২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মানের ফলে বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিরাট সাফল্য অর্জিত হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার যে কাজ আমরা শুরু করেছি তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে। প্রধানমন্ত্রী সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনারা দোয়া ও সহযোগিতা করবেন যাতে করে সময়মত সেতুর কাজ শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বাধা বিঘœ অতিক্রম করেছি। শত বাধাবিঘœ অতিক্রম করে বাংলাদেশীরা আজ প্রমান করেছে যে বাংলাদেশীরাও পারে। তিনি াারও বলেন কারো কাছে ভিক্ষা করে নয়, হাত পেতে নয়, আমরাও পদ্মাসেতুর মত একটা বিশাল সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মান করতে পারি। সেই যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা আমরা অর্জণ করেছি। বাংলাদেশ সেটা পারবে, কারণ তা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জণ করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে মাবোনের আতœ ত্যাগের বিনিময়ে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বরেন বাংলাদেশ বিশ্বসভায় উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই হচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আমরা পূরণ করব। তিনি শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর মূল কাজের পাইলিংয়ের উদ্বোধন শেষে সূধী সমাবেশে বক্তব্য কালে এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে শরিয়তপুরের জাজিরায় সেতুর নদী শাসনের কাজের উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিটে স্পীডবোট যোগে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। দুপুর ১২টা ৫০ শে প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে এসে পৌছান। পরে ১২ টা ৫৫ তে মূল সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। পদ্মাসেতুর মূল কাজের উদ্বোধনে পদ্মার দু’পারেই এখন উৎসব আমেজ চলবে।

এদিকে বিকাল ৩টায় লৌহজংয়ের মেদেনীমন্ডলে খান বাড়ির কাছে মহাসড়কের পশ্চিম প্রান্তে মাওয়া নতুন গোল চত্ত্বর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ইতোমধ্যে সমাবেশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনসাধারন আসতে শুরু করেছে। বাস, মিনি বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে লোকজন সমাবেত হচ্ছে সমাবেশস্থলে। নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে ব্যানার ফ্যাস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা।

ইতিমধ্যেই সেতুটির প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ স¤পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে মুলসেতু নির্মাণের ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, নদী শাসন কাজের ১৩ শতাংশ এবং সংযোগ সড়কের উভয়প্রান্তে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়েগেছে। এর আগে পরীক্ষামূলক পাইলিং চলেও এবার শুরু হচ্ছে মূল পাইলিং।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু নির্মাণ হলে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণ জনপদ। দ্বিতীয় তলা সেতুর নিচতলায় ট্রেন চলবে। এশিয়ান হাইওয়ের রুট হিসেবেও এই সেতু ব্যাবহার করা হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে। পদ্মা সেতু ঘিরে হংকংয়ের আদলে নগর গড়ার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এছাড়া রাজধানীর সঙ্গে পদ্মা সেতুর যোগাযোগ সহজ করতে মাওয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত চার লেইনের সড়ক হবে। রাজধানীর বিজয়নগর থেকে ঢাকা-মাওয়া সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে হবে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার।

পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের অর্থনীতিতে বিপ্লবের চেয়েও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যে স্বপ্নপূরণ হবে, তার মূল্য অর্থনৈতিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। গোটা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।