২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দণ্ডিত মানবতাবিরোধীদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে হবে

  • রাজশাহীতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সম্মেলনে মুনতাসীর মামুন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাদের বিচার হচ্ছে এবং যাদের দ- কার্যকর করা হয়েছে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াফত করে মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টে দিতে হবে। আমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের লড়াই হবে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে রাজনীতিবিদরা পাশে না দাঁড়ালেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার দুপুরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাজশাহী জেলা, মহানগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর ভুবন মোহন পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা সাড়ে ১১টায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল এবং শহীদ পরিবারের সন্তান শাহীনা বেগম।

সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ’৭৫-এর পর থেকে এই চল্লিশ বছর বিএনপি-জামায়াত ও জতীয় পার্টির নেতারা ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের ওপর ব্যবসা করে বিত্ত-বৈভব বাড়িয়েছে। জমি দখল করেছে, দোকান লুট করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আজকে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াফত করা না হলে একদিন তাদের উত্তরাধিকারীরা শহীদ পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা হতে দেয়া যাবে না।

দেশে মৌলবাদের ভয়াল থাবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের অর্থনৈতিক ভিত্তি এভাবে বাড়তে দেয়া যাবে না। আপনারা আজকের (শুক্রবারের) জনকণ্ঠ পত্রিকার হেডিং দেখেন, কত কোটি টাকা তারা পাচ্ছে। সরকার বিষয়টা জানে, সরকারীভাবে অনেকেই তাদের সঙ্গে ব্যবসা করে। ইসলামী ব্যাংক মানি লন্ডারিং করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা করে অন্য ব্যাংকের ওপর চড়াও হয়। তার কারণ খুঁজে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, শরিয়া ব্যাংকের কথা বলে আমাদের তারা ধর্ম বুঝায়। সুদ ছাড়া ব্যাংক কীভাবে হয়! কীভাবে ইসলামী ব্যাংক একজনের কাছ থেকে এক শ’ টাকা নিয়ে বক্সে রেখে দশ টাকা মুনাফা দেয়। তারা ধর্মের নামে ব্যবসা করে। তার কারণ আমাদের দেশের মানুষ আজও মূর্খ, অজ্ঞ। সব ধর্মের মূল কথা হচ্ছে মানুষের কল্যাণ। আমরা সেটা করি না, ধর্ম পালন করি না। পুরো জাতিটাই আজ ভ-ামির মধ্যে পড়ে গেছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি মুনতাসীর মামুন আরও বলেন, ধর্মের নামে যদি ব্যবসা বন্ধ করতে হয় তাহলে প্রথমেই মাদ্রাসায় যেসব কুশিক্ষা দেয়া হয় তা বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করে জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি করেছেন। আর তারই সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলীয়া মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে এগুলো কুফরি, নারী নেতৃত্ব হারাম, একমাত্র ইসলামী নেতা মওদুদী, একমাত্র ইসলামী দল হলো জামায়াত। আমি বার বার শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ান। তিনি রাজি হননি।

ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ করে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, আপনাদের কাজ হলো সরকারের টাকায় কী করে সংবিধানবিরোধী কথা পড়ানো হচ্ছে তা সরকারের কাছে প্রশ্ন করা। টেন্ডারবাজি করা আর নেতাদের চামচামি করা আপনাদের কাজ না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দ্বিতীয় লড়াই বিএনপি জামায়াতসৃষ্ট মৌলবাদের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গীবাদের প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা ঘোষণা করেছেন। আর তার শিক্ষামন্ত্রী তারই টাকায় মৌলবাদ শিক্ষা দিচ্ছেন। একদিকে জামায়াত হেফাজতের তোষণ, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললে হবে না। এতে তরুণদের বিভ্রান্ত করা হবে। এ ধরনের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে যদি না দাঁড়াই, আমাদের কোন ভবিষ্যত নেই।

বিএনপি জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালী হতে হলে বিএনপি জামায়াতকে বর্জন করতে হবে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোন পার্থক্য নেই। এ দুটি দল থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিকে ভিত্তি করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দেখানো পথে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হবে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাগো, জাগাও, ঐক্যবদ্ধ হও, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ কর।’ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল খালেক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর সাইদুর রহমান খান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামন, রাজশাহী মুক্তিযেদ্ধা সংসদের মহানগর কমান্ডার ডাঃ আব্দুল মান্নান, মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারের সভাপতি তাজুল ইসলাম, রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মালেক প্রমুখ।