২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

না’গঞ্জে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

  • পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ, ১১ ডিসেম্বর ॥ পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে বহিষ্কার ও শিক্ষকদের মারধর করায় নগরীর ডিআইজি বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত গণবিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে রাগে ক্ষোভে অভিমানে ওই স্কুল ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবণী (১৪) আত্মহত্যা করে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্কুল ছাত্রীর ডায়েরি থেকে হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করলে আত্মহত্যার কারণ বেরিয়ে আসে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্রীর পরিবার। তবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, এই ঘটনায় কোন শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার নগরীর ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত গণবিদ্যানিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ওই দিন নবম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবণীর পদার্থবিদ্যা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা চলাকালে শ্রাবণীর নকল করার অভিযোগ এনে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার তার খাতা আটক করার পর বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না ওই খাতা নিয়ে শ্রাবণীকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং তাকে পরীক্ষার হলে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে অপমানজনক কথা বলে ভৎর্সনা করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শ্রাবণী বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ সময় তার পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না।

শ্রাবণীর মা সেতারা বেগম ও বাবা হাবিব উল্লাহ অভিযোগ করেন, স্কুলের শিক্ষকদের অপমান সহ্য করতে না পেরেই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার ডায়েরি থেকে আত্মহত্যার কারণ সর্ম্পকে হাতে লেখা চিরকুট দেখে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন। তারা এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানান।

মৃত্যুর আগে শ্রাবণী তার ডায়েরিতে লিখেছে, প্রিয় মা, আমার অবস্থার জন্য দায়ী আমাদের স্কুলের নাসরিন মিস। সে বিনা কারণে আমার পরীক্ষা দেয়াটা বাতিল করে দিছে। মা আমি তাদেরকে অনেক বলছি, কিন্তু তারা কেউ আমার কথা শুনে নাই। মা মুন্না স্যার আমাকে বিনা কারণে মারেছে, সবাই আমারে বিনা কারণে মেরেছে। মা পুরো স্কুল আমারে নিয়ে হাসাহাসি করেছে। এগুলো সহ্য করতে পারি নাই। তাই আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলাম। মা যদি পার আমাকে মাফ করে দিয়ে, জুয়েল ভাইরে বইলেন আমাকে মাফ করে দিতে। ইতি হাবিবা, মা আমারে কাটাছিরা করতে না কইরেন।’

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এই ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।