২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিজাত রিটেইল চেন শপ আগোরা ও মীনাবাজারকে জরিমানা

  • পচা বাসি মাছ মাংস বিক্রির জন্য সতর্ক করা হলো

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বার বার তাদের জরিমানা করা হয়। সতর্ক করা হয়। তবুও শিক্ষা নেয়নি অভিজাত শপিংমলের দাবিদার আগোরা ও মীনাবাজার। আমে ফরমালিন মিশ্রণ থেকে রোজাদারের ইফতারির খেজুরে ফরমালিন মিশ্রণ, পচা-বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রিসহ হেন অপকর্ম নেই- যা আগোরা করেনি। বার বার জরিমানা হয়েছে, কিন্তু তাদের শিক্ষা কিংবা বোধোদয় কোনটিই হয়নি। প্রতিবারেই দ্বিগুণ উৎসাহে অপকর্মে মেতে উঠেছে এসব প্রতিষ্ঠান। শনিবার এই দুটো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এ ছাড়া অভিজাতের দাবিদার নান্দোসকেও ভেজাল খাবারের দায়ে জরিমানা করা হয়।

বিশাল প্রচারের আড়ালে তারা বিষযুক্ত খাবার, এমনকি ক্যান্সারের জীবাণুবাহী ফরমালিন পুশ করছে গ্রাহকদের শরীরে। সবটাই শুধু মুনাফার আশায়। বার বার সতর্ক করেও কোন লাভ হচ্ছে না। যতবারই অভিযানে গেছি একটা না একটা অনিয়ম ধরা পড়েছেই। এমনকি একই অনিয়ম বার বার করছে আগোরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগেও একাধিক দফায় সতর্ক করা হয়। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শনিবার অভিযান পরিচালনার সময় পচা ও বাসি মাছ রাখার দায়ে আগোরার ধানম-ি শাখায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই জরিমানা করেন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেয়র সাঈদ খোকন। ওই অভিযানে ডিএসসিসির দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শোয়েব ও মামুন অংশ নেন। দুপুরের দিকে পরিচালিত ওই অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোঃ নাজমুস শোয়েব বলেন, পচা মাছ ও মাংস রাখা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন পণ্য রাখায় অপরাধে আগোরাকে নিরাপদ খাদ্য আইনে এই জরিমানা করা হয়েছে। এই আইনে ন্যূনতম জরিমানা তিন লাখ টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন। বেশি দামে পণ্য বিক্রি, মানহীন ও পচা মাছ রাখা, অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছিল আগোরার। ২১ জুলাই চট্টগ্রামে আগোরার একটি শাখায় অভিযানকালে আমে ক্যান্সারের জীবাণুবাহী ফরমালিন আবিষ্কার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন অনেক টাকা জরিমানা করা হয়। একই বছরের রমজান মাসে আগোরার শপে খেজুরে ফরমালিন আবিষ্কার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এবারও জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান।

কিন্তু এত জরিমানার পরও কি তাদের বোধোদয় হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসটিআই, ক্যাব, ভোক্তা অধিদফতর জানিয়ে দিয়েছে কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জরিমানা দিচ্ছে, মুচলেকা দিচ্ছে কিন্তু বার বার একই অপরাধ করছে।

তারা জানিয়েছে, ২১ জুন বিকেলে ধানম-ি ২৭ নম্বর রোড এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে এক ভেজালবিরোধী অভিযানে প্রচুর পরিমাণে পচা মাছ ও মুরগির মাংস রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়। কিন্তু ১২ ডিসেম্বর আবার যখন ওই একই শাখায় অভিযান পরিচালনা করা হয় তখনও নানা জাতের পচা-বাসি মাছ পাওয়া গেছে। তাহলে কিভাবে বলি তারা সংশোধন হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশী পণ্য রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়। একই অপরাধ পাওয়া গেছে তাদের জসিমউদ্দীন রোড শাখায় অভিযানে। গত ৮ অক্টোবর বিএসটিআইর অভিযানে সেনসোডাইন টুথপেস্ট, জনশন সাবানম, ফা টয়লেট সোপ, হারমোনি অরেঞ্জ সাবান ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেমি সাবান পাওয়া যায়। এবারও আগোরার জসিমউদ্দীন ব্রাঞ্চের তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মীনাবাজারে আবারও জরিমানা ॥ এদিকে শান্তিনগরে মীনা বাজারের আউটলেটে মাছ ও মাংসের প্যাকেটে মেয়াদ লেখা না থাকা এবং পচা মাছ বিক্রির দায়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের সতর্কও করা হয়। ভেজাল পণ্য রাখার দায়ে শনিবার রিটেইল চেন শপ মীনা বাজারকে এ জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এর আগেও গত ১ জুলাই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে লোগো ব্যবহার এবং শান্তিনগরের আউটলেটে পচা মাছ বিক্রির দায়ে জরিমানা গুনতে হয় মীনাবাজারকে। সে সময় তাদের সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা শোনেনি।

নান্দোসকেও জরিমানা ॥ এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে শনিবার ধানম-ি শাখার নান্দোসকেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)-এর মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই জরিমানা করেন।

ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান- মেয়রের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে ডিএসসিসির দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল শোয়েব ও মামুন অংশ নেন। দুপুরের দিকে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ফাস্টফুড খাবারের দোকান বার-বি-কিউকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে একই অভিযানে।

নির্বাচিত সংবাদ