসহ ২৭ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

বরিশালে প্রার্থিতা

ফিরে পেলেন

সাত প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার ছয় পৌরসভার নির্বাচনে বাতিল হওয়া এক মেয়রসহ ১৩ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের মনোনয়নপত্রের বৈধতা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপীল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক দফতর থেকে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা দিয়ে স্ব স্ব রির্টানিং অফিসারের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল হালিম খান।

বৈধতা পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, উজিরপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনিরুজ্জামান, একই পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদের ১নং ওয়ার্ডের হেমায়েত খলিফা, ৫নং ওয়ার্ডের সহদেব কুমার, আবুল হাসেম সরদার এবং ৭নং ওয়ার্ডের স্বপন হাওলাদার। এছাড়া গৌরনদী পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩নং ওয়ার্ডের প্রার্থী কাজী তৌফিক ইকবাল সজল ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের ১নং ওয়ার্ডের সালমা আক্তার ছবি। বাতিল হওয়া অপর ছয় প্রার্থীর আপীল খারিজ করে দিয়েছেন আপীল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। আপীল নিষ্পত্তির পর ছয় পৌরসভায় বৈধ মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ২৮ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬১ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২০৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গোপালগঞ্জে পাঁচ

প্রার্থীর আবেদন

খারিজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ১১ ডিসেম্বর ॥ গোপালগঞ্জের দুটি পৌরসভায় ৫ কাউন্সিলর প্রার্থীর বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র বৈধের আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খলিলুর রহমান শুনানি শেষে এ রায় দেন। এর আগে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় ১৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী প্রার্থীরা আবেদন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী সালমা আক্তার (ওয়ার্ড নং ৩, ৪, ৫), কাউন্সিলর প্রার্থী সাদ্দাম সিকদার (ওয়ার্ড নং-৯), রাসেল খান (ওয়ার্ড নং-৬), কাজী গালিব হোসেন (ওয়ার্ড নং-২) ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ তানজিল আহম্মেদ আসলামের (ওয়ার্ড নং-৪) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নাটোরে প্রার্থিতা

ফিরে পেলেন

৮ জন

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর, ১০ ডিসেম্বর ॥ বড়াইগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া ৮ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আরও তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর আপীল খারিজ হয়ে গেছে। নির্বাচনী আপীল বোর্ডের প্রধান জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন। রিটার্নিং অফিসার ইউএনও মোঃ রুহুল আমিন জানান, ১নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম ও রবিউল করিম আদল, ২নং ওয়ার্ডে মাসুদ রানা, ৫নং ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামান খান গোল্লা, ৬নং ওয়ার্ডে নবীর উদ্দিন ও আব্দুল জব্বার, ৮নং ওয়ার্ডে এমামুল হক লাবু এবং ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী শিউলী রাণী সাহা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে আপীলের পরও বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা, ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, ১নং ওয়ার্ডের ফিরোজ প্রামাণিক ও ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াজেদ আলীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

নওগাঁয় প্রার্থীদের চোখে ঘুম

নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ১১ ডিসেম্বর ॥ নওগাঁর দু’টি পৌরসভায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী হওয়ায় প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। তবে সকল প্রার্থীই নিজে বিজয়ী হবেন, এমনটাই ভাবছেন এখনও। ইতোমধ্যেই তারা শহরের বিভিন্ন দোকান-পাটে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, পাড়ায়-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে ভোটারদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব সারছেন নিজ নিজ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে।

নওগাঁ পৌরসভায় এবার মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন, দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষান (আওয়ামী লীগ), নজমুল হক সনি (বিএনপি), মোঃ আব্দুল ওয়াহাব (স্বতন্ত্র), ইফতেখারুল ইসলাম বকুল (জাতীয় পার্টি) এবং শহীদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)। এছাড়া সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ২নং ওয়ার্ডে ৬ জন এবং ৩নং ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন, ৬৪ জন। এর মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে ১২ জন, ২নং ওয়ার্ডে ৯ জন, ৩নং ওয়ার্ডে ৬ জন, ৪নং ওয়ার্ডে ৭ জন, ৫নং ওয়ার্ডে ৩ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ৬ জন, ৭নং ওয়ার্ডে ৫জন, ৮নং ওয়ার্ডে ৭ জন এবং ৯নং ওয়ার্ডে ৯ জন প্রার্থী হয়েছেন।

অপরদিকে নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন, আনোয়ার হোসেন (বিএনপি), রেজাউল কবির চৌধুরী (আওয়ামী লীগ) ও আজগর আলী (জাতীয় পার্টি)। সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ২নং ওয়ার্ডে ৫ জন এবং ৩নং ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে ৪জন, ২নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ৩নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ৪নং ওয়ার্ডে ৩জন, ৫নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ৭নং ওয়ার্ডে ৬জন, ৮নং ওয়ার্ডে ২ জন এবং ৯নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন, ৫ জন। তবে রবিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। ওইদিনই জানা যাবে, প্রকৃতপক্ষে কে কে প্রার্থী থাকছেন, আর কে কে থাকছেন না।

বোয়ালমারীতে বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

সংবাদদতা, বোয়ালমারী, ফরিদপুর ১১ ডিসেম্বর ॥ আসন্ন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আ. শুকুর শেখকে সতর্কীকরণ নোটিস দিয়েছে রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু খায়রুজ্জামান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্কীকরণপত্রটি ইস্যু করে মেয়র প্রার্থী আ. শুকুর শেখকে পৌঁছে দেয়া হয়।

কাজীপুরে নির্বাচনী মাঠে

নাসিমের

দুই ভক্ত

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ কাজীপুর পৌরসভায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দুই ভক্ত। একজন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী নিজাম উদ্দিন। অপরজন বিএনপি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম। আব্দুস সালাম নিজেকে নাসিম অনুসারী ও ভক্ত পরিচয় দিয়ে ভোটারের কাছে ভোট চাইছেন। দশ হাজার একশ ২৫ ভোটারের এই পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র মাত্র দশটি। নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন আলহাজ নিজাম উদ্দিন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মাসুদুর রায়হান মুকুল এবং বিএনপি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম। শুক্রবার কাজিপুরের নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই জন। আর এরা দু’জনই মোহাম্মদ নাসিমের ভক্ত বলে ভোটারের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করছেন।

বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম গত পৌর নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হলেও পৌরসভার উন্নয়নে মোহাম্মদ নাসিমের মতাদর্শ অনুসরণ ও পরামর্শ নিয়েই উন্নয়ন কাজ করেছেন বলে তিনি জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন। আলাপচারিতায় তিনি এও বলেছেন- বিএনপির পৌর সভাপতি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌর মেয়র নির্বাচিত হবার পর কাজিপুরে উন্নয়নে মোহাম্মদ নাসিমের কর্মকা-ের প্রতি আস্থাবান হয়ে আমি নিজেই কখন নাসিম লীগ বা নাসিম ভক্ত হয়ে ওঠেছি, তা জানি না। এর পর এবারের নির্বাচনে তিনি তার দল বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাসিম ভক্ত পরিচয় দিয়ে পৌর নির্বাচনে প্রচার চালাচ্ছেন। কাজিপুর পৌরসভার মূল কেন্দ্র আলমপুর চৌরাস্তায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম জনকণ্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ সব কথা বলেছেন।

এ দিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি কাজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নৌকার প্রচারও জোরেশোরে চলছে। দলীয় কর্মী বাহিনী নিয়ে প্রতিদিন প্রার্থী নিজে এবং তার সমর্থকেরা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিমের ভক্ত বলে যে পরিচয় দিচ্ছেন তা তিনি শুনেছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন- এটি তার ব্যর্থতা ঢাকার অপকৌশল মাত্র। বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেই তিনি নাসিমের ভক্ত হতে পারেন না। নাসিম তা মেনেও নেবেন না। অপর দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রায়হান মুকুলের কোন কর্মী সমর্থককে মাঠে দেখা যায়নি। কেউ বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন তাও আলমপুর চৌরাস্তা বা আশপাশের কোন স্থানে শোনা যায়নি।

বীরগঞ্জে আ’লীগের

বিদ্রোহী প্রার্থীর

প্রার্থিতা

প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ বীরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মকছেদ আলী মিঞা মেয়রপদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বীরগঞ্জে আসন্ন পৌরস??