১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদীশাসন কাজ উদ্বোধন- শরীয়তপুরে আনন্দের জোয়ার

আবুল বাশার, শরীয়তপুর থেকে ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করায় শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বইছে আনন্দের জোয়ার। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সুধীসমাবেশে বক্তব্য দেন।

শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ বাংলার কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন ছিল প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর জাজিরা পয়েন্টে নির্মিত হবে পদ্মা সেতু। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় পদ্মাপাড়ে নদীশাসন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে পদ্মাপাড়ের মানুষের চোখে-মুখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নদীশাসন কাজের উদ্বোধন শেষে সকাল ১০টায় নাওডোবায় সুধীসমাবেশে বক্তব্য দেয়ার নির্ধারিত কর্মসূচী ছিল কিন্তু সকাল ছিল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি দুপুরের আগে। কিন্তু এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে আটকে রাখতে পারেনি ঘন কুয়াশার আচ্ছাদন। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে দুর্গম বালুময় পথ পেরিয়ে চতুর্দিক থেকে ঢোল-ঢাক্কা বাঁজিয়ে স্রোতের বেগে আসতে থাকে। তাদের লক্ষ্যস্থল শেখ হাসিনার নদীশাসন কার্যক্রমের উদ্বোধনস্থল। সুধীসমাবেশস্থলের বাইরেও ছিল হাজার হাজার মানুষের ঢল। বিজয়ের মাসে তারা যেন আরেকটি বিজয় দেখতে আসে পদ্মা সেতুর মূল কাজের শুরুর মধ্য দিয়ে। তাদের মুখে ছিল স্বপ্ন পূরণের বিজয়ের হাসি। তাদের প্রত্যাশা, পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নয়নই হবে না, পদ্মাপাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা যাতায়াতের দূরত্ব চার ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র দেড় ঘণ্টা হবে। পদ্মাপাড়ে গড়ে উঠবে হংকংয়ের ন্যায় শিল্পনগরী। এখানে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে স্থানীয় বাসিন্দারা। বেড়ে যাবে উন্নয়নবঞ্চিত অবহেলিত পদ্মাপাড়ের মানুষের সহায়-সম্পদের মূল্য ও জীবনযাপনের মান। পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া সায়েদ মুন্সীর স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম, ফজলুল ঢালী, ফিত্তি বেগমসহ অনেকেই বলেন, যদিও পদ্মা সেতুর জন্য আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছে, তবুও আজ পদ্মা সেতু পেয়ে আমরা আনন্দিত ও খুশি।