২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রযুক্তি প্রসারে এ্যাপলের কিছু আইটেম

সম্প্রতি উন্মোচিত ১২.৯ ইঞ্চির ‘আইপ্যাড প্রো’-এর জন্য ‘এ্যাপল পেন্সিল’ নামের স্টাইলাস বাজারজাত করবে এ্যাপল। বলে রাখা ভাল, স্টাইলাস ব্যবহারের ঘোর বিরোধী ছিলেন স্বয়ং গুরু স্টিভ জবস। ঈশ্বর প্রদত্ত ১০ খানা আঙুলই স্টাইলাস হিসেবে ব্যবহারের পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। স্টিভ জবসের প্রয়াণের পর ক্রমশ তার ছায়া থেকে সরে এসেছে এ্যাপল। জবসের অপছন্দের অনেক কিছুই স্থান করে নিয়েছে এ্যাপল পণ্যের তালিকায়, জানিয়েছে সিএনএন।

স্টাইলাস ॥ ৯ সেপ্টেম্বরের এ্যাপল ইভেন্টে ‘এ্যাপল পেন্সিল’ নামের স্টাইলাস উন্মোচনের ঘোষণার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায় এ্যাপল ডিভাইসে স্টাইলাস ব্যবহার কতটা ‘বিস্ময়কর’ ছিল। সিএনএন জানিয়েছে, ১৯৯৭ সালে এ্যাপলে ফিরে এসে স্টিভ জবস প্রথম যে কাজটি করেছিলেন সেটা হলো ‘নিউটন’ নামের একটি ডিভাইস নিয়ে গবেষণার কাজ বন্ধ করে দেয়া। বর্তমানের ট্যাবলেট কম্পিউটারের সঙ্গে বেশ মিল ছিল নিউটনের। কিন্তু জবসের ‘চক্ষুশূল’ স্টাইলাস নির্ভর হওয়ার আলোর মুখ দেখেনি নিউটন। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে জবস সোজা কথায় বলেছিলেন, ‘ইয়াক! নোবডি ওয়ান্টস এ স্টাইলাস।’ সাবেক এ্যাপল সিইওর চোখে স্টাইলাস বরাবর উপেক্ষিত থাকলেও বহুল আলোচিত ‘আইপ্যাড প্রো’তে তা ঠিকই রাখা হয়েছে। ১২.৯ ইঞ্চি আকারের আইপ্যাডটির জন্য তৈরি স্টাইলাসটির মূল্য ধরা হয়েছে ৯৯ ডলার।

ছোট ডিসপ্লের ট্যাবলেট ॥ জবস ছোট ডিসপ্লে­ ট্যাবলেটের প্রতি তাঁর বিরক্তির কথা জানিয়েছিলেন ২০১০ সালেই।

সিএনএন জানিয়েছে, ভাল মানের ট্যাবলেট এ্যাপসের জন্য ডিসপ্লের আকার ন্যূনতম ১০ ইঞ্চি হওয়া উচিত বলে মনে করতেন জবস। তবে জবসের মৃত্যুর এক বছর পরেই ছোট আকারের ‘আইপ্যাড মিনি’ বাজারে আনে এ্যাপল যা প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ডিভাইসগুলোর একটি।

বড় আইফোন ॥ স্টিভ জবস সব সময় ছোট আকারের আইফোন বানানোর পক্ষপাতী ছিলেন। ২০১০ সালে বড় আকারের ফোন বানানোর বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ‘কেউই কিনবে না’ বলে উড়িয়ে দেন জবস। জবসের মৃত্যুর পর তুলনামূলক বড় আকারের আইফোন-৫ বাজারজাত করে এ্যাপল। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বড় আকারের আইফোন-৬এস এবং ৬এস প্লাস বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও নতুন আইফোনে বেশ কিছু এ্যাপ ও ফিচার প্রয়াত স্টিভ জবসের পছন্দ হতো না বলে জানিয়েছে সিএনএন।

জনসেবা ॥ ১৯৯৭ সালে এ্যাপলে ফিরে এসে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন জবস। এ্যাপলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। ইউটু ভোকাল বনোর এইডস সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পরিচালিত চ্যারিটি ‘রেড’-এ এ্যাপল নানাভাবে সহযোগিতা করলেও এতে জবসের ভূমিকা ছিল নিতান্তই গৌণ। ২০১১ সালে টিম কুক এ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জনসেবামূলক কাজে এ্যাপল পুনরায় অংশগ্রহণ শুরু করে।