২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলল স্বপ্নের দুয়ার ॥ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে অবশেষে ফলক উন্মোচন

খুলল স্বপ্নের দুয়ার ॥  দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে অবশেষে ফলক উন্মোচন
  • নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বিতল সেতুর আনুষ্ঠানিক নির্মাণযজ্ঞ উদ্বোধন ;###;মাওয়া ও জাজিরাকে ঘিরে গড়ে উঠবে স্যাটেলাইট শহর, চাঙ্গা হবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

উত্তম চক্রবর্তী/মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জল, মাওয়া থেকে ॥ খুলে গেল পদ্মা সেতুর স্বপ্নের দুয়ার। দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রমত্ত পদ্মার বুক ফুঁড়ে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মূল পদ্মা বহুমুখী সেতুর দৃশ্যমান নির্মাণের আনুষ্ঠানিক মহাকর্মযজ্ঞ। এতদিন এটিকে স্বপ্নের সেতু নামেই ডাকা হতো। কিন্তু এখন আর স্বপ্ন নয়, খরস্রোতা পদ্মার গভীরে সাত নম্বর পিলারের পাইল বসানোর কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে সেটিকে শনিবার বাস্তবে রূপ দিলেন ষড়যন্ত্রের বিপরীতে দেশাত্মবোধের চ্যালেঞ্জবিজয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে মোট ৪২টি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে যাবে আলোচিত দ্বিতল পদ্মা সেতুটি। মহাচ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই দ্বিতল সেতুটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণযজ্ঞের উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাবিশ্বকে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিলেনÑ কারও সাহায্য ছাড়াই পদ্মা সেতুর মতো যে কোন বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম বাংলাদেশ।

শনিবার শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর নদী শাসন এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ মুখেই এ সেতু নির্মাণে দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র এবং নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণে তার সরকারের মহাচ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন অকপটে। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ষড়যন্ত্রে দেশী-বিদেশী চক্র জড়িত। মিথ্যা অজুহাতে বিশ্বব্যাংক আমাদের অর্থ দেয়নি, কিন্তু আমরা বসে থাকিনি। বাঙালী জাতি বীরের জাতি, কারও কাছে মাথানত করে না। নিজস্ব অর্থায়নেই এ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই, কারও সাহায্য ছাড়াই পদ্মা বহুমুখী সেতুর মতো যে কোন বৃহৎ প্রকল্প বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সক্ষম। বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, আমরা তা প্রমাণ করেছি। বিশ্ববাসী দেখুক আমরাও পারি।

দেশের ৪৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্পের নাম এই পদ্মা বহুমুখী সেতু। প্রায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ সেতু দিয়ে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে যুক্ত হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের ২১ জেলা। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল এই সেতু বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। আর সেই স্বপ্নের মূল সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হলো দৃশ্যমান সেতু নির্মাণের মূল কর্মযজ্ঞ।

ঘন কুয়াশার কারণে এক ঘণ্টা বিলম্বে বেলা এগারোটায় হেলিকপ্টারযোগে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা সুধীসমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানস্থলে এসেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগেই প্রমত্তা পদ্মার পারে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সুধীসমাবেশটি একপর্যায়ে বড় জনসভায় রূপ নেয়।

শীত ও প্রবল ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে স্লোগান আর বাদ্য-বাজনার তালে তালে হাজার হাজার উৎফুল্ল মানুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন। মূল প্যান্ডেলে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় বাইরের চতুর্দিকে থাকা হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যাতে শুনতে পারে সেজন্য স্থাপন করা হয় বেশ কয়েকটি বিশাল বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিন। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা স্বপ্ন পূরণের সেই বিশাল চ্যালেঞ্জের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে।

জাজিরার নাওডোবা পয়েন্টে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আয়োজিত সুধীসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

নদী শাসন কাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে স্পিডবোটে যান পদ্মার মাওয়ার পাড় থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে নদীর গভীরে। সেখানে পদ্মা সেতুর সাত নম্বর পিলারের স্থান পরিদর্শন শেষে ফিরে আসেন মাওয়া ঘাটে। সেখানে সাত নম্বর পিলারের পাইল বসানোর কাজের ফলক শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও একটি সুধীসমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। আর এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়েই প্রমত্ত পদ্মার বুক চিড়ে শুরু হলো বহুল আলোচিত দ্বিতল পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কাজ। একেকটি পিলার যখন মাথা তুলবে নদীর বুক ফুঁড়ে তখনই স্বপ্নের খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে সেতুর মুখ। এমনিভাবে ৪২ পিলারের উপর দাঁড়িয়ে যাবে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্বপ্নের পদ্মা সেতুটি। উপর দিয়ে হবে সড়ক সেতু, নিচ দিয়ে যাবে রেল। ২০১৮ সালের নবেম্বরের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মা দু’কূলেই যেন অন্যরকম জাগরণের সৃষ্টি হয়েছিল। সর্বত্রই ছিল সাজ সাজ রব। দু’পারের লাখো মানুষের চোখে-মুখে ছিল স্বপ্ন পূরণের ঝিলিক। যে পদ্মা সেতু তাদের কাছে এতদিন ছিল নিছকই স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন এত অল্পদিনের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নেবে, মূল সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ শুরু হবেÑ তা ছিল তাদের স্বপ্নেরও অতীত। দেশী-বিদেশী সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে শনিবার মূল সেতুর নির্মাণ ও নদী শাসনের কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি কোটি জনগণের হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ পদ্মার বিশাল এলাকাজুড়েই নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রমত্ত নদীতে পালতোলা নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত অসংখ্য নৌকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিনন্দন বিশাল বিশাল ছবি টাঙ্গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রকল্প দুটির কাজের উদ্বোধন করে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার উত্তর মেদেনীম-ল খানবাড়ীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য প্রদান শেষে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সুধীসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সেতুটি নির্মাণে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। আজ মূল সেতুর নির্মাণের উদ্বোধন করতে এসে আমিও আবেগাপ্লুত। দেশবাসীর জন্য আজ একটি গৌরবের দিন, আনন্দের দিন। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু ও নদী শাসনের কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে পদ্মার মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলো। আশা করছি ২০১৮ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ সেতু দিয়ে যানবাহন এবং রেল পারাপার শুরু হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সেতুটি নির্মাণে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য দিতে এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে ঘুষ গ্রহণের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। আমরা যখন প্রমাণ চেয়ে বললাম যে টাকা-পয়সার কোন লেনদেনই হলো না, তাহলে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি এলো কিভাবে? তারা বলল, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা নাকি ঘুষ গ্রহণের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আমরা প্রমাণ চাইলে বিশ্বব্যাংক দুটো কার্যাদেশের কাগজ দিল। ওই কার্যাদেশটি আমাদের আমলে ছিল না, সেটি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর বাইরে অন্য কাজের। কিন্তু তারা কোন প্রমাণই দিতে পারেনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে বলেন, আমাদের দেশে বিশ্বখ্যাত এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি দীর্ঘদিন অবৈধভাবে একটি ব্যাংকের এমডি পদে ছিলেন। এ কারণে তাকে সরিয়ে দিলে উনি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে হেরে গিয়ে তাকে ওই ব্যাংকের এমডি পদটি ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে উইকিলিকসের তথ্যেই বেরিয়ে আসে, ওই ব্যক্তিটির মেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশকে অনুরোধ করে বলা হয় বাংলাদেশকে যেন সাহায্য না করা হয়। এরপর তৎকালীন বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ডের কোনরূপ অনুমতি না নিয়েই অন্যায়ভাবে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, এই ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগটি ছিল একটা গভীর ষড়যন্ত্র। দেশী-বিদেশী চক্র এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশ্বব্যাংক যেহেতু সরে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার আর পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না। মিথ্যা অজুহাতে বিশ্বব্যাংক আমাদের অর্থ দেয়নি। তাই বলে আমরা বসে থাকিনি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তখনও অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে গেছি। আর তার ফলেই আজ সেতু নির্মাণের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিতে পেরেছি। ৩৬ মাস পরই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের হাজার বছরের দুর্ভোগ এবং বঞ্চনার অবসান হবে ইনশা আল্লাহ। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই, কারও সাহায্য ছাড়াই পদ্মা বহুমুখী সেতুর মতো যে কোন বৃহৎ প্রকল্প বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করার পর আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেই। এ সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের দুর্নীতিবাজ বানানো ও হেয় করার নানা অপচেষ্টা চলে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়ে দেইÑ বিশ্বব্যাংক থেকে অর্থ নেব না, নিজের অর্থ দিয়েই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমরা দেখিয়ে দেব, আমরাও পারি। তিনি বলেন, আমরা বাঙালী জাতি বীরের জাতি। কারও কাছে মাথানত করে আমরা চলি না। বাঙালী জাতি অসাধ্য সাধন করতে পারে, সেটি আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। তাই এই পদ্মা সেতু দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যরা সবাই অবহেলার চোখে দেখেছে। আমরা দক্ষিণাঞ্চলে নতুন পোর্ট করেছি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। রেলওয়ের যোগাযোগও উন্নত হবে। তিনি বলেন, এ সেতু নির্মাণের ফলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা মাওয়া ও জাজিরাকে ঘিরে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তুলব। আন্তর্জাতিকমানের হোটেল-রিসোর্ট গড়ে তোলা হবে। পর্যটকের আকর্ষণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি দিয়ে সহযোগিতার জন্য মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে বলেন, এ এলাকার জনগণকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা জমি দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ সেতু নির্মাণের সহযোগিতা করেছেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। আপনাদের যাতে কোনরকম কষ্ট না হয় সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব ইনশা আল্লাহ। আপনারা অচিরেই দেখতে পারবেন এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চেহারা পাল্টে গেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ’৯৬ সালেই ক্ষমতায় এসে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। জাপান সফরে গিয়ে সেদেশের সরকারের কাছে রূপসা ও পদ্মা সেতু নির্মাণে সহযোগিতার অনুরোধ করি। জাপান সরকার তাতে রাজি হয়। মাওয়া পয়েন্ট দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য জাপানের উদ্যোগে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এমনকি তারা মাওয়া থেকে সরিয়ে পাটুরিয়াতে পদ্মা সেতু সরিয়ে নেয়ারও চক্রান্ত করে। শেষপর্যন্ত প্রকল্পটিই পরিত্যক্ত করে। আসলে বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাস-দুর্নীতি, জঙ্গীবাদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়নে কোন কাজ করেনি। তারা সবদিক থেকে দেশকে অকার্যকর করে দেয়ার চেষ্টা করে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেনÑ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, তারেক আহমেদ সিদ্দিক, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কর্নেল (অব) শওকত আলী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, হাবিবুর রহমান সিরাজ, এনামুল হক শামিম, পংকজ দেবনাথ, নাহিম রাজ্জাক ও সাইফুর রহমান সোহাগ। এছাড়াও মাওয়ায় সুধীসমাবেশে উপস্থিত ছিলেনÑ ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, স্থানীয় এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ প্রমুখ। উভয় অনুষ্ঠানেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ সামরিক-বেসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।