২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ

  • প্রতীক বরাদ্দ আগামীকাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌর নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না তাদের আজকের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ রবিবার। ইসি জানিয়েছে আজকের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে যারা থাকবেন তারা পৌর নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাদের মধ্যে আগামীকাল সোমবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। দলীয় প্রার্থীরা পাবেন দলের নির্ধারিত প্রতীক। আর যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন তাদের দেয়া হবে ইসি নির্ধারিত প্রতীক। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আজ রবিবার প্রত্যাহার শেষে আগামীকাল থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক নিয়ে প্রচার শুরু করবেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর যেসব প্রার্থীর দলীয় প্রত্যয়ন রয়েছে তাদের অনুকূলে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার অনুমতি দেবেন তিনি। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা সীমিত আকারে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কাল থেকে নামবেন আনুষ্ঠানিকভাবে।

ইসির হিসাব অনুযায়ী প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে নিবন্ধিত ২০ রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো পৌরসভায় প্রার্থী রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি রাজনৈতিক জোটের। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির ১০ ও আওয়ামী লীগের ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে যেসব পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে সেসব পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীক নিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কমিশনের হিসাবে যেসব দলের পক্ষে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়েছে তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নৌকা প্রতীকে। বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাঙ্গন প্রতীক নিয়ে। এর বাইরে আর যেসব রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাদের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রার্থীরা মশাল প্রতীকে, বিকল্পধারা বাংলাদেশ কুলা প্রতীকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল প্রতীকে, ওয়ার্কার্স পার্টি হাতুড়ি প্রতীকে, বিএনএফ টেলিভিশন প্রতীকে, এনপিপি আম প্রতীকে, পিডিপি বাঘ প্রতীকে, খেলাফত মজলিশ দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে, এলডিপি ছাতা প্রতীকে, বাসদ মই প্রতীকে, সিপিবি কাস্তে প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ার প্রতীকে, ইসলামী ঐক্যজোট মিনার প্রতীকে, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ফুলের মালা প্রতীকে ও ন্যাপের প্রার্থীরা কুড়ে ঘর প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা ইসির বরাদ্দকৃত ১২টি প্রতীক ইস্ত্রি কম্পিউটার, ক্যারামবোর্ড, চামচ, জগ, টাই, নারিকেল গাছ, বড়শি, মোবাইল ফোন, রেলইঞ্জিন, হ্যাঙ্গার ও হেলমেট প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের উটপাখি, গাজর, টিউব লাইট, টেবিল ল্যাম্প, ডালিম, ঢেঁড়স, পাঞ্জাবি, পানির বোতল, ফাইল কেবিনেট, ব্রিজ, ব্লাকবোর্ড, স্ক্রু ড্রাইভার যে কোন একটি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। এছাড়া সমালোচনা থাকলেও এবার নারী কাউন্সিলরদের তাদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। তাদের প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে আঙ্গুর কাঁচি, গ্যাসের চুলা, চকোলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি, ও হারমোনিয়াম। স্বতন্ত্রী মেয়র ও নির্দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আজ রবিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন থেকেই পৌরসভায় আচরণবিধি রোধে প্রতি পৌরসভার একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটের আগে-পরে চারদিন করে আরও এক হাজার নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পৌর নির্বাচনে ৯৭০ জন নির্বাহী হাকিম এবং ২৩৪ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার প্রায় ১২শ’ নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মহসিনুল হক। ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর ১৪ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইসির সামসুল আলম জানান, পৌরসভা নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিটি পৌরসভার জন্য ২৩৪ জন হাকিম প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ ডিসেম্বর থেকে ভোটের পরদিন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন নির্বাহী হাকিম।

ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অপরাধে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অনধিক ৬ মাসের কারাদ-ের বিধান রয়েছে। বিচারিক হাকিম নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সাজা দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। অন্যদিকে নির্বাহী হাকিম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর সাজা দিতে পারেন। এর সঙ্গে অর্থদ-েরও বিধান রয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসির রয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌর সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে পৌরসভা নির্বাচনে ২৩৫টি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এক হাজার ২২৩টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ৭৯৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৬৬৮ জন মোট ১৩ হাজার ৬৮৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেয়। রিটার্নিং কর্মকর্তারা গত ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ হাজার ৬৪২ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করে। এর মধ্যে মেয়র পদে রয়েছেন ৯৬১, কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ১৬৯ এবং সংরক্ষিত পদে ২ হাজার ৫১২ প্রার্থী রয়েছেন। তবে আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষ দিনে যারা প্রার্থী হিসেবে থাকছেন তারাই পৌর নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের মধ্যে আগামীকাল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে ভোটের চূড়ান্ত আসরে নেমে পড়বেন।