২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাইনালে কুমিল্লা ॥ আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মুখোমুখি রংপুর-বরিশাল

ফাইনালে কুমিল্লা ॥ আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মুখোমুখি রংপুর-বরিশাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বদলে দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২০১৫ সালটি তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনালী বছরই হয়ে থাকছে। ঠিক তেমনি বিপিএলে ‘সাদামাটা’ দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নেতৃত্ব দিয়েও বাজিমাত করেছেন তিনি। শেষ চারে ওঠার পর মাশরাফি নিজেই বলেছিলেন, ‘এ দল নিয়ে এত দূরে আসব ভাবতেও পারিনি।’ সেই কুমিল্লাই শনিবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সাকিব আল হাসানের রংপুর রাইডার্সকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে নিয়েছে। সাকিবকে হারিয়ে বাজিমাত করেছেন মাশরাফি। আসহার জাইদি ব্যাট হাতে ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ ও বল হাতে ৪ উইকেট তুলে নেন।

তাহলে রংপুরের কী বিদায় ঘটেছে? নাহ্। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ম্যাচে রংপুর মুখোমুখি হবে বরিশাল বুলসের। বিজয়ী দল ১৫ ডিসেম্বর ফাইনাল খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে।

টুর্নামেন্টে কুমিল্লা, রংপুর ও বরিশাল বুলসই দাপট দেখিয়েছে। তিনদলই লীগ পর্ব শেষে সমান ১৪ পয়েন্ট করে পেয়েছে। রানরেটে গিয়ে কুমিল্লা প্রথম, রংপুর দ্বিতীয় ও বরিশাল তৃতীয় হয়। আর চতুর্থ দল ঢাকা ডায়নামাইটসের পয়েন্ট ছিল ৮। তাই নিয়ম অনুযায়ী প্রথম কোয়ালিফায়ারে পয়েন্ট তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় এবং এলিমিনেটর ম্যাচে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ দল অংশ নেয়। লীগের দুই সেরা দল ফাইনালে ওঠার জন্য প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলে। কিন্তু রংপুর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে এতটা ঝিমিয়ে পড়বে তা কেউ ভাবেনি।

টস জিতে রংপুর কুমিল্লাকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। ৭ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৬৩ রান করে কুমিল্লা। শুরুতে ৬৭ রান করা ইমরুল কায়েস ও ২৮ রান করা লিটন কুমার দাস মিলে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ৭৯ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপর কুমিল্লার ইনিংসে খানিক ছন্দপতন। ১১২ রানেই ৫ উইকেটের পতন ঘটে। কুমিল্লাও ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। তখন ম্যাচে বড় স্কোর গড়তে একজন ব্যাটসম্যানের হাল ধরতে হতো। আসহার জাইদি শুধু হালই ধরলেন না, ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কা হাঁকিয়ে অপরাজিত ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দলও মুহূর্তেই বড় স্কোর গড়ে ফেলে। থিসারা পেরেরা একাই ৫ উইকেট নেন।

কুমিল্লার ইনিংস শেষ হতেই রংপুরের হারের সম্ভাবনা উঁকি দেয়। কিন্তু রংপুরের ইনিংসের শুরুটাও হয় দুর্দান্ত। সৌম্য সরকার (৯) ও লেন্ডল সিমন্স (২৫) মিলে ধুমধারাক্কা ব্যাটিং করে ৪ ওভারেই ৩৩ রান স্কোর বোর্ডে যোগ করে ফেলেন। পঞ্চম ওভারে গিয়ে আবু হায়দার রনি যে টপাটপ দুই বলে সৌম্য ও সিমন্সকে সাজঘরে ফেরান, তাতেই রংপুরের ভিত নড়ে যায়। অষ্টম ওভারে গিয়ে যখন মোহাম্মদ মিঠুন ও সাকিবকে আউট করে দেন আসহার জাইদি, তখন রংপুরের সব আশা-ভরসারই যেন অপমৃত্যু ঘটে যায়! এরপরের সময়টুকুতে মোহাম্মদ নবী (১২) ও থিসারা পেরেরা (১১) মিলে যা একটু এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাতে কোন কাজই হয়নি। ১৭ ওভারে ৯১ রান করতেই রংপুরের ইনিংস গুটিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হারও হয়। রংপুরকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় কুমিল্লা।

একটি দল যখন ছন্দে থাকে, সবকিছু ভাল যায়, দলের সবাই মিলে একটি ‘ইউনিট’ হয়ে খেলে; তখন জয় আসেই। মাশরাফির ছোঁয়ায় যেমন বাংলাদেশ দল একটি ‘ইউনিট’ হয়ে গেছে। তাতে করে ছন্দে আছে। দিন ভাল যাচ্ছে। জয়ও মিলছে। তেমনি কুমিল্লাও মাশরাফির ছোঁয়াতে উড়ছে তো উড়ছেই। ফাইনালেই উঠে গেছে।

২০১০ সালে ব্যাকপেইন নিয়ে আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন মাশরাফি। এবারও সেই রকম লক্ষণই দেখা যাচ্ছে। ইনজুরি নিয়ে খেলছেন। দলকে জেতাচ্ছেন। তাহলে কী ২০১০ সালের মতোই কিছু হবে? মাশরাফি বললেন, ‘জানি না! আল্লাহর রহমত! আমরা ফাইনাল খেলতে পারছি এটা অনেক বড় স্বস্তি। এ ধরনের টুর্নামেন্টে অনেক প্রেসার থাকে। বাইরের প্রেসার বেশি থাকে। এখনও তো একটা ম্যাচ বাকি। চ্যাম্পিয়ন তো পরে। আরও একটা ম্যাচ বাকি আছে। তবে ফাইনালে যাওয়ায় এই মুহূর্তে ভাল লাগছে।’ ফাইনালে উঠে গেছে মাশরাফির কুমিল্লা। এখন ১৫ ডিসেম্বর ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলে আনন্দ ডাবলই হয়ে যাবে।

নির্বাচিত সংবাদ