২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন পর্যবেক্ষণে আজ আসছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি, আইএসের উপস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন ইত্যাদি পর্যবেক্ষণে আজ রবিবার ঢাকা আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেনÑ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক নতুন আন্ডার সেক্রেটারি টমাস এ শ্যানন, দক্ষিণ-মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনপ্রীত সিং আনন্দ।

ঢাকা সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রভাবশালী তিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ঢাকা সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দল সোমবার শ্রীলঙ্কা যাবে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির পর বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধি দল। এছাড়া বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উগ্র জঙ্গীগোষ্ঠী আইএস তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি রয়েছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সহায়তাও করতে চায় দেশটি। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে, এ দেশে আইএসের উপস্থিতি নেই। তাদের কোন কার্যক্রমও নেই। বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতির বিষয়ে এবারের মার্কিন প্রতিনিধি দলটির নজর থাকবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গৃহীত পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন প্রতিনিধি দল। এছাড়া তারা বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বিশেষ করে শিয়া মসজিদ ও খ্রীস্টান যাজকের ওপর হামলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন প্রতিনিধি দল। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিও পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন প্রতিনিধি দল। ভৌগলিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও ভারতের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানও নতুন করে পর্যবেক্ষণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকা সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে নজর দেবে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টমাস শ্যাননের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সরকার, সংসদ সদস্য, সুশীল সমাজ, শ্রমিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করবে। এছাড়া ইউএসএইডের সহায়তায় পরিচালিত একটি ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন তারা। প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন, সশস্ত্র জঙ্গীবাদ দমন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করবে।

ঢাকা সফরকালে টমাস শ্যানন ও নিশা দেশাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তারা সৌজন্য সাক্ষাত করবেন বলে জানা গেছে। টমাস শ্যানন রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।

টমাস শ্যানন আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে ওয়েন্ডি শেরম্যানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশে এটাই হবে শ্যাননের প্রথম সফর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোন দেশের কূটনীতিকের প্রথম সফরটি সাধারণত পরিচিতিমূলক সফর হয়ে থাকে। টমাস শ্যাননের এই সফরটিও সে ধরনের হবে। এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সর্বশেষ ঢাকায় বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শ্যারমেন ও দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের প্রধান নিশা দেশাই। তবে ওয়েন্ডি শ্যারমেনের পদে এখন টমাস শ্যাননকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে টমাস শ্যানন এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

গত মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টিকফার সফল বৈঠক হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইটের বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের বিষয় জানতে চেয়েছেন। টমাস শ্যানন বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন।

নিশা দেশাই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অনুবিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেজন্য তার অধীনের দেশগুলো তিনি ধারাবাহিকভাবে সফর করেন। নিশা দেশাই দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে তিনবার বাংলাদেশ সফর করেছেন।

নির্বাচিত সংবাদ