১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যারিসে আইনী চুক্তির দুর্বল সমঝোতা

  • যে কোন সময় অনুমোদন

কাওসার রহমান, প্যারিস থেকে ॥

দুর্বল হলেও একটি আইনী চুক্তির সমঝোতায় পৌঁছেছে প্যারিস। চার বছর ধরে আলোচনা এবং গত ১৩ দিনের একটানা পরিশ্রমের পর বিশ্ব নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে একটি চূড়ান্ত অর্থপূর্ণ সার্বজনীন চুক্তির সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হন। এখন শুধু অপেক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের। যে কোন সময় এই চুক্তি অনুমোদন হতে পারে।

চুক্তিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের রক্ষার জন্য ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও, তাদের মাইগ্রেশনের বিষয়টি মূল চুক্তি থেকে উধাও হয়ে গেছে। এছাড়া জলবায়ুর ক্ষয় ও ক্ষতির দায় দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণ প্রদান থেকে সরে এসেছে উন্নত দেশ। এ বিষয়টি ইন্স্যুরেন্সের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

৩১ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত চুক্তির সংস্করণে বাংলাদেশের প্রধান ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয় ও ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা ওয়ারশো ইন্টান্যানাল ম্যাকানিজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো এই ক্ষয় ও ক্ষতির কোন দায়-দায়িত্ব নেবে না এবং ক্ষতিপূরণ দেবে না। এ ক্ষয় ও ক্ষতির দায় দায়িত্ব ইন্স্যুরেন্সের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজম অনুযায়ী গঠিত নির্বাহ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, জলবায়ুর উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করার।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারী- বেসরকারী অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০২০ সালনাগাদ প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি কোপেনহেগেন সম্মেলনে দেয়া হয়েছে, তাকে ভিত্তি ধরে এই অর্থায়ন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি, এ্যাডাপটেশন ফান্ড প্রভৃতি বিদ্যমান ফান্ডকে অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থায়নের কোন নিশ্চয়তা নেই চুক্তিতে। এ্যাডাপটেশনের জন্য কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হবে তারও কোন দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি।

মিটিগেশনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখা হবে এবং এই উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুল কাদির বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছতে পারব আশা করছি। অধিকাংশ দেশই চুক্তির চূড়ান্ত সংস্করণকে স্বাগত জানিয়েছে। আমরা একটি ইতিহাস তৈরির কাছাকাছি আছি।’

দ্বীপ দেশ টুভালোর পরারষ্ট্র মন্ত্রীর এই খসড়া চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই চুক্তিকে সমর্থন জানাব।’ শুধু টুভালোই নয়, অনেক দেশের মন্ত্রীই নতুন প্যারিস চুক্তির খসড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, গত দুই দিনে পর্দার আড়ালে এই চুক্তির ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিয়াসের নেতৃত্বে আট দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে গঠিত প্যারিস কমিটি দুপুর ২টার দিকে প্যারিস চুক্তির চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সংস্করণকেই আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোচনা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনা চলছিল।